দক্ষিণ এশিয়ায় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে শক্তিশালী করুন ।। ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা-নেপাল-বাংলাদেশের চিন্তাবিদদের আহ্বান
এইদেশ ডেস্ক, রবিবার, অক্টোবর ০৬, ২০১৩


ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদমুক্ত দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, ধর্মীয় মৌলবাদী ও জঙ্গীবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ধর্মীয় জঙ্গীবাদকে মোকাবেলা করতে হবে। ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমাজই অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে দক্ষিণ এশিয়া ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক গণবক্তৃতা ও সম্মিলনে বক্তারা এ সব কথা বলেন। বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ার অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধের দাবি তোলেন। ‘ধর্ম ও রাজনীতি : দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক এ সম্মিলনের শনিবার ছিল শেষ দিন। সম্মিলনে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দক্ষিণ এশীয় বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সম্মিলনের শেষ দিনে চারটি অধিবেশন হয়।

সম্মিলনে ভারতের প্রখ্যাত অধ্যাপক রিয়াজ পাঞ্জাবী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মৌলবাদের বিকাশের কারণে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৌলবাদের চরম রূপ আমরা আফগানিস্তানে দেখেছি। আফগানের সেই মৌলবাদীরা ধীরে ধীরে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই মৌলবাদীদের কারা প্রশিক্ষণ দিয়েছে, সেটা সবার জানা। তাদের শুধু সামরিক প্রশিক্ষণই দেয়া হয়নি, একই সঙ্গে তাদের মনস্তাত্ত্বিক মৌলবাদী প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।
ভারতের পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত এ অধ্যাপক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মধ্যে মিল ও সাদৃশ্য রয়েছে। এ সাদৃশ্য এ অঞ্চলের বসবাসকারী জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আবেগ, মানসিক, সাংস্কৃতিক এমনকি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনকে দৃঢ় করতে সহায়তা করেছে। এ বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে হবে। তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদী ও ভক্তিবাদীদের একটি আধ্যাত্মিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এর ফলে বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসীদের আরও কাছাকাছি এনেছে।

কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রিয়াজ পাঞ্জাবী বলেন, এক সময় ভারত উপমহাদেশের মুসিলম জনগোষ্ঠী ‘খোদা’ বলে প্রার্থনা করতেন। তবে এখন বলা হচ্ছে ‘খোদা’ নয়, ‘আল্লাহ’ বলতে হবে। একই সঙ্গে এটা বলতে বাধ্যও করা হচ্ছে। সমাজে মৌলবাদের উত্থানের কারণেই এটা বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এখন সুফীবাদকেও অস্বীকার করা হচ্ছে। তবে বুঝতে হবে সুফীবাদের মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর পুত্র সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী বলেন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। কারণ তারা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছিল। যে দল একটি দেশ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে বিরোধিতা করেছে, সেই দল স্বাধীন দেশে কোন রাজনীতি করতে পারে না। তিনি বলেন, কোন জারজ সন্তান যেমন পিতার সম্পত্তির অধিকার পায় না, জামায়াতও বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার পাবে না, সেটাই স্বাভাবিক।

শ্রীলঙ্কার অধ্যাপক রোহান গুনারত্নে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবেই অসাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদবিরোধী। সে ঐতিহ্য ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। মৌলবাদী ও জঙ্গীবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী এখন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে কাউন্টার দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠী এখন কাজ করছে। এ সব গোষ্ঠী আর্থিক সহায়তা কোথা থেকে পায়, তা খতিয়ে দেখতে হবে। জঙ্গীদের আর্থিক সহায়তা বন্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভারতের অধ্যাপক মুশিরুল হাসান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ফোরাম রয়েছে। এ অঞ্চলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রীয় ইত্যাদি ফোরাম রয়েছে। এ সব ফোরাম থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা চর্চার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে যুব সমাজকে ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের বহুবাদী সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যে সমাজে নানা ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি থাকবে। তবে রাষ্ট্র এ সবের প্রতি পক্ষপাত করবে না।

ভারতের প্রখ্যাত রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য মনিশংকর আয়ার বলেন, প্রায় এক হাজার বছর আগে থেকে ভারতবর্ষে বিভিন্ন হিন্দু শাসকগোষ্ঠী শাসন করে। তারা রাষ্ট্র শাসন করলেও কখনই হিন্দু ধর্মকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেনি। শুধু হিন্দু কেন, সে সময় কোন শাসকগোষ্ঠীই ধর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করেননি। সেই ঐতিহ্য এখন পুনরুদ্ধার করতে হবে।
ভারতের সাবেক এ কূটনীতিক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জঙ্গীবাদ ও উগ্রগোষ্ঠীর উত্থান হচ্ছে। এ সবের মধ্যে ধর্মীয় গোষ্ঠী অন্যতম। তবে শুধু যে ধর্মীয় গোষ্ঠী রয়েছে তা নয়, আরও নানা ধরনের গোষ্ঠী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। উগ্রবাদ শুধু ধর্মের বিষয় নয়, কখনও কখনও এটা জাতিগতভাবেও দেখা যাচ্ছে। সে কারণে ভারতের নাগাল্যান্ডে, বোরোল্যান্ডে, তামিলনাড়ু, ছত্তীসগড় ইত্যাদি এলাকায় বিভিন্ন ফোরামে উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে। এ ছাড়া কখনও কখনও হিন্দু-মুসলিম, শিখ, শিয়া-সুন্নীদের বিভিন্ন গোষ্ঠী ইত্যাদি জাতিগত বিভেদ তৈরি করছে। এ সবের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মনিশংকর আয়ার বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতায় মাঝামাঝি থাকার কোন সুযোগ নেই। কখনও আমি ধর্মনিরপেক্ষ আবার কখনও আমি ধর্মনিরপেক্ষ নই, এটা হতে পারে না। সব সময়ই ধর্মনিরপেক্ষ থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমি মনেপ্রাণে একজন ধর্মনিরপেক্ষ মৌলবাদী। ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে আমাকে মৌলবাদী হতে আপত্তি নেই।
এক প্রশ্নের উত্তরে মনিশংকর আয়ার বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অনেক সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে অনেক সুবিধা দিতে চান। তবে সীমান্তবর্তী রাজ্য সরকার বাধা দেয়। তিস্তা চুক্তির বিষয়েও এমনটি হয়েছে। এমন ঘটনা ভারতের আরও বিভিন্ন রাজ্যেও ঘটেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, মানব সমাজে ধর্মের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই ধর্মকে কোনভাবেই বাদ দেয়া যাবে না। সমাজে ধর্মের খুব শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তাই ধর্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। ধর্ম যদি বিপথে পরিচালিত হয়, তাহলে বিপদ ডেকে আনবে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিক্ষক বলেন, রাজনীতি ও ধর্ম কখনও এক হতে পারে না। রাজনীতি থেকে ধর্মকে সব সময় আলাদা রাখতে হবে। ধর্ম আর রাজনীতিকে এক সঙ্গে করা হলে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হবে। ‘ধর্ম যার যার, তবে রাষ্ট্র সকলের’ এ নীতিতেই চলতে হবে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, বাহাত্তর সালের সংবিধানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের মূলনীতি হবে চারটি। বাঙালী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। তবে গণতন্ত্রের মধ্যেই এ সব নিহিত রয়েছে। গণতন্ত্র থাকলে অন্যকিছুর আর প্রয়োজন হয় না।
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষতার লড়াই চলছে। এ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ লড়াইয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সেøাগান তুলতে হবে, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার প্রতিরোধ কর, রাজনীতিতে ধর্ম নিষিদ্ধ কর, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমাজই অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়নের চাবিকাঠি ও মুক্তি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রে সিভিল সমাজের একাংশ যে রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ প্রতিরোধ করছে না, তা নয়। তবে ধর্মের আগ্রাসী ভূমিকায় অনেক ক্ষেত্রে তাদের পিছু হটতে হচ্ছে। সমঝোতা করতে হচ্ছে। এ সব দেশে দীর্ঘ সংগ্রামের কারণে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা এখন হুমকির পথে। দক্ষিণ এশিয়ার সিভিল সমাজের এখন দায়িত্ব রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার রোধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ সৃষ্টি করা।

অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, বাঙালী জাতি সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিল। এখনও সেই চেতনা লালন করে। এক সময় খান আব্দুল গাফ্ফার খান, মওলানা ভাসানী, হাজী দানেশ, মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ রাজনীতি করতেন। তাঁরা ধর্ম পালন করলেও মনেপ্রাণে ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। তবে বর্তমানে সেই জায়গায় এখন গোলাম আযম ও তেঁতুল হুজুররা এসে জুটেছে। সে কারণেই রাজনীতিতে অবক্ষয় ঘটছে। তিনি বলেন, জেনারেল জিয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এনেছিলেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সেøাগান এনে রাজনীতি চালিয়ে গেছেন। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, তিনি হাজার বছরের বাঙালী জাতীয়তাবাদের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করেছেন।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হচ্ছে প্রথম দেশ, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান গ্রহণ করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে ৯ মাস যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল, তার ভিত্তি ছিল ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালীত্বের চেতনা। ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করার জন্য বাহাত্তর সালের সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, যা সমাজতান্ত্রিক শিবিরের বাইরে কোন ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশে সম্ভব হয়নি। এ সংবিধান কার্যকর থাকলে বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্মের নামে রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচার ও জঙ্গী মৌলবাদের জেহাদী উন্মাদনা দেখতে হতো না।

লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, এক সময় যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা করা হয়েছিল, সেখানে এখন আবার মৌলবাদীদের উত্থান হচ্ছে। তুরস্ক ও মিসরের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেখানে কামাল আতাতুর্ক বা জামাল আব্দুল নাসেরের আদর্শ থেকে অনেকেই দূরে সরে গেছেন। তাই ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে কোন ধর্মের প্রতিই বিদ্বেষ নয়। তবে রাষ্ট্র আর ধর্ম থাকবে পৃথক পৃথকভাবে।

সম্মিলনের সমাপনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ধর্ম ও রাজনীতি প্রশ্নে এ সম্মিলনের দিকনির্দেশনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে আরও নতুন নতুন গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এ সব গবেষণার ক্ষেত্রে এ সম্মিলনে অতিথিদের বিভিন্ন বক্তব্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ধর্ম ও রাষ্ট্রকে পৃথক পৃথকভাবেই পরিচালিত করতে হবে, তা না হলে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

সম্মিলনের সমাপনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক গণবক্তৃতা ও সম্মিলন শুরু হয়। রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলছে। এ নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও নতুন কিছু নয়। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এ প্রবণতা মহামারী আকার ধারণ করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও এর বাইরে নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও রাজনীতিকরা এ সম্মেলনে মিলিত হন।
সম্মিলনের প্রথম দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পাকিস্তানের লাহোর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম বক্তব্য রাখেন। সম্মিলনে সারাদেশ থেকে প্রায় আড়াই শ’ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
সূত্রঃ জনকন্ঠ