যুদ্ধাপরাধী সাকা'র পরিবার রায় ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কী?
Fazlul Bari, বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৩, ২০১৩



ফজলুল বারী, অন্যতম সম্পাদক, এইদেশ নিউজ..যুদ্ধাপরাধী সাকা'র ফাঁসির রায় নিয়ে 'বিস্মিত বিএনপি'র বিক্ষোভ সমাবেশে নেতাদের বক্তৃতার ভাষা সব পড়লাম! অনেক গাইগুই করলেও রাজাকার চোখা মিয়ার ব্যাটা, ভারপ্র্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল সহ একজন নেতাও বলতে পারেননি যে সাকা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন বা তাদের নেতা জিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন! দূর্বৃত্ত চরিত্রের সাকার মুক্তিযুদ্ধকালীন নৃশংস এবং পরবর্তি নানা ভূমিকা এড়িয়ে সেই সভার বক্তৃতাতেও তার গর্দান বাঁচানোর বাহানা খোঁজা হয়েছে! কারন দেশের সাবেক নারী প্রধানমন্ত্র্রী খালেদা জিয়াকে কুকুরের লেজ নাড়ানোর সঙ্গে তুলনা করা এমন এক ঘৃণিত পাকিস্তানিকেই স্থায়ী কমিটির সদস্য বানিয়ে রেখেছে বিএনপি! তাদের এই নেতার বিরুদ্ধে জেলখানায় থাকা অবস্থায় বিশেষ একটি অভিযোগ উঠেছে! আর রায় ঘোষনার সময়েও বিচারকের বোনকে উল্লেখ করে নানা অশ্লীল কটু্ক্তি করছিলেন দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দূর্বৃত্ত সাকা! এমন এক চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, দূর্বৃত্তের পক্ষ যারা নেয়, তারা করবে যুদ্ধাপরাধীদের স্বচ্ছ-আন্তর্জাতিক মানের বিচার!
এখন সরকরি গোয়েন্দারা যদি দক্ষতার সঙ্গে তদন্তটি করেন, (এ ব্যাপারে দেশি-বিদেশি আইটি এক্সপার্টদের সাহায্য্ নেয়া যেতে পারে) তাহলে এই রায় ফাঁস রহস্য অবশ্য জাতি জানবে। অনেকের সন্দেহ সাকার পরিবারের কোন সদস্য মোটা টাকার বিনিময়ে এই ফাঁস চক্রান্তের আয়োজনে জড়িত থাকতে পারেন। কারন রায়ের দিন আদালতে কপি হাতে এসে তারা দাবি করছিলেন, এটি তারা দু'দিন আগে পেয়েছেন! কিন্তু তখনই তারা বিষয়টি কোন আইন কর্তৃপক্ষ বা মিডিয়াকে কেন জানাননি? বাংলাদেশে বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সহ নানাকিছু কিন্তু এভাবেই ফাঁস হয়! ফাঁসের বিষয়টি শনাক্ত হলে সে পরীক্ষা স্থগিত হয়। সাকার পরিবার যদি আগে রায় জেনে থাকে তাহলে তা গোপন রেখেছিল কোন স্বার্থে? যাই হোক এই তদন্তটি যাতে দ্রুত এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়। অযথা যাতে কাউকে হয়রানি করা না হয়। প্রকৃত দোষীরা যাতে ধরা পড়ে। স্বাভাবিক ধারনা করা যায়, যারা বিচার করছে তারা রায় ফাঁস করবেনা বা করতে পারেনা। আর এভাবে রায় ফাঁস করে লুকানো যাবেনা সাকার মতো খুনি চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের একাত্তরের অপরাধ।
এভাবে বিচারকে বিতর্কিত করার একটি অপচেষ্টার ঘটনার রেজাল্ট কিন্তু বাংলাদেশেও আছে। এরশাদ তার বিরুদ্ধে বিচারকে বিতর্কিত করতে বিচারককে ফোন করে সেই টেলিকথোপকথনের রেকর্ড তার তৎকালীন মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জুরের মাধ্যমে (আজকের বিএনপি জোট নেতা আন্দালিব রহমান পার্থ'র বাবা) বাজারে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন! এর মাশুলও গুনেছেন এরশাদ! পরবর্তিতে জনতা টাওয়ার মামলায় আদালতের কোন সহানুভূতি তিনি পাননি! এরশাদের আইনজীবী ব্যারিষ্টার রফিকুল হকও তার পক্ষ ছাড়েন! সর্বোচ্চ আদালতের সাজা ভোগ করে তিনি পাঁচ বছর কোন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি! সরকারি কোষাগারে জরিমানার প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নগদ জমা দিয়ে তাকে জামিনে জেল থেকে বেরুতে হয়েছে! এখন এই ষড়যন্ত্র্রকারীরাও কী সমান বুঝবেন! কারন এই ট্রাইবুন্যালের বিচারকরাও হাইকোর্টের বিচারসভার সদস্য।
সাকার রায় ফাঁস নাটক যুদ্ধাপরাধীদের চাঁদে পাঠানো সহ নানান নাটকেরই ধারাবাহিক রূপ! এই গেমটিরও এখানে সাঙ্গ হলো! কুচক্রীদের এখন নতুন কোন গেম-ষড়যন্ত্রের ছক খুঁজতে হবে। সতর্ক হবে ট্রাাইবুন্যাল। ট্রাইবুন্যালের নিরাপত্তা নিয়ে এই বিচার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অগ্রপথিক মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবির সহ অনেকে ধারাবাহিক বলে আসছিলেন। সরকারি অনেকে আমল-পাত্তা দেননি! রায় ফাঁসের পর শাহরিয়ার কবির বলেছেন ট্রাইবুন্যালেও জামায়াতের লোকজন আছে! এখন যদি দায়িত্বশীলদের হুঁশ হয়! ফাঁস নাটকের হোতাদের দ্রুত শনাক্ত করে জনগনের সামনে নিয়ে আসা হবে আশা করছি। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের হোতাদের বাঁচানোর ষড়যন্ত্র চলছে-চলবে। কিন্তু এসব যাতে বিচার বিঘ্নিত করার কোন উসিলা তৈরি করতে না পারে।
সিডনি, ৪ অক্টোবর ২০১৩