৪-৫ অক্টোবর ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন
এইদেশ ডেস্ক, বুধবার, অক্টোবর ০২, ২০১৩


দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বাড়ছে। প্রতিটি দেশেই নির্বাচনের আগে ধর্মের ব্যবহার তীব্র হয়ে উঠছে। ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমাজে বিভক্তি বাড়ছে। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পটভূমিকায় এসব বিষয়গুলো তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে আগামী ৪-৫ অক্টোবর ঢাকায় দুই দিনব্যাপী দক্ষিণ এশিয়ার ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ে আন্তর্র্জাতিক গণবক্তৃতা ও সম্মিলনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর উদ্যোগে এই সম্মিলন অনুষ্ঠিত হবে। গণবক্তৃতা ও সম্মিলন উপলক্ষে বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইতিহাস সম্মিলনীর আহ্বায়ক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। এতে উপস্থিত ছিলেন ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, জাতীয় সংসদ সদস্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, এই শতকের শুরুতে আমাদের দেশে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বহুলভাবে শুরু হয়। জঙ্গীবাদ ও উগ্র মৌলবাদের বিকাশ ঘটে। এসবের প্রশ্রয়দাতাও ছিল রাজনৈতিক সরকার। অসাম্প্রদায়িক ও ধর্ম নিরপেক্ষতার বিকল্প হিসেবে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করে তৎকালীন সরকার ও কিছু রাজনৈতিক দল। এটি সম্ভব হয় প্রায় তিন দশক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা করতে না দেয়া ও জানতে না দেয়ার কারণে। সে কারণে গণমুখী ইতিহাস চর্চার আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী যাত্রা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশীয় দেশের রাজনীতি সচেতন একাডেমীশিয়ান, লেখক ও এ্যাক্টিভিস্টদের নিয়ে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক গণবক্তৃতা ও সম্মিলনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই ধরনের আয়োজন এই প্রথম।
মুনতাসীর মামুন বলেন, সকল শ্রেণীতে ইতিহাসকে ইংরেজীর মতো আবশ্যক করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে দেশ দেশের ইতিহাস বেশি জানে বর্তমানে সে দেশ সভ্য বেশি।
ইতিহাস সম্মিলনীর আহ্বায়ক জানান, সম্মেলনে পেশাদার ঐতিহাসিক ছাড়াও অনেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কারণ আমরা মনে করি দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই অধিকার আছে ইতিহাসের ওপর। এটি বিজ্ঞানের মতো কোন বিষয় নয়। ইতিহাস হচ্ছে জ্ঞানের উৎস। এই সম্মেলন উপলক্ষে ইতিহাস সম্মিলনীর প্রথম কাউন্সিল সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে ইতিহাস সম্মিলনীকে একটি সাংগঠনিক ভিত্তি প্রদান করা হবে।
সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, রাজনীতিতে নির্বাচনের সময় ধর্মের ব্যবহার বেড়ে যায়। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক দলগুলোর ধর্মীয় অপপ্রচারের ফলে অসাম্প্রদায়িক দলগুলোও বিভ্রান্ত হয়ে যায় এবং তখন তারাও ভোটে জেতার জন্য নির্বাচনের সময় ধর্মকে টেনে আনে। তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় উৎসব পহেলা বৈশাখ, ২১ ফেব্রুয়ারি এবং বিজয় দিবসে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন কাজে ধর্মের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়।
শাহরিয়ার কবির বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা হুমকির মুখে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দক্ষিণ এশীয় বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন। ৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টায় সিরডাপ মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এতে অতিথি থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা থাকবেন দিল্লীর জামিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুশিরুল হাসান।
‘ধর্ম ও রাজনীতি : দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক এই দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক গণবক্তৃতা ও সম্মিলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও ভারতের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক অধ্যাপক মুশিরুল হাসান। অপরদিকে অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর ছেলে সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিকৃতি, দক্ষিণ এশিয়ায় মৌলবাদ প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হবে।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে মোট আটটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন চারটি ও দ্বিতীয় দিন চারটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান থাকবেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, রাশেদ খান মেনন, ভারতের অধ্যাপক মুশিরুল হাসান, পাকিস্তানের অধ্যাপক তারিক রহমান, বাংলাদেশের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম বক্তব্য রাখবেন।
প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভারতের সাঈদ নাকভী ও পাকিস্তানের মিজ তাহিরা আবদুল্লাহ বক্তব্য রাখবেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, শ্রীলঙ্কার আর্য বিদ্যাসেকারা ও নেপালের যুবনাথ লামসাল বক্তব্য রাখবেন। তৃতীয় অধিবেশনে অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক আবুল বারকাত ও পাকিস্তানের আহমেদ সেলিম বক্তব্য রাখবেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশনে বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, ভারতের রিয়াজ পাঞ্জাবী, পাকিস্তানের তারিক রহমান বক্তব্য রাখবেন। পঞ্চম অধিবেশনে হাসানুল হক ইনু, শ্রীলঙ্কার অধ্যাপক রোহান গুনারতেœ, বাংলাদেশের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বক্তব্য রাখবেন। ষষ্ঠ অধিবেশনে শাহরিয়ার কবির, ভারতের মনিশঙ্কর আয়ার এমপি, অধ্যাপক মুশিরুল হাসান বক্তব্য রাখবেন। সমাপনী অধিবেশনে পাকিস্তানের সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী, আসাদুজ্জামান নূর, সিরডাপের ড. সিসেপ ইফেন্দি, ভারতের সাঈদ নাকভী, নেপালের তাইবুল হাসান খান, যুবনাথ লামসাল, শ্রীলঙ্কার রোহান গুনারতেœ, বাংলাদেশের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বক্তব্য রাখবেন। সমাপনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্র্জাতিক গণবক্তৃতা ও সম্মিলন সফলের লক্ষে আয়োজক কমিটি কাজ করছে। এই কমিটিতে রয়েছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামার নূর, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম। উল্লেখ্য, দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা ও দেশ টেলিভিশন এই অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার।
সূত্রঃ জনকন্ঠ