রায় কার্যকরসহ জামায়াত নিষিদ্ধ হোক ।। গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে দাবি
এইদেশ ডেস্ক, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৩


যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি, কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরসহ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।

শুক্রবার বিকেলে যুদ্ধাপরাধের রায় দ্রুত কার্যকরসহ জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে গণ-সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, আদালত জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে রায় দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের ভোটাধিকার রহিত করে তাদের নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করেছে। তাদের নিষিদ্ধ করতে আর বাধা কোথায়?

ইমরান বলেন, সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে আমরা কোনো প্রশ্ন তুলতে চাই না। কারণ প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সংসদের প্রথম অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল বিল উত্থাপন করেছিলেন। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর করে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ হোক।

ইমরান বলেন, আগামী বিজয় দিবস ঐতিহাসিকভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। এ উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গৃহীত কর্মসূচি শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে। আগামী বিজয় দিবস হবে যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত-শিবির মুক্ত বাংলাদেশের সত্যিকারের বিজয় দিবস।

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা জনতার দাবি হিসেবে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, জামায়াতকে নির্বাহী আদেশেই নিষিদ্ধ করা যায়। এ জন্য আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যে সংগঠনটি রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ও সংবিধান লঙ্ঘনকারী, তাদের নিষিদ্ধ করার জন্য বিদ্যমান সন্ত্রাস নির্মূল আইনই
যথেষ্ট।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার ঘোষনা দেন, সেখানে কেন এতো দেরি হচ্ছে, সেটি বোধগম্য নয়। আমরা জানতে চাই, সরকারের ভেতরে আর কারা আছেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাধর?

সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে জনতা একদিন রাজপথে নেমে এসেছিল। দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিল এই শাহবাগে। এরই ফলশ্রুতিতে আইন সংশোধিত হয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুযোগ সৃষ্টি হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে চূড়ান্ত ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন, তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, আইনের কোনো ফাঁক ফোঁকর দিয়ে যেন দণ্ডিতরা বের হয়ে যেতে না পারে। যদি কেউ আইনের ফাঁক ফোঁকর গলে বের হয়ে যায়, জনগণ তাহলে ঘরে বসে থাকবে না। আগের চেয়েও বড় আন্দোলন গড়ে তুলবে।

বক্তারা বলেন, যে সংগঠন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দিয়ে দিন দুপুরে মানুষ খুন করে, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। তাদের অবিলম্বে নিষিদ্ধ করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।

গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক মারুফ রাসুলের সঞ্চালনায় গণ-সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, শিক্ষাবিদ শ্যামলি নাসরিন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা ইসমাত কবির গামা, মুক্তির উদ্যোগের সমন্বয়কারী সোহরাব উদদীন, গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম, সুফিবাদের নেতা শাহ আবদুল বাতেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, শ্রমিক নেতা মঈনুল আহসান জুয়েল, খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সাগর প্রমুখ।

এছাড়াও বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ সমাবেশে যোগ দেন।

বিকেল পাচটার দিকে সমাবেশ শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।

সূত্রঃ বাংলানিউজ২৪