জামায়াতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু
এইদেশ ডেস্ক, রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৩


একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের ৬ শীর্ষ নেতার বিচারে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেবার পর এবার জামায়াতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে তদন্ত সংস্থা। তদন্ত সংস্থার প্রধান এম এ হান্নান খান জনকণ্ঠকে বলেছেন, রবিবার থেকে আমরা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে একটি চৌকস দল তথ্য উপাত্ত সহকারে জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রসিকিউশনে জমা দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালের কয়েকটি রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তার রায়গুলোর পর্যবেক্ষণে বলেছে, আলবদর হলো জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র গ্রুপ। আলবদর গঠিত হয়েছিল ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীদের দ্বারা। জামায়াতে ইসলামী মিলিটারিদের কার্যক্রমে সাহায্য করার জন্য ২টি শাখা গঠন করে। সুতরাং ঐতিহাসিকভাবে বলা যেতে পারে, জামায়াতে ইসলামী কার্যকর ভূমিকা আলবদর, রাজাকার, আলশামস এবং শান্তি কমিটি গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেত্রীস্থানীয় পদ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের সরিয়ে দিতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত। গোলাম আযমের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের সদস্যদের ভূমিকা এবং এবং এর ৪২ বছর পরও তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি। এটি জাতির জন্য উদ্বেগজনক। ৩০ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতি এই দলের সদস্যদের মনোভাবের পরিবর্তনের প্রমাণ নেই। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর নুরজাহান বেগম মুক্তা বলেন, এই আলোকে জামায়াতকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করা যায়। পাশাপাশি জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটাও পজেটিভ একটি দিক।

উল্লেখ্য, এর আগে জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ বলেছেন, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ মামলা করার জন্য প্রস্তুত। তদন্ত শেষে সেপ্টেম্বরের দিকে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে। নুরেমবার্গ ট্রায়ালে অভিযুক্তদের পাশাপাশি ৬টি সংগঠনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে নুরেমবার্গ ট্রায়াল তিনটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে।

তদন্ত সংস্থার প্রধান এম এ হান্নান খান আরও বলেন, জামায়াত আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করে আলবদর সৃষ্টি করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। ব্যক্তিবিশেষ ছাড়াও সংগঠন হিসেবে তারা অপরাধ করেছে। যেমনটি হয়েছিল নুরেমবার্গ ট্রায়ালে। সেখানে অভিযুক্তদের পাশাপাশি সংগঠনকেও দোষী সাব্যস্ত করে নিষিদ্ধ করা হয়।
সূত্রঃ জনকন্ঠ