গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল, জামায়াত নিষিদ্ধেরও আর্জি
এইদেশ ডেস্ক, সোমবার, আগস্ট ১২, ২০১৩


মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এতে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করার আরজিও রয়েছে আপিলে।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করার পর ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের প্রধান সমন্বয়কারী ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

রাজনৈতিক দল হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন হাই কোর্ট বাতিল করে দেয়ার পর এবার একাত্তরের ভূমিকার জন্য দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে করা আপিলের সঙ্গেই জামায়াত নিষিদ্ধের এই আবেদন করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান জানান।

সোমবার আপিল জমা দেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “জামায়াত এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। জামায়াত যারা করে তারাও বলবে না যে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন।

“মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও গোলাম আযমের মামলায়ও এটা প্রমাণিত হয়েছে। যেহেতু ট্রাইব্যুনাল তাদেরকে ক্রিমিনাল সংগঠন হিসাবে উল্লেখ করে একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, তাই আমরা আবেদনে বলেছি, দলটিকে নিষিদ্ধ করা হোক।”

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে ‘পরিপূর্ণ ন্যায় বিচারের’ ক্ষমতা আপিল বিভাগের রয়েছে। সেই ক্ষমতার আলোকে আপিল বিভাগ জামায়াত নিষিদ্ধও করতে পারে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যু্দ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উস্কানি, হত্যাকাণ্ডে সায় ও সহযোগিতা দেওয়ার দায়ে জামায়াতে ইসলামীর তখনকার আমির গোলাম আযমকে গত ১৫ জুলাই ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতে ইসলামীকে ‘ক্রিমিনাল দল’ আখ্যায়িত করে বিচারক বলেন, দেশের কোনো সংস্থার শীর্ষ পদে স্বাধীনতাবিরোধীদের থাকা উচিত নয়।

ট্রাইব্যুনালের আগের রায়গুলোতেও জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দলটির সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়েগুলো উঠে আসে।

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন থেকেও ‘যুদ্ধাপরাধী’ দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি ইতোমধ্যে উঠেছে। আর গত ১ অগাস্ট হাই কোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে দেয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলোর নেতারা এবার জামায়াত নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরুর ওপর জোর দেন।

গোলাম আযমের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে গত ৫ অগাস্ট যে আপিল করা হয়েছে তাতে রায়ের জামায়াত সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণের ‘অ্যাক্সপাঞ্জ’ চাওয়া হয়েছে। তবে নিবন্ধন নিয়ে হাই কোর্টের রায় স্থগিতের জন্য জামায়াত আপিল বিভাগে যে আবেদন করেছিল, ইতোমধ্যে তা খারিজ করেছে চেম্বার আদালত।

নিবন্ধান বাতিল করে হাই কোর্টের রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গল ও বুধবার টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালও ডেকেছে জামায়াত।

অবশ্য হাই কোর্টের আদেশের অনুলিপি নিয়ে পূর্ণ আপিল করার সুযোগ রয়েছে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এই দলটির।

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪, প্রথম আলো