সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরো ৫ মামলার রায়, আপীল নিষ্পত্তি অক্টোবর নাগাদ ।। আশাবাদী প্রসিকিউশন
এইদেশ ডেস্ক, শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৩


একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৭টি মামলার মধ্যে ৫টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি হয়ে অক্টোবরের কয়েকটি মামলার রায় কার্যকর হবার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, যেভাবে দুটি ট্রাইব্যুনালে শুনানি এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আমরা আশা করছি সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, আব্দুল আলীম, আশরাফুজ্জামান খান, চৌধুরী মাঈনুদ্দীন ও মতিউর রহমান নিজামীর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরে রায় ঘোষণা হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আপীলে কাদের মোল্লার মামলার বিষয়টি দেরি হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা হবে না। একই সঙ্গে প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, কয়েকটি রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাসী সংগঠন এবং সব প্রতিষ্ঠান থেকে জামায়াতেদের সরিয়ে দেয়া উচিত এমন মতামতের পর জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্ততি নেয়া হচ্ছে। প্রসিকিউশন সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

ভারপ্রাপ্ত এ্যার্টনি জেনারেল এম কে রহমান জনকণ্ঠকে বলেছেন, এ পর্যন্ত ৬টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এখন যে মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে, তার মধ্যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আব্দুল আলীম, আশরাফুজ্জামান খান, চৌধুরী মাঈনুদ্দীন ও মতিউর রহমান নিজামীর মামলা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করছি আগস্টের মাঝামাঝি অথবা সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এই ৫টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে দুটি ট্রাইব্যুনালে যে সমস্ত আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো আপীল বিভাগে শুনানি শেষে অক্টোবরের রায় কার্যকর করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন আপীল বিভাগে কাদের মোল্লার মামলাটি শুনানির ক্ষেত্রে সময় নিচ্ছে। যেহেতু এই মামলাটিতে রায়ের পর সরকার পক্ষের আপিল করার বিধান করা হয়েছে। সে জন্য বেশ কয়েকজন এ্যামিকাস কিউরির মতামত নেয়া হচ্ছে। অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে তা হবে না।

৭ মাসে ৬টি রায় ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালে পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার সংখ্যা বাড়াতে এবং নিরপেক্ষ ও দ্রুত মামলার কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ২০১২ সালের ২২ মাসে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। দুটি ট্রাইব্যুনালে ১৭টি মামলা নিয়ে বিচার কাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দুটি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ৪টি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। ট্রাইব্যুনাল-২ প্রথম একটি রায় ঘোষণা করেন। ২১ জানুয়ারি বাচ্চু রাজাকার হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম আজাদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। যদিও তিনি পলাতক রয়েছে। একই ট্রাইব্যুনাল ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়। ৯ জুন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। ১৫ জুলাই গোলাম আযমের রায়ে ৯০ বছরের কারাদ- প্রদান করা হয়। এর দু’দিন পর ১৭ জুলাই আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়।

সিএভির কতদিন পর রায় ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ ১৭টি মামলার মধ্যে এ পর্যন্ত ৫টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখার পর ২৪ থেকে ২৭ দিনের মধ্যে এর রায়গুলো ঘোষণা করা হয়। শুধু মাত্র গোলাম আযমের বেলায় বেশি সময় লেগেছে। ১৭ এপ্রিল সিএভি রাখার পর ৯০ দিনের মাথায় আজ রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। প্রথম মামলায় বাচ্চু রাজাকারের রায় ঘোষণার জন্য ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর সিএভিতে রাখা হয়। আর ২৭ দিন পর ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয। দ্বিতীয় রায় ঘোষণা করা হয় কাদের মোল্লা মামলায়। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি সিএভিতে রাখা হয়। ২০ দিনের মাথায় ৫ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়। তৃতীয় মামলা ছিল মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর। এটি সিএভি রাখা হয় ২৯ জানুয়ারি। আর ৩১ দিনে মাথায় রায় ঘোষণা করা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। চতুর্থ মামলা ছিল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের। ১৬ এপ্রিল রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা হয়। ২৪ দিনের মাথায় ৫ মে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ১৭ এপ্রিল গোলাম আযমের মামলার রায় ঘোষণা করার জন্য সিএভিতে রাখা হয়। এর ৯০ দিন পর ১৫ জুলাই রায় ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে আলী আহসান মুজাহিদের মামলার ৫ জুন রায় ঘোষণার জন্য সিএভিতে রাখা হয়। সিএভি রাখার ৪৩ দিনের মাথায় ১৭ জুলাই রায় ঘোষণা করা হয়।

অন্যান্য মামলার অবস্থান ॥ ১৭টি মামলার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এখনও শুনানি চলছে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাশেম আলী, এটিএম ইউসুফ, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মোঃ মোবারক হোসেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুনানি চলছে, বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম, জাতীয় পাটির সৈয়দ মুহাম্মদ কায়সার, জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম ও জামায়াতের চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান। অন্যদিকে আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, এরা হলেন বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন, মাওলানা আব্দুস সেবাহান, জাতীয় পাটির ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার, রাজাকার সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, রুস্তম আলী, আমজাদ মিনা।

অক্টোবরে রায় কার্যকর ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা উচ্চ আদালতে শুনানির পর্যায়ে রযেছে। এ গুলো হলো, আব্দুর কাদের মোল্লা, দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদী, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ জানিয়েছেন, আশা করছি অক্টোবরের মধ্যে মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়ে রায় কার্যকর হবে। তিনি আরও বলেন আপীলে কাদের মোল্লার মামলাটি শুনানিতে বেশি সময় লাগছে। অন্য মামলার ক্ষেত্রে এত সময় লাগবে না। সে ক্ষেত্রে আমাদের ধারণা অক্টোবরের জাতি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্তদের সাজা কার্যকর করা হবে।

নির্বাহী আদেশেও করা যায় ॥ বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শম রেজাউল করিম জনকণ্ঠকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ্যাক্টে সংশোধনের ফলে সংগঠনের বিরুদ্ধেও বিচার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধানের ৩৭ ও ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে এবং ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে প্রদত্ত একাধিক রায়ের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাহী আদেশেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। উল্লিখিত অবস্থা এবং বাস্তবতা বিবেচনায় গ্রহণ করলে আইনানুগভাবেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে।

ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল ॥ ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে চারটি সংগঠনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তেমনি ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী মিলিটারিদের কার্যক্রমে সাহায্য করার জন্য ২টি শাখা গঠন করে। সুতরাং ঐতিহাসিকভাবে বলা যেতে পারে, জামায়াতে ইসলামী আলবদর, রাজাকার, আলশামস এবং শান্তিকমিটি গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বেসামরিক লোকজন এবং তাদের সম্পদ রক্ষা করার কোনক্রমেই কোন ভূমিকা রাখেনি। জামায়াতে ইসলামী ২টি প্যারমিলিটারি ইউনিট গঠন করে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার রাজাকার রিক্রুট করা হয়। জামায়াতে ইসলামী আলবদরের দ্বারা সংগঠিত হত্যা, নির্যাতনের দায় এড়াতে পারে না।

জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোতে রায় প্রদানের সময় ট্রাইব্যুনাল বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সেখানে জাামায়াতে ইসলামীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মতামত দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃস্থানীয় পদ থেকে জামায়াতের ইসলামীর সদস্যদের সরিয়ে দিতে সরকারের প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ জনকণ্ঠকে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের এ পর্যক্ষেণের পর জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা সবকিছু পর্যালোচনা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি। অতি অল্প সময়ের মধ্যে জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। বিচারাধীন মামলা প্রসঙ্গে তুরিন আফরোজ বলেন, সাকা ও আলীমের মামলা দুটি আগস্টের মধ্যেই শেষ হতে পারে। পাশাপাশি মতিউর রহমান নিজামীর মামলাটি সেপ্টেম্বর শেষে শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে। আর আশরাফুজ্জামান খান, চৌধুরী মাঈনুদ্দীন মামলাটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এটিও আগস্টের শেষে শেষ হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

আসামি পক্ষ সময় নিচ্ছে ॥ প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্ত আমরা দেখছি মাঝে মধ্যে অহেতুক আসামি পক্ষ সময় নিচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো, অহেতুক তারা সময়ক্ষেপণ করার জন্যই এই কৌশল অবলম্বন করছে। তিনি আরও বলেন, আসামি পক্ষের এই কৌশল অবলম্বন সত্ত্বেও আশা করছি আগস্টের মাঝামাঝি অথবা সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ৫টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা করা হবে।

আপীলে শুনানি ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দেন। পরে ৩ মার্চ কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে সুপ্রীমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপীল করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরদিন ট্রাইব্যুনালের দেয়া সাজা বাতিল চেয়ে কাদের মোল্লাকে খালাসের আরজি জানিয়ে আপীল করে আসামি পক্ষ। ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) বিল, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হয়। সংশোধিত আইনে রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আপিলের সমান সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে ৬০ দিনের মধ্যে আপীল নিষ্পত্তির বিধানও রাখা হয়। আইনে রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রীমকোর্ট আপীল বিভাগে আপীল করার বিধান রয়েছে। কিন্ত তা হচ্ছে না। আইনগত বিষয়ে মতামত নেয়ার জন্য দেরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে আইনগত বিষয় শোনার জন্য আপীল বিভাগ এ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করেন। তাদের মতামত শোনা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত এ্যার্টনি জেনারেল এম কে রহমান বলেছেন, এ্যামিকাস কিউরিদের মতামতের জন্য কাদের মোল্লার মামলাটি শুনানিতে দেরি হচ্ছে। আশা করছি, অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে তা হবে না।
সূত্রঃ জনকন্ঠ