জেগে ঘুমালে কাউকে জাগানো যায় না ।। প্রভাষ আমিন
এইদেশ সংগ্রহ, রবিবার, জুলাই ০৭, ২০১৩


ওবায়দুল কাদের খুব কর্মতৎপর মানুষ। ছাত্র রাজনীতি করেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন, রাজনীতি করছেন, মন্ত্রিত্ব করেছেন-করছেন। সবক্ষেত্রেই তিনি তৎপর, সরব। মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে তৎপর দেখা যায় তাকেই। তার বক্তৃতা শুনলে বোঝা যায় সাহিত্যের প্রতিও তার গভীর অনুরাগ রয়েছে, নিয়মিত পড়াশোনা করেন। নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ইদানিং রাজনীতিতে পড়াশোনা করা লোকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এদের মধ্যে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম তিনি। ইদানিং ফেসবুকেও সরব ওবায়দুল কাদের। আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই, জনাব ওবায়দুল কাদের এতকিছু করেন কখন। ওয়ান-ইলাভেনের সরকারের সময় কারাভোগ করেছেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও প্রথম দফায় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি তার। না হলে কী হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সত্য কথা বলেই যাচ্ছিলেন। তার কিছু কিছু যাচ্ছিল সরকারের বিরুদ্ধেও। শেষ বেলায় মন্ত্রীও হয়েছেন। নিন্দুকেরা বলছেন, মুখর ওবায়দুল কাদেরকে বশ করতেই তাকে মন্ত্রিসভায় নেয়া হয়েছে। তবে পুরোপুরি বশ করা যায়নি। মন্ত্রণালয় সামলানোর পাশাপাশি সত্য বলতে দ্বিধা করেন না। তার সব বক্তব্য, সব কাজের সঙ্গে আমি একমত নই। কিন্তু তার এই তৎপরতা, সত্য বলার চেষ্টা ভালোই লাগে। শেষ বেলার মন্ত্রী বলেই কিনা, অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিতে রীতিমত দৌঁড়ে চলেন তিনি। প্রায়শই সারপ্রাইজ ভিজিটে যান এখানে সেখানে।

হাতেনাতে ধরে ফেলেন দুর্নীতিবাজদের। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নেন। একবার একজনকে চড় মেরে সমালোচিতও হয়েছেন। গত ১৫ জুন দেশের চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর গণনা শুরু হয়। শুরু থেকেই পিছিয়ে বর্তমান চার মেয়র, এদের সবাই সরকারি দলের সমর্থনপুষ্ট। সরকারি দলের ০-৪ গোলে হোয়াইটওয়াশ হয়ে যাওয়ার খবর নিশ্চিত হয় মধ্যরাতে। কিন্তু সন্ধ্যাতেই পরিণতি টের পেয়ে গিয়েছিলেন ঝানু পলিটিশিয়ান ওবায়দুল কাদের। সন্ধ্যায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ‘ওয়েক আপ কল ফর রুলিং পার্টি। স্ট্যাটাসটি দেখার পর থেকেই আমার মনে হচ্ছিল ‘ওয়েক আপ কল’ কেন? সরকারি দল কি ঘুমিয়ে আছে? এই প্রশ্নই লেখার জন্য উস্কাচ্ছিল। কিন্তু কিছুটা ব্যস্ততা, কিছুটা শারীরিক অসুস্থতা মিলে বসা হয়নি। এর মধ্যে চার সিটি করপোরেশনের ফলাফল নিয়ে লেখালেখি, আলোাচনা, টক শো, বক্তৃতাবাজি কম হয়নি। সবাই যার যার মত করে বলেছেন। তার অনেককিছুর সঙ্গে আমি একমত, অনেক বক্তব্যে রয়েছে প্রবল আপত্তি। তাই নিজের কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করতেই বিলম্বিত এ চেষ্টা।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি খুব সুবিধানজনক অবস্থায় ছিল। জিতলেও লাভ, হারলেও লাভ। জেতার লাভটা দেখাই যাচ্ছে। চার সিটি করপোরেশনের মেয়র তো পাওয়া গেলই। পাশাপাশি বলা যাচ্ছে, এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ রায় দিয়ে দিয়েছে। হারলে লাভ হতো আরো বেশি। নির্বাচন সুষ্ঠু হোক আর না হোক, বিএনপির আন্দোলন চাঙা হতো। হেরে গেলে বিএনপি বলতে পারতো, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই। বিএনপি যাতে এ কথা বলতে না পারে, তাই আওয়ামী লীগ হয়তো হারতেই চেয়েছে। তবে চাইলেই তো আর ইচ্ছা করে হারা যায় না। নির্বাচন দেখে আমার মনে হয়েছে, সরকার এ নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আওয়ামী লীগ হয়তো হারতে চেয়েছে। তবে এমন গো হার চায়নি নিশ্চয়ই। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৫ মাস আগে চার সিটি করপোরেশনে এমন বিপর্যয় সরকারি দলের জন্য এসেছে বড় ধাক্কা হয়ে। নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সরকারি দলের নেতারা বলছেন, এটি নিছক স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ১২ লাখ ভোটারের নির্বাচনের ফলাফল ৯ কোটি ভোটারের জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু যারা এটা বলছেন, তারাও জানেন, এ নিছক নিজেকে সান্ত্বনা দেয়া। গত জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে জিতেছিলেন এবার হেরে যাওয়া এই চারজনই। নিশ্চয়ই তার প্রভাব পড়েছিল জাতীয় নির্বাচনে। আমি বলছি না যে ইতিহাসের হুবহু পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তবে ভোটের প্যাটার্ন বলছে, ইতিহাস যাই বলুক, এই মুহুর্তে আওয়ামী লীগ একটু ব্যাকফুটেই আছে। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ কর্মীদের মনোবলে দারুণ ধাক্কা দিয়েছে। আর উল্টো ঘটনা বিএনপি শিবিরে, তারা রীতিমত উড়ে বেরাচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দুয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তারা ক্ষমতায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মনোবলে এই দুই মেরুর প্রতিক্রিয়াই আবার সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিতে পারে। বিএনপির নেতাকর্মীদের উচ্চ মনোবলকে আমার কাছে আত্মবিশ্বাস নয়, আত্মতুষ্টি মনে হয়েছে, যা তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। আবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি তাৎক্ষণিক মন খারাপ ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে, এই পরাজয় তাদের জন্য শাপেবর হতে পারে। কোনটা হবে সেটা বলে দেবে সময়, আর তা নির্ধারণ করবেন দুই দলের নেতাকর্মীরাই।

সাড়ে চারবছর দেশ চালানোর পর চার সিটিতে আওয়ামী লীগের এমন ভরাডুবি কেন হলো? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে জেনে নেয়া ভালো শুধু এই চার সিটিতে নয়, সাম্প্রতিক অতীতে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রামেও। চার সিটির পর আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত কালীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীর অর্ধেক ভোট পেয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে জোয়ার বইছে, তাতে গাজীপুরেও ব্যতিক্রম কিছু হবে বলে মনে হয় না। আওয়ামী লীগ নেতারা খুব গর্বের সঙ্গে বলেন, তাদের আমলে ছোট বড় মিলিয়ে যত নির্বাচন হয়েছে, যার প্রতিটি সুষ্ঠুভাবেই হয়েছে। এটা অবশ্যই গর্বের, কিন্তু পরিসংখ্যান নিলে দেখা যাবে এই নির্বাচনের বেশিরভাগেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী হেরেছেন। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের গর্বের চেয়ে পরাজয়ের শঙ্কাটাই বেশি। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে না। আবার কেউ কেউ বলছেন, যে চার সিটিতে আওয়ামী লীগ হেরেছে, তার অন্তত দুটি ঐতিহ্যগতভাবেই বিএনপি অধ্যূষিত। তাই এ ফলাফলকে অত গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই। বুঝতে অসুবিধা হয় না, এসবই নিজেদের সাহস দেয়ার কথা। এই যুক্তি ধোপে টেকে না, বাকি দুটি সিটি করপোরেশন এবং কালীগঞ্জে শোচনীয় পরাজয়ে। তার মানে কি কালীগঞ্জও এখন বিএনপি অধ্যূষিত? স্থানীয় আর জাতীয় নির্বাচনের যুক্তিটা যারা দেন, তারাও বোঝেন, ব্যাপারটা অত সরল নয়। এই যুক্তিটা যে কত অসার তা বুঝতে একটু সাধারন মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন। চার সিটির নির্বাচনের ফলাফল সাধারণ মানুষের মনেও দারুণ প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় নির্বাচন না হলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের সমর্থন পেতে অনেক দৌঁড়ঝাঁপ করেন। কিন্তু আমি নিশ্চিত চার সিটির পরাজিত প্রার্থীরা এখন আফসোস করছেন, ইশ, আমদের যদি আওয়ামী লীগ সমর্থন না দিতো। তাহলে হয়তো আমরা জিতেও যেতে পারতাম। চারটির মধ্যে অন্তত তিনটির মেয়র গত সাড়ে ৪ বছরে প্রচুর উন্নয়ন কাজ করেছেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এরচেয়ে বেশি কাজ করা সম্ভব নয়। তারপরও তারা হারলেন কেন? বাস্তবতা হলো তাদের সব উন্নয়নকাজ চাপা পড়ে গেছে সরকারের সাড়ে চার বছরের ব্যর্থতায়। তাহলে কি চার বছরে আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার পাল্লাই ভারি? আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলা যায়ঃ শেয়ারবাজারে ধ্বস, পদ্মা সেতু দুর্নীতি, হলমার্ক দুর্নীতি, ডেসটিনির উত্থান, ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, মন্ত্রীদের অতিকথন, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে বাড়াবাড়ি, টেন্ডারবাজি...।

তবে সবগুলো সমস্যাই সমাধানযোগ্য ছিল। কিন্তু সমস্যা যতটা না বড়, মন্ত্রীরা উল্টাপাল্টা কথা বলে তাকে আরো অনেক বড় করে ফেলেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার যতটা খারাপ, সাধারণে ধারণা তারচেয়ে অনেক বেশি। আওয়ামী লীগের আগের আমলেও শেয়ারবাজারে ধ্বস নেমেছিল। এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে আওয়ামী লীগ সরকারের কপালে ‘পুজিবাজারবান্ধব নয়’ এই কলঙ্ক তিলক আঁকা হয়ে যায়। কিন্তু এই দুর্নাম ঘোচানোর চেয়ে আরো পোক্ত করেছে মন্ত্রীদের লাগামহীন বক্তব্যে। প্রয়োজন ছিল সহানুভূতি, কিন্তু অর্থমন্ত্রী কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়েছেন। বলেছেন, এটা ফাটকাবাজার। অঙ্ক করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, বিও একাউন্ট ৩৩ লাখ থাকলেও প্রকৃত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা অনেক কম। অর্থমন্ত্রী বলতে চাচ্ছেন, শেয়ারবাজারে অনেক বড় ধ্বস নামলেও ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যূব্জ অর্থমন্ত্রী বুঝতে পারেননি, সংখ্যাটা বড় নয়। ২০ লাখ বা ৩০ লাখ মানুষের যতটা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়েছে তারচেয়ে অনেক বেশি। যারা কোনোদিন শেয়ারবাজারে এক টাকাও বিনিয়োগ করেনি, তারাও কিন্তু অর্থমন্ত্রীর অমানবিকতায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আর শেয়ারবাজারে ধ্বসের জন্য দায়ী কারো বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। তাই শেয়ারবাজারের জন্য অনেককিছু করার চেষ্টা থাকলেও স্রেফ অমানবিক মনোভাবের জন্য এই দায় সরকারকে বহন করতেই হবে। পদ্মার উথাল পাথাল ঢেউয়ে প্রায় ডুবতে বসেছে আওয়ামী লীগের নৌকা। অথচ এই নৌকাই তরতর করে কুলে ভিড়তে পারতো, খালি সৈয়দ আবুল হোসেনকে বলি দিলেই। আমরা জানি বড় কোনো প্রকল্পের জন্য বলি দিতে হয়। আবুল হোসেন দুর্নীতি করেছেন কি করেননি, সে বিবেচনা আদালতের। কিন্তু দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে একজন আবুল হোসেনকে বলি দেয়াই যেতো। পদ্মা সেতু হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে। কিন্তু সরকারের অদক্ষতা আর দুর্নীতির কারণে সেতুটি না হলে কিন্তু ক্ষুব্ধ হবেন খাগড়াছড়ির মানুষও। আসলে সুশাসনের অভাবটাই ছিল বড় সমস্যা। ছাত্রলীগকে মোটেই সামলাতে পারেনি সরকার। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির মত ফৌজদারি অপরাধ করলেও কমিটি ভেঙ্গে দেয়া বা বহিস্কারের মত লোক দেখানো পদক্ষেপেই সীমাবদ্ধ ছিল সব তৎপরতা। শেষ সময়ে চট্টগ্রামে যুবলীগ-ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যেমন শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা যদি শুরুতে নেয়া হতো, তাহলে ছাত্রলীগ অমন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হতে পারতো না।

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে বাড়াবাড়ি করেও সরকার দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ৬০ বছর পেড়িয়ে যাওয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে দিয়েই থেমে যেতে পারতো সরকার। কিন্তু সবাই মিলে যেভাবে দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেললেন তাতে লাভটা কী হলো। নিন্দুকেরা বলেন, ইউনুসকে ঘাটানোর কারণেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নিয়ে এত শক্ত অবস্থান নিয়েছে। জিএসপি স্থগিত করার কারণও নাকি যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু ইউনুসের সঙ্গে এই ধারাবাহিক বিমাতাসূলভ আচরণ। সরকারের অবস্থান যতই আইনী হোক, দেখেশুনে মনে হয় কোথায় যেন একটা ব্যক্তিগত বিদ্বেষ লুকিয়ে আছে। এটাই সবার ভালো লাগেনি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে রেলওয়ের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করার পরও এক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস কেলেঙ্কারীতে সব ম্লান হয়ে গেছে। অথচ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় করে দিলেই পুরো বিষয়টি সরকারের পক্ষে আসতে পারতো। অথচ তিনি পদত্যাগ করার পরও তাকে দপ্তারবিহীন মন্ত্রী করে রাখা হয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ দেয়া যাবে, যেটা সরকার চাইলে নিজেদের পক্ষে আনতে পারতো। কিন্তু স্রেফ গোয়ার্তুমির কারণে সেটাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাড়াচ্ছে এখন।

জন্মের পর থেকে হেফাজতে ইসলাম বারবার বলার চেষ্টা করেছে, তাদের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই। শুধু ইসলাম রক্ষার জন্যই মাঠে নেমেছে তারা। তবে তাদের মঞ্চে বিএনপি আর জাতীয় পার্টি নেতাদের উপস্থিতি সে দাবির অসারতা প্রমাণ করেছে অনেক আগেই। তবে তারা নগ্নভাবে মাঠে নামলেন চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের কোরান ছুঁইয়ে শপথ করিয়েছেন বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে। গত ফেব্র“য়ারি মাসে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের প্রতিবাদে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠার কাউন্টার হিসাবে আমার দেশ আর মাহমুদুর রহমানের প্রচেষ্টায় উদ্ভব ঘটে হেফাজতে ইসলামের। একটা সময় তো মনে হচ্ছিল দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি নয়, গণজাগরণ মঞ্চ আর হেফাজতে ইসলাম। শাহবাগে তরুণরা মাঠে নেমেছিল মূলত সরকারের সন্দেহজনক আচরণের কারণে, ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। সরকারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ কাজে লাগানোর সুযোগ ছিল প্রধান বিরোধী দল বিএনপির। কিন্তু জামায়াতের প্রতি অতি পিরিতি দেখাতে গিয়ে বিশাল তরুণ প্রজন্মকে দূরে ঠেলে দিল তারা। আর এই সুযোগে নিজেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে নিজেদের পকেটে পুরে নিলো আওয়ামী লীগ। চার সিটি নির্বাচনের পর যেমন এখন মনে হচ্ছে বিএনপির ক্ষমতায় আসাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তেমনি গণজাগরণ মঞ্চ শুরুর পর মনে হচ্ছিল আওয়ামী লীগের আবার ক্ষমতায় আসাটা শুধু নির্বাচন হওয়ার অপেক্ষা। কিন্তু যে দারুণ আবেগ নিয়ে ৫ ফেব্র“য়ারি গণজাগরণ মঞ্চের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা যদি ১৫ বা নিদেনপক্ষে ২১ ফেব্র“য়ারি শেষ হয়ে যেতো, তাহলে সেই আবেগটাই থাকতো। কিন্তু লেবু বেশি চিপলে যেমন তিতা হয়ে যায়; তেমনি দিনের পর দিন শাহবাগে পরে থেকে, দাবির ডালপালা বিস্তার করে, নানা বিতর্ক জড়িয়ে- সেই আবেগটাই নষ্ট করে দিলেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকরা। এক্ষেত্রে সরকারি দলকে আমার লোভী মনে হয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের কাঁধে চেপে তারা ঝেরে ফেলতে চাইলো চারবছরের সব ব্যর্থতা। আওয়ামী লীগের অবস্থা হয়েছিল শেয়ারবাজারের ব্যবসায়ীর মত। শেয়ার ব্যবসায়ী যেমন দাম আরেকটু বাড়লে বিক্রি করবো, এমন করতে করতে এক সকালে দেখেন ধ্বস নেমে লাভ তো দূরের কথা পূঁজিই শেষ। আওয়ামী লীগও ভেবেছে শাহবাগে যত লোক আসছে, সবাই তো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক, তার মানে সবাই তো আমাদের ভোটার। কিন্তু যেদিন শাহবাগ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা এলো, সেদিনই আওয়ামী লীগের সভায় তীব্র ক্ষোভ ঝরলো, এত সাহস তারা পায় কোত্থেকে?

আওয়ামী লীগের যারা গণজাগরণ মঞ্চকে সমর্থন দিতেন, তারাও তখন এর বিরোধিতা করতে লাগলেন। শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গণজাগরণের পর বিএনপি-জামায়াত কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল। এমনকি এক পর্যায়ে কিছু শর্তসাপেক্ষে বিএনপি গণজাগরণকে স্বাগত জানাতেও বাধ্য হয়। কিন্তু হেফাজতে ইসলামের কাঁধে চড়ে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে বিএনপি-জামায়াত। প্রথম সুযোগেই বেগম খালেদা খালেদা জিয়া শাহবাগের তরুণদের নষ্ট আর নাস্তিক বলে অপমান করলেন। সরকারি দলও একই দিনে মতিঝিল থেকে হেফাজতে ইসলামকে আর শাহবাগ থেকে গণজাগরণ মঞ্চ তুলে দিয়ে দুই পক্ষকে মাপলো একই পাল্লায়। অথচ এখানেও স্কোর করার সুযোগ ছিল সরকারি দলের। দুই দফায় ঢাকায় আসার সুযোগ দিয়ে সরকারই হেফাজতকে শক্তি বানিয়েছে। অথচ ৫ মে গভীর রাতে তাদের বিদায় করতে যতটা শক্তি গ্রয়োগ করতে হয়েছে, তারচেয়ে অনেক অনেক কম শক্তি ক্ষয়ে তাদেরকে চট্টগ্রামেই আটকে রাখা সম্ভব ছিল। সরকারি দলেরই কেউ কেউ তাদের পেলেপুষে বড় করেছেন। আজ সেই হেফাজতের ফাঁদেই পড়েছে সরকারি দল। বেশি প্যাচাতে গিয়েই ধরা খেয়েছে আওয়ামী লীগ।
বোতল থেকে দৈত্যকে বের করা সহজ, কিন্তু তাকে আবার বোতলে বন্দী করা প্রায় অসম্ভব। এখন অনেক চেষ্টা করেও হেফাজতের মন পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। অন্তত বিএনপির চেয়ে অনেক বেশি ধার্মিক হওয়ার পরও আওয়ামী লীগকে ‘নাস্তিক সরকার’ খেতাব নিয়ে ধর্মান্ধ মোল্লাদের অপপ্রচারের শিকার হতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু তিনি নিজে একজন রাজাকারকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে আর আজ বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে জোট বেধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মাঠটি আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দিয়েছে। সেই ফাঁকা মাঠে গোল দিতে গিয়েও আওয়ামী লীগের বারবার ভুল হয়ে যায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসে বিচার শুরু করলেও একটি রায়ও এখনও কার্যকর করতে পারেনি সরকার। ট্রাইব্যুনাল যে কটি রায় দিয়েছে সবকটি আটকে আছে সুপ্রিম কোর্টে। সরকারের শেষ সময়ে যেখানে দ্রুত রায় কার্যকরের চেষ্টা করার কথা, সেখানে গতি হয়েছে উল্টো। লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধী কার্ড নিয়েই যাবে। এবার সুযোগ চাইবে, রায় কার্যকরের। কিন্তু বারবার একই কার্ডে খেলায় নাও জেতা যেতে পারে, সে বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। আর আওয়ামী লীগের এই কৌশলটা কিন্তু তরুণ প্রজন্ম বুঝে গেছে সেই ৫ ফেব্র“য়ারিতেই। কোনো বিকল্প না থাকায় মুক্তিযুদ্ধের ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বিপাকে পড়েন। আওয়ামী লীগের নানা আচরণে ক্ষুব্ধ মানুষও ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভাবেন, আওয়ামী লীগকে ভোট না দিলে তো ভোটটি আসলে জামায়াতের বাক্সে পড়বে। তখন তারা দ্বিধায় পড়ে যান। এ বিষয়টি জানা আছে আওয়ামী লীগেরও। তাই দলটি মানুষের আবেগ নিয়ে রীতিমত ব্ল্যাকমেইল করে। অবশ্য এ ব্যাপারে আহমদ ছফার একটি বিখ্যাত বাণী আছে ‘আওয়ামী লীগ জিতলে একাই জেতে, আর হারলে গোটা বাংলাদেশ হারে’।

ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে আওয়ামী লীগ দারুণ কোনঠাসা অবস্থায় পড়ে গেছে স্রেফ নিজেদের গোয়ার্তুমির কারণে। ক্ষমতার লোভে এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করলেও ক্ষমতায় আসার পর এক ভাইকে মন্ত্রী বানানো ছাড়া আর কিছুই দেয়নি আওয়ামী লীগ। অথচ নানাকিছু দেয়ার অঙ্গীকারের কথা শুনেছি আমরা। অনেকদিন ধরে এরশাদের কণ্ঠে না পাওয়ার হাহাকার। আগামীতে একা নির্বাচন করার কথা বলছেন অনেকদিন ধরেই। হেফাজতে ইসলামকে পানি খাইয়ে আর প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে এরশাদ তার অবস্থান বদলের ইঙ্গিতও দেন। কিন্তু তাও আমলে নেয়নি সরকারি দল। এরশাদ পাশে থাকলে চার সিটিতে এমন ভরাডুবি নাও ঘটতে পারতো। গাজীপুরে জাতীয় পার্টি বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতারা ছুটে গেছেন এরশাদের কাছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এরশাদের। কিন্তু সম্ভবত অনেক দেরি হয়ে গেছে। গাজীপুর তো বটেই, আগামী নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিও যদি আওয়ামী লীগৈর সঙ্গে না থাকে, তাহলে শুধু পরাজয় নয়, বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে দলটির জন্য। গাজীপুরে শুধু জাতীয় পার্টি নয়, নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে সামলাতেও আওয়ামী লীগ অনেক দেরি করে ফেলেছে। অনেক নাটকের পর জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামলেন বটে, তবে তা কতটা কাজে দেবে তা নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেকেরই সন্দেহ আছে। ব্যালট পেপারে কিন্তু জাহাঙ্গীরের নাম ও প্রতীক থাকছেই। বিচ্ছিন্নতা এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে আওয়ামী লীগকে যে তাদের সবকিছুতেই খালি দেরি হয়ে যায়।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মূল প্রতিপক্ষ বিএনপি, জামায়াত বা হেফাজত নয়; মূল প্রতিপক্ষ হবে আওয়ামী লীগ নিজেই। চার সিটি করপোরেশনে পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ দলীয় অন্তর্দন্দ্ব। বরিশালের পরাজিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরণ তো প্রকাশ্যে তার পরাজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে দায়ী করেছেন। সারাদেশেই আওয়ামী লীগের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা প্রতিশোধ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ যে আসন থেকে ৭ বার সাংসদ হয়েছেন, সে আসনে তার ছেলেকে দলের এক পুঁচকে নেতার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক আসনের কথা জানি, যেখানকার আওয়ামী লীগের বঞ্চিত কর্মীরা অপেক্ষা করছেন, আওয়ামী লীগ ২৯৯ আসনে জিতুক, কিন্তু আমার আসনে জিততে দেবো না। সব বঞ্চিতরা যদি এমন প্রতিজ্ঞা করে বসেন, তাহলে পুকুর দুধের হবে না, পানিতেই ভরে যাবে।
অথচ বাস্তবতা হলো এই দফায় আওয়ামী লীগ অনেক ভালো দেশ চালিয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সবগুলো সূচকই ছিল ইতিবাচক। বিনিয়োগ বেড়েছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে, দারিদ্র কমেছে, মানুষের আয় বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই অর্জিত হয়েছে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল স্থিতিশীল। বিদেশে যাওয়ার খরচ কমে গেছে নাটকীয়ভাবে।

কৃষিখাতে রীতিমত নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ছিল। আর যাই হোক মানুষের পাতে খাবার ছিল। মঙ্গা শব্দটিই ডিকশনারিতে ঠাঁই পাওয়ার অবস্থা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের অর্জনও ছিল অসাধারণ। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে বই পৌছে গেছে। এটা একসময় ছিল অকল্পনীয়। একটু খরুচে হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশ এখন অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বের কাছে উদাহরণ। বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়ন মাপার জন্য যা যা দরকার, তার সবই ছিল ইতিবাচক। তারপরও স্রেফ গোয়ার্তুমি, ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে না পারা, মন্ত্রী-সাংসদদের জনবিচ্ছিন্নতা-কর্মীবিচ্ছিন্নতার কারণে সব অর্জন হারিয়ে যেতে পারে চোরাবালিতে। চার সিটি নির্বাচনের পর ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, তাদের উচিত হবে ভুল স্বীকার করা, ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া এবং ভুল সংশোধন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকারই করেনি, ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া বা সংশোধন করা তো অনেক পরের কথা। নইলে যেখানে নিজেদের অর্জনের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলার কথা, সেখানে সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে খালেদা জিয়ার জন্ম ইতিহাস বলতে হবে কেন। সংসদে বিএনপির মহিলা সাংসদদের অশ্লীল শব্দ চয়ন নিয়ে যখন সবাই সমালোচনামুখর, তখন আওয়ামী লীগের সাংসদরা মাঠে নামলেন তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায়। তুমি অধম হইলে আমি আরো অধম হইবো, এই যেন প্রতিজ্ঞা।

আওয়ামী লীগ আমলে সব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর আমি বরাবরই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিপক্ষে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মানেই রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা তাতে নির্বাচনে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। অসংখ্য মিডিয়ার সদা সজাগ দৃষ্টির সামনে কিছু করা প্রায় অসম্ভব। তাই শেখ হাসিনার সরকার প্রধান থাকলেও আগ্রামী নির্বাচনে বিএনপির ভালো করার সুযোগ রয়েছে। আসলে এখানে বিএনপির কোনো কৃতিত্ব নেই। বরং দিনের পর দিন সংসদ বর্জন আর অপ্রয়োজনীয় হরতাল করে বিএনপি অনেক নিন্দা কুড়িয়েছে। তারপরও তাদের ভালো করার সম্ভাবনার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সাকিব আল হাসানের এক নাম্বার হওয়ার মত অঙ্কের হিসাব। সাকিব না খেলেও মোহাম্মদ হাফিজ খারাপ করায় নিজে এক নাম্বার হয়ে গেছেন। তেমনি বিএনপির না খেলেও এক নাম্বার হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু যতই সুযোগ থাকুক বিএনপি আওয়ামী লীগের কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামে না হোক কোনো একটা নিরপেক্ষ সরকারের তত্ত্ব বের করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের দায়িত্বই বেশি। বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকায় তাদের পক্ষে যত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করা সম্ভব, আওয়ামী লীগের পক্ষে তা সম্ভব নয়। তাই আলোচনার উদ্যোগ আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।

চার সিটি নির্বাচনের ‘ওয়েক আপ কল’এর পর আওয়ামী লীগ জেগে উঠবে, তাদের সাড়ে চার বছরের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা শুধরে আবার জনগণের কাছে ফিরে যাবে, এমনটাই আশা করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু লক্ষণ তা মনে হচ্ছে না। জেগে ঘুমালে কোনো ‘ওয়েক আপ কল’ দিয়েই তাকে জাগানো সম্ভব নয়।

পরিবর্তন ডটকমেও প্রকাশিত।

প্রভাষ আমিন, এডিটর, নিউজ এন্ড কারেন্ট এফেয়ার্স, এটিএন নিউজ
২৭ জুন, ২০১৩
probhash2000@gmail.com