ময়মনসিংহে নাগরিক সমাবেশ ।। বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও
এইদেশ ডেস্ক, শনিবার, জুন ০৮, ২০১৩


তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার নেত্রী এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাধীনতাবিরোধীদের রুখে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ৪২ বছর পর আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানবিক মর্যাদার দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আজ রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। এই শক্তি দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে, দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করছে। এদের বিরুদ্বে বাংলাদেশকে রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটসহ সবই করেছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। এদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

শনিবার সকালে স্থানীয় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও, ময়মনসিংহের উদ্যোগে এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও, ময়মনসিংহের আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, সাবেক চিকিৎসক নেতা ডা. সারওয়ার আলী, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ। সমাবেশের শুরুতে ময়মনসিংহের নাগরিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ আইনজীবী আনিসুর রহমান খান। সভা পরিচলানা করেন এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানকে রক্ষা করতে হলে এখন সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সাংস্কৃতিক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, সংস্কৃতিকর্মীরা সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছেন। এ ভূমিকা প্রভাবিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

সাবেক চিকিৎসক নেতা ডা. সারওয়ার আলী বলেন, বর্তমানে দেশ গভীর সঙ্কটে, আতঙ্কে আছে সংখ্যালঘু পরিবার। আতঙ্ককারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। হেফাজতকে লালন করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়া যাবে না। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আলোকে এ দেশ পরিচালিত হবে। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম এ চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। আর বিএনপি হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন করেছে। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন করে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন হিসেবে দাবি করা যায় না।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বর্তমান সরকার নির্বচানী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছে। তিনি এ সরকারের মেয়াদেই যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াওয়ের জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন শিক্ষক নেতা অধ্যাপক শফিকুল হায়দার মুকুল।

জনকন্ঠে প্রকাশিত।