জিএসপি সুবিধা রক্ষায় শেষ পর্যন্ত উতরে যাচ্ছে বাংলাদেশ
কাউসার মুমিন, নিউইয়র্ক, রবিবার, জুন ০২, ২০১৩


যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা জিএসপি রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত হালে পানি পাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের নেয়া অতিসামপ্রতিক বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতিবাচকভাবে দেখতে শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশ বিষয়ক নীতিনির্ধারণী কয়েকটি সূত্র, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়, জিএসপি সাবকমিটির চেয়ারম্যান অফিস, জিএসপি বাতিলের দাবি জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিকট মূল আবেদনকারী সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠনগুলোর বৃহত্তম জোট এএফএল-সিআইও এবং বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার তদারকে নিয়োজিত ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়ামের মতো স্বাধীন শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি বাংলাদেশকে প্রদত্ত জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার তাগিদ থেকে খোদ মার্কিন কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নিতে বাধ্য করার জন্য বাইপার্টিজান উদ্যোগ নিয়েছে।

এছাড়া সমপ্রতি বাংলাদেশ সফরকালে পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শেরম্যান বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিকারক আন্তর্জাতিক ক্রেতা কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে ছেড়ে যাওয়াই সমাধান নয়।’ উপরন্তু গতকাল প্রকাশিত মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের গ্লোবাল অ্যান্টিটেরোরিজম রিপোর্ট-২০১২ এর বাংলাদেশ অধ্যায়ে সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। বিশেষ করে নারীর অথনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বর্তমান সরকার উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদীদের রাজনৈতিক মতবাদের বিরুদ্ধে নারীদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ভুমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। আবার বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি ও পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিপূর্বে উদ্বেগ প্রকাশকারী মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের কেউ কেউ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা বিধানে আমদানিকারক মার্কিন ক্রেতা কোম্পানিগুলোর সামপ্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেক মনোযোগী এবং এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে প্রদত্ত জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রশাসনের একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এদিকে আগামী ৩ বা ৪ঠা জুনের মধ্যে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর জিএসপি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে জানিয়ে দেবে বলে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরটি তথ্যভিত্তিক নয় বলে জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর। গতকাল এ প্রতিনিধির এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা বিষয়টি খেয়াল করেছি তবে তা সঠিক নয়। এ বিষয়ে জিএসপি বিষয়ক সাব-কমিটির চেয়ারম্যান কার্যালয় থেকে এ প্রতিনিধিকে বলা হয়, বিগত ২৮শে মার্চ বাংলাদেশ বিষয়ক শুনানির পর জিএসপি সাবকমিটি এ বিষয়ে এখনও কোন বৈঠক করেনি। আগামী ৪ঠা জুন জিএসপি সাবকমিটিতে মিয়ানমার ও লাওস-এর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কমিটি সবগুলো দেশের জিএসপি বিষয়ক শুনানিতে পক্ষে বিপক্ষে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা আশা করছি জুন মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ বাংলাদেশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। এ অবস্থায় ৩০শে জুন একটি আনুমানিক তারিখ বলে ধার্য করা আছে।

গত ১৭ আগস্ট ওয়াশিংটন পোস্ট প্রকাশিত ‘ইউএস মে স্ট্রিপ বাংলাদেশ অব ট্যারিফ ব্রেকস’ শীর্ষক রিপোর্টে সামপ্রতিক সময়ে পোশাকশিল্প খাতে ভয়াবহ কয়েকটি দুর্ঘটনার জের ধরে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ওবামা প্রশাসন শুল্কমুক্ত সুবিধা কমাতে পারে বলে যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে তা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের মুখপাত্র কেইট ভিলারিয়েল। তিনি বলেন, রিপোর্টটি আদ্যোপান্ত আমরা পড়েছি, তা পুরোটা বস্তুনিষ্ঠ নয়। ‘তবে কি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বহাল থাকছে?’ -এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে কেইট বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনাধীন। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি একা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে নয়।্থ উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন পোস্টের ওই রিপোর্টে বলা হয়, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় বাংলাদশ থেকে পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধার তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার ব্যাপারে অগ্রসর হচ্ছে। এ ব্যাপারে এক মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানায় ওই কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা এ ব্যাপারে আর অগ্রসর হবো না। এবার আমাদের নাটকীয় কিছু একটা করতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বহাল রাখা নিয়ে খোদ জিএসপি সাব-কমিটির সদস্যদের মধ্যে দু’ধরনের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। কোন কোন সদস্য মনে করেন বাংলাদেশকে অনেক সময় দেয়া হয়েছে, বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় এবং পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা বিধানে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। তাই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বাংলাদেশকে বাধ্য করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে। অন্য সদস্যরা জিএসপি সুবিধা বাতিলের ফলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন। এর ফলে নারী উন্নয়নে ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের সামপ্রতিক সাফল্য বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন তারা। কিন্তু জিএসপির শর্ত পূরণে ইতিপূর্বের শুনানিগুলোতে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণে বাংলাদেশের ব্যর্থতা বিষয়ে জিএসপি সাব-কমিটির সকলেই একমত বলে জানা গেছে। তবে এ অঞ্চলের বর্তমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়া যায় সে বিষয় এখনও আলোচনা চলছে। এমনকি পররাষ্ট্র দপ্তর ও মার্কিন লেবার ডিপার্টমেন্টের মধ্যেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র রাষ্ট্র। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শতকরা ৬ ভাগ অব্যাহত আছে এবং নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। এ অবস্থায় জিএসপি সুবিধা বাতিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল বার্তা পাঠাবে। এছাড়া বর্তমান অবস্থায় জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে নিলে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগের সুযোগ হারাবে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু লেবার ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা মনে করেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে দুর্ঘটনা এবং অগ্নিকাণ্ডে শ’ শ’ প্রাণহানি হওয়ার পরও বর্তমান মার্কিন প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং, চাপ প্রয়োগের সুযোগ থাকলেও তা কোন ফল দেয়নি।

বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের এডভোকেসি গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল লেবার রাইটস ফোরামের পলিসি ও লিগ্যাল এফেয়ার্স বিষয়ক পরিচালক ব্রায়ান ক্যাম্পবেলের এ প্রতিনিধিকে বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নজিরবিহীন দুর্ঘটনার ফলে এতগুলো শ্রমিকের মৃত্যুর পরও শ্রমিকের নিরাপত্তা বিধানে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাধ্য করতে না পেরে মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে ভুলবার্তা দিয়েছে। কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার এখন সময় এসেছে। আমেরিকার বিখ্যাত শ্রমিক অধিকার সংস্থা ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক স্কট নোভা এ প্রতিনিধির সঙ্গে টেলিফোন আলোচনায় মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ও পোশাক কারখানার ভবনগুলোর নিরাপত্তা বিধানে বিভিন্ন মার্কিন পোশাক ক্রেতা কোম্পানির চুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা তাদের সাধ্যমতো ব্যবস্থা নিলেও বাংলাদেশ সরকার বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে বাস্তব অর্থে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে আমরা জানি না।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠনগুলোর বৃহত্তম জোট এএফএল-সিআইও এর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর পরিচালক ক্যাথি ফাইনগোল্ড বলেন, বাংলাদেশ যদি শ্রমিক অধিকার রক্ষায় এবং শিল্পকারখানার নিরাপত্তা বিধানে তার নিজস্ব আইনগুলো উন্নত করে এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে তবেই সত্যিকার পরিবর্তন সম্ভব।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন, আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার এসোসিয়েশনের পাশাপাশি গ্যাপ, জেসি পেনি, সিয়ার্স, টার্গেট ও অন্যান্য খুচরা বিক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক কারখানার অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম দিকে নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলোর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের এ প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ডেমোক্রেটিক সিনেটর জর্জ জে. মিশেল ও রিপাবলিকান অলিম্পিয়া জে স্নোয়ে। কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে ওয়াল-মার্ট, গ্যাপ ও অন্যান্য খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা গত বুধবার নিউ ইয়র্কে একটি বৈঠক করেন। এ বিষয়ে ওয়াল-মার্টের মুখপাত্র কেভিন গার্ডনার বলেন, পোশাক কর্মীদের জীবনমানের উন্নয়নে অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কিছু করা দরকার। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গতকাল বার্তা দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের ডেমোক্রেট দলীয় কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। এর আগে এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নিতে তিনি মার্কিন পোশাক ক্রেতা কোম্পানি গ্যাপ, ওয়াল-মার্ট ও আমেরিকান এপারেল এসোসিয়েশনকে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু এই উদ্যোগকে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত ও আইনি বাধ্যবাধকতাহীন বলে উল্লেখ করে এর কড়া সমালোচনা করেছেন এএফএল-সিআইও-এর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ট্রামকা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাইপার্টজানের নামে শ্রমিকদের নিরাপত্তাকে নিলামে তোলা হচ্ছে। পৃথিবীর বিখ্যাত অন্যান্য ৪০টি পোশাক ক্রেতা কোম্পানির মতো বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তায় একটি ‘কমিপ্রহেনসিভ অ্যান্ড লিগ্যালি বাইন্ডিং’ চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি ওয়াল-মার্ট ও গ্যাপকে আহ্বান জানান। এর আগে গত ৮ই মে এক লিখিত বার্তায় তিনি বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করার জন্য ওবামা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

এএফএল-সিআইও-এর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশন পলিসি বিশেষজ্ঞ সিলেস্ট ড্রেক গতকাল দুপুরে এই প্রতিনিধিকে জানান, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের নিরাপত্তা বিধানে এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত সর্বশেষ পদক্ষেপসমূহ নিয়ে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস গতকাল সকালে তার অফিসে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে এসে সরকারের নেয়া কর্মপরিকল্পনাগুলো বেশ আশাব্যঞ্জক। আমরা এখন এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যাবলি নিয়ে ঢাকায় আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করবো এবং বাস্তব অর্থে মাঠ পর্যায়ে এসব কর্মপরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে তা যাচাই বাছাই করে দেখবো। উল্লেখ্য, সিলেস্ট ড্রেক গত মার্চে বাংলাদেশের জিএসপি বিষয়ক মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের শুনানিতে এএফএলসিএই ও এর পক্ষে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের যুক্তি তর্ক তুলে ধরেন। গতকালের আলোচনায় বাংলাদেশের জিএসপির বিরোধিতায় সিলেস্ট ড্রেককে কিছুটা নমনীয় মনে হয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরজমিন পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে সমপ্রতি বাংলাদেশ সফরকারী মার্কিন কংগ্রেসের ক্যালিফোর্নিয়া কংগ্রেসম্যান জর্জ মিলার গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশকে কয়েক মাস সময় দেয়া উচিত। এর মধ্যে শ্রমিক অধিকার ও ফ্যাক্টরির নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অর্জনে ব্যর্থ হলে, প্রেসিডেন্টের উচিত অবশ্য জিএসপি সুবিধা বাতিল করে দেয়া। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে মার্কিন প্রশাসনের চাপ প্রয়োগের এখনই সময় এবং তা করতে হবে এখনই। মার্কিন কংগ্রেসের এডুকেশন, লেবার অ্যান্ড ওয়ার্কফোর্স বিষয়ক হাউস কমিটির সদস্য জর্জ মিলার আরও বলেন, বাংলাদেশ নীতিমালা না মানলে জিএসপি বাতিল ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। তিনি বলেন, জিএসপি ইস্যুতে ওবামা প্রশাসনের বাংলাদেশ বিষয়ক পর্যালোচনার ফলাফলের জন্য আমি অপেক্ষা করছি। এর পরপরই এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা বিবেচনা করবো।

এদিকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে শ্রমিক অধিকার ও শিল্পকারখানাগুলোর নিরাপত্তা বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটিতে আগামী ৬ই জুন এক শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি সিনেটর মেন্দেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এই শুনানিতে বক্তব্য রাখবেন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক। ধারণা করা হচ্ছে ইতিপূর্বে জিএসপি বিষয়ক শুনানিগুলোতে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারকে আরও ব্যাপক চাপ প্রদানে ওবামা প্রশাসনকে বাধ্য করাই এই শুনানির লক্ষ্য। এর মাধ্যমে একদিকে বাংলাদেশ সরকারকে আরও বেশি চাপ প্রয়োগের জন্য ওবামা প্রশাসনকে পরামর্শ দেয়া হবে অন্যদিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকার ও কংগ্রেস যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা এড়াতেও চেষ্টা করবে মার্কিন সিনেট।

উল্লেখ্য, গত মাসে প্রেরিত এক চিঠিতে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজিনা কংগ্রেসকে জানান, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক জরুরি।

মানবজমিনেও প্রকাশিত।