পনেরো সম্পাদকের ক্ষুব্ধতার শানে নজুল ।। শাহরিয়ার কবির
এইদেশ সংগ্রহ, বুধবার, মে ২৯, ২০১৩


উচ্চতর আদালতের ভাষায় ‘বাইচান্স’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতার, তার মালিকানাধীন পত্রিকা ‘দৈনিক আমার দেশ’ এবং ‘দিগন্ত টেলিভিশন’ ও ‘ইসলামী টেলিভিশন’-এর প্রচার বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকসমূহের পনেরো সম্পাদক যে বিবৃতি দিয়েছেন তার পক্ষে ও বিপক্ষে সংবাদপত্রের ‘উপসম্পাদকীয়’র পাতায় এবং টেলিভিশনের ‘টক শো’-তে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। টেলিভিশনের মধ্যরাতের ‘টক শো’-এ টকারদের সামনে চায়ের পেয়ালা থাকে। পনেরো সম্পাদকের যুক্ত বিবৃতি আক্ষরিক অর্থেই চায়ের পেয়ালায় ঝড় তুলেছে। মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক-যুদ্ধাপরাধী জামায়াত ঘরানার কাগজে যেমন পনেরো সম্পাদককে জাতীয় বীরের মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হচ্ছে তেমনি জামায়াতবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের পত্রিকায় তাদের তুলোধুনো করা হচ্ছে। বিবৃতিদাতা সম্পাদকদের ভেতর আমার শ্রদ্ধাভাজন, প্রিয়ভাজন ও স্নেহভাজন কয়েকজন থাকলেও তাদের বিবৃতি আমাকে যারপরনাই হতাশ করেছে।

এই বিবৃতি যেদিন (১৯.০৫.২০১৩) ছাপা হয় সেদিন মুনতাসীর মামুন, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতা ডা. কামরুল হাসান, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও আমি খুলনার জনসভা শেষে একসঙ্গে ঢাকা ফিরছিলাম। মামুনের অভ্যাস, সকালে গাড়িতে দীর্ঘযাত্রায় বেরুলে একগাদা দৈনিক কিনতে হবে। সাতসকালে খুলনায় যে ক’টি দৈনিক পাওয়া গেছে সব ক’টি সংগ্রহ করে গাড়ি ছেড়েছে যশোরের পথে। মামুন বিস্ময়সূচক মন্তব্য করে পনেরো সম্পাদকের বিবৃতির প্রতি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করল। বলা বাহুল্য, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্মিত হয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের সম্পাদকদের অভাবনীয় সহাবস্থানে এবং পরে ক্ষুব্ধ হয়েছি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত মাহমুদুর রহমানের মতো একজন দুর্বৃত্ত মালিক-সম্পাদকের পক্ষাবলম্বনের কারণে।

মামুন আর বাচ্চুর সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের বয়স পঁয়তাল্লিশ বছরের কম নয়। বিবৃতিদাতা সম্পাদকদের ভেতর সংবাদের মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মামুনের সম্পর্ক বেশি ঘনিষ্ঠ, আর ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেশি বাচ্চুর। ক্ষুব্ধ মামুন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাল- বাচ্চু, এখনই তুই এর প্রতিবাদ করে বিবৃতির ব্যবস্থা কর। আমি মনিরুজ্জামানকে ফোন করছি, তুই তোর জানিদোস্ত মাহফুজ আনামকে ফোন কর। এরপর মামুন আমাকে বলল, তুমি কাকে কাকে ফোন করবে এখনই করে ফেল।
সেদিন আমি ফোন করেছিলাম সে সব সম্পাদককে যারা বিবৃতিতে সই করেননি। তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হলাম উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ‘প্রথম আলো’ ভবন থেকে। সাংবাদিকদের, বিশেষভাবে সম্পাদকদের আমরা সম্ভ্রমের সঙ্গে জাতির বিবেক বলি। আমার পঁয়তাল্লিশ বছরের সাংবাদিকতার জীবনের সিংহভাগ সময় কাজ করেছি সম্পাদকীয় বিভাগে, যদিও হাতেখড়ি হয়েছিল প্রতিবেদক হিসেবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদার জন্য আন্দোলন করেছি। বঙ্গবন্ধুর আমলে দৈনিক বাংলার প্রধান সম্পাদক ও সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে হাসান হাফিজুর রহমান ও তোয়াব খানকে যখন অপসারণ করা হয় তখনও এর প্রতিবাদে রাস্তায় মিছিল করেছি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মানবাধিকার রক্ষার সংগ্রামে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের অতুলনীয় অবস্থানের কথা বহু আন্তর্জাতিক ফোরামে বলেছি। ‘পেশাগত দায়িত্ব’ ও ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’র প্রতারক যুক্তি ও জরাজীর্ণ অজুহাত প্রদর্শন করে বাংলাদেশের প্রথিতযশা সম্পাদকরা যেভাবে মাহমুদুর রহমানের কদর্য মিথ্যাচার, তথ্যসন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, ফ্যাসিবাদী আচরণ, সংবিধানবিরোধী অবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী কর্মকা-ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তাতে সাংবাদিক পরিচয় দিতে আমার মতো যারা আত্মশ্লাঘা বোধ করেন তাদের সকল অহঙ্কার ধুলোয় মিশে গেছে। কারণ বিবৃতিদাতাদের তালিকায় অপসাংবাদিকতার ধ্বজাধারীদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পতাকাবাহীরা একই বন্ধনীতে আবদ্ধ হয়েছেন। জামায়াত পরিবারের বিশাল অর্থভান্ডার এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের প্রেমবন্ধনে আবদ্ধ হলেন বাংলাদেশের আলোকিত তারকা সম্পাদকরা।

জামায়াতের আদর্শিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এবং তাদের সহিংস শক্তির আন্তর্জাতিক উৎস সম্পর্কে মওলানা আবদুল আউয়াল, অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও অধ্যাপক আবুল বারকাতের মতো প্রথিতযশা ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষকদের পাশাপাশি আমার মতো অভাজনরা প্রায় পাঁচ দশক ধরে লেখালেখি করছি। অনেক সময় আমাদের বন্ধুরাও এই বলে সমালোচনা করেছেনÑআমরা নাকি জামায়াতের শক্তি বাড়িয়ে বলছি, আসলে জামায়াত এত শক্তিশালী নয়। একুশ বছর আগে আমরা যখন শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ’৭১-এর ঘাতক দালাল ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াতে ইসলামীর মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে দেশব্যাপী বিশাল নাগরিক আন্দোলনের সূচনা করেছিলাম তখনও কেউ কেউ বলেছিলেন; জামায়াত কত পার্সেন্ট ভোট পায়, তাদের নিয়ে এত হইচই করবার কি আছে? কোন কোন বাম বন্ধু এমনও বলেছিলেন, আমরা নন-ইস্যুকে ইস্যু করছি। আমি প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে অনেক লিখেছি। এখন দেখছি জামায়াত আমার ঘরের ভেতর ঢুকে গেছে। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার পক্ষ-বিপক্ষের ভয়ঙ্কর সহবাস আমার বিশ্বাসের ভিত্তিমূল দুর্বল করে দিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের পর পর দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রায় যখন সাংবাদিকতা দ্বিতীয় পর্বে প্রবেশ করি তখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে দেশে ও বিদেশে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক যেমন অনুসরণ করেছি তেমনি এ নিয়ে লেখালেখিও কম করিনি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কখনও সাংবাদিককের স্বাধীনতা ছিল না। এই স্বাধীনতা একান্তভাবে মালিকের স্বাধীনতা, পুঁজির স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের কর্মীদের শোষণের স্বাধীনতা। তারপরও পাকিস্তান আমলে সংবাদপত্রের জগতে এমন সব সম্পাদক দেখেছি যারা পত্রিকার মালিকদের সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করতেন সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবশনের জন্য। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে আমরা যখন সাংবাদিকদের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন করি তখন আমাদের একটি দাবি ছিল সম্পাদকরা মালিকের নয়, সাংবাদিক-কর্মচারীদের প্রতিনিধি হবেন, তাদেরও ইউনিয়নের সদস্য হতে হবে। সেই সময়ে মালিকদের সম্পাদক হওয়ার প্রথা ছিল না। পেশার প্রতি দায়বদ্ধ, প্রবীণ ও দক্ষ সাংবাদিকদের ভেতর থেকে মালিকরা সম্পাদক নিয়োগ করতেন, যেমনটি করা হতো প্রতিবেশী ভারতে বা পশ্চিমের গণতান্ত্রিক দেশসমূহে।

স্বাধীনতা যে স্বেচ্ছাচারিতা নয়, দায়বদ্ধতা; এই আপ্তবাক্যটি তোয়াব ভাইয়ের মতো সম্পাদকরা নবীন সাংবাদিকদের মাথায় গজাল মেরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাই জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের জানতে হয়েছে। ছুরি কসাইয়ের হাতে যেমন থাকে, শল্যচিকিৎসকের হাতেও থাকে। শেষোক্তের ছুরি ব্যবহৃত হয় মানবদেহের রোগ নিরাময়ের জন্য। কলম যে কারও হাতে থাকতে পারে। সাংবাদিক কলম ধরেন সমাজদেহের রোগ নিরাময়ের জন্য, মানবজাতির কল্যাণের জন্য, সত্য ও সুন্দরের সাধনার জন্য। অনেক ব্যক্তিগত অপছন্দের বিষয় মেনে নিতে হয়েছে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে।

একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মুহূর্তে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর যাবতীয় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যাযজ্ঞে এদেশীয় যারা শরিক ছিল, যারা তখন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত ছিল; যারা ‘রাজাকার’, ‘আলবদর’, ‘আলশামস’, ‘মুজাহিদ বাহিনী’, ‘শান্তি কমিটি’ প্রভৃতি ঘাতক বাহিনী গঠন করেছে এর রাজনৈতিক দর্শন রয়েছে। না, সেই দর্শন ইসলাম নয়, ইসলামের নামে মওদুদীবাদ ও ওহাবিবাদ; যারা মনে করে ধর্মের নামে প্রতিপক্ষকে হত্যা বা ধ্বংস করা অবশ্যকর্তব্য। হিটলার ও মুসোলিনির নাৎসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদী । এই ভক্তির চূড়ান্ত অভিব্যক্তি মূর্ত হয়েছে মওদুদীর সেই বহুল আলোচিত উক্তিতে ‘ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ ও কমিউনিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ (ইসলাম কা নজরিয়ায়ে সিয়াসি, প্রকাশক: জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিভাগ, লাহোর, ১৯৫২, পৃঃ-৩৫)

’৭১-এর যুদ্ধাপরাধদের বিচারের জন্যই বাংলাদেশের মানুষ ২০০৮-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসনে জয়ী করেছিল। মহাজোট ক্ষমতায় এসে যখনই এই বিচার শুরু করেছে তখন থেকে জামায়াত এবং তাদের দেশী-বিদেশী সহযোগী-সুহৃদরা এটি বানচালের জন্য বহুমাত্রিক চক্রান্ত শুরু করেছে। শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে জামায়াত বহু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও পেশাজীবী সংগঠন, সাংবাদিক, পেশাদার লবিস্ট ও রাজনীতিবিদকে ভাড়া করেছে। নাৎসি নেতা হিটলারের কুখ্যাত মন্ত্রী গোয়েবলসের তত্ত্ব অনুযায়ী বার বার একই মিথ্যা প্রচার করে মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তরিত করতে চাইছে জামায়াত। জামায়াতের এই কদর্য মিথ্যাচার মাহমুদুর রহমান তার মালিকানাধীন পত্রিকা এবং জামায়াত-বিএনপির মালিকানাধীন অন্যান্য পত্রিকা কিভাবে প্রচার করেছে সে সম্পর্কে দেশবাসীকে এবং বিশ্ববাসীকেও সম্প্রতি অবহিত করেছে মাহমুদুর রহমানের পক্ষে বিবৃতিদাতা ১৫ সম্পাদকের অন্যতম মাহফুজ আনামের ‘ডেইলি স্টার’। জামায়াতের দুষ্কর্ম সম্পর্কে বহু বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘ডেইলি স্টার’, ‘প্রথম আলো’, ‘কালের কণ্ঠ’, ‘সমকাল’, ‘যুগান্তর’ ও ‘সংবাদ’-এ ছাপা হয়েছে যা অনেক সময় আমাদের বিভিন্ন লেখায় উদ্ধৃত করেছি।

দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মতো একজন গণহত্যাকারীকে ‘ইসলামী চিন্তাবিদ’, ‘আল্লামা’ ‘ওলামা’ প্রভৃতি বিশেষণে আখ্যায়িত করে মাহমুদুর রহমান গত ৬ জানুয়ারি ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর অনলাইন সংস্করণে মক্কায় কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তনের ছবিকে সাঈদীর মুক্তির দাবিতে কাবা শরিফের ইমামদের প্রতিবাদ হিসেবে ছেপে মিথ্যাচারের যে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার উদ্দেশ্য হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামের সমার্থক হিসেবে মহিমান্বিত করা, ’৭১-এর গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাওয়া এবং গণহত্যাকারীদের বিচার প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করা।


শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের জন্ম হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের চরম শাস্তি এবং তাদের প্রধান রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধকরণের দাবিতে। যেহেতু একনিষ্ঠ জামায়াত কর্মীর মতো মাহমুদুর রহমানও মনে করেন জামায়াতের বিরোধিতার অর্থ হচ্ছে ইসলামবিরোধিতা- অতএব গণজাগরণ মঞ্চ হচ্ছে নাস্তিক, মুরতাদ, কাফের, ইসলামের দুষমন, নষ্টদের বেলেল্লাপনার জায়গা। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে দিনের পর পর দিন হাজার হাজার মানুষের চলমান মহাসমাবেশের কর্মসূচী যখন বিশ্বগণমাধ্যমে আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে তখন মাহমুদুর রহমান ও জামায়াত-বিএনপির পত্রিকাগুলো এর প্রতি কুৎসিৎ ভাষায় বিষোদগার অব্যাহত রেখেছে। জামায়াত-বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় হাটহাজারী মাদ্রাসার হেফাজতে ইসলামের মতো একটি কাগুজে সংগঠনের দানবীয় উত্থানের প্রধান স্থপতি ‘উত্তরা ষড়যন্ত্র’সহ বহু ষড়যন্ত্রের নায়ক মাহমুদুর রহমান। বিএনপি-জামায়াতের সব ক’টি পত্রিকায় হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীর বিশাল খোলা চিঠি ছাপা হয়েছে অর্ধপৃষ্ঠা জুড়ে, যেখানে জাগরণ মঞ্চের প্রতি বিষোদগারের পাশাপাশি একে সমর্থনের জন্য বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, অধ্যাপক অজয় রায় ও মোহাম্মদ জাফর ইকবাল ও আমাকে ‘নাস্তিক’, ‘মুশরিক’, ‘মুরতাদ’ ‘কাফের’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যার সরল অর্থ হচ্ছে এরা হত্যার যোগ্য, বা এদের হত্যা করতে হবে। জাফর ইকবাল শুধু গণজাগরণ মঞ্চের সমর্থক নয়, ‘প্রথম আলোর’ও একজন নিয়মিত লেখক।

গত ৫ মে ঢাকা অবরোধের নামে জামায়াত-বিএনপির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম মহাজোট সরকারকে উৎখাত করে মুনতাসীর মামুনের ভাষায় ‘হেজাবি’ (হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি) সরকার গঠনের মহাষড়যন্ত্র করেছিল। এর আগের দিন ৪ মে বেগম খালেদা জিয়া একই জায়গায় আয়োজিত বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে মহাজোট সরকারকে আটচল্লিশ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, তাদের দাবি না মানলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। পরদিন শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশ থেকে হেফাজতের নেতারা একই ভাষায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে বলেছেন, তিনিও নাকি পরদিন পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। সেদিন ঢাকার প্রাণকেন্দ্র যখন দাউ দাউ করে জ্বলছিল, হেজাবিদের নজিরবিহীন তা-বে সারা দেশ যখন স্তম্ভিত, বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতাকর্মী ও ঢাকাবাসীকে বললেন হেফাজতিদের পাশে দাঁড়াবার জন্য। মাহমুদুর রহমানকে হেফাজত-জামায়াত সম্পৃক্তি অথবা ৫ মে’র মহাষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্তির জন্য কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না আমি জানি না, কিন্তু আমার মতো মামুলি কলাম লেখক মাহমুদুর রহমানের দুর্বৃত্তপনা, দুষ্কর্ম, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও গণবিরোধী কর্মকা- সম্পর্কে যা জানে; আমাদের বিজ্ঞ সম্পাদকরা তা জানেন না এমনটি বিশ্বাস করা কঠিন।


‘স্বাধীনতা’ ও ‘পেশাগত’ স্বার্থ উর্ধে তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের সম্পাদকরা এক মঞ্চে সমবেত হয়েছেনÑএটি আমার তরুণ সাংবাদিক বন্ধুদের আশান্বিত করেছে। অনুজপ্রতিম সাংবাদিক প্রভাষ আমিন ও মনজুরুল আহসান বুলবুল ১৫ সম্পাদকের এই অভূতপূর্ব ঐক্যের প্রশংসা করেছেন পেশাগত অবস্থান থেকে। এই ঐক্যকে আমি জেনেবুঝেই ‘অভূতপূর্ব’ বলছি। ভিন্নমতের সম্পাদকদের এমন ঐক্য আমরা দেখেছিলাম পাকিস্তান আমলে, যখন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী, আবদুস সালাম, শহীদুল্লা কায়সার ও রণেশ দাশগুপ্তের মতো ডাকসাইটে সম্পাদকরা ‘পূর্ববাংলা রুখিয়া দাঁড়াও’ শিরোনামে যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেছিলেন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে। ১৯৬৪ সালের চেয়েও ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এ বিষয়ে লেখার জন্য সেলিম সামাদ, প্রিসিলা, এনামুল ও আমার মতো অনেক ছাপোষা সাংবাদিকের সঙ্গে মুনতাসীর মামুনের মতো জাঁদরেল কলামিস্টকেও জেলে যেতে হয়েছিল। জামায়াতের সন্ত্রাসীরা বোমা মেরে মানিক সাহার মতো সাংবাদিকের মুণ্ডু উড়িয়ে দিয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবাদ করলেও বাংলাদেশের নমস্য সম্পাদকদের এহেন যুক্ত বিবৃতি তখন নজরে পড়েনি। তখন কেন, অতীতে কোন জাতীয় দুর্যোগে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক সম্পাদকদের সঙ্গে রাজাকার-আলবদর-জামায়াতের সমর্থক সম্পাদকদের এহেন যুক্ত বিবৃতি আমরা দেখিনি।

এই বিবৃতির পক্ষে কৈফিয়ৎ দিতে গিয়ে আমাদের শ্রদ্ধাভাজন সম্পাদকরা বলেছেন মাহমুদুর রহমান অপরাধ করেছেন যে বিষয়ে তারা নিঃসংশয় হলেও যে প্রক্রিয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা সমর্থনযোগ্য নয়। গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ যিনিই করুন তাকেই গ্রেফতার করতে হবে- পৃথিবীর যে কোন দেশের সংবিধান এবং আইনের শাসন সংক্রান্ত ধারণা এই বলে। আমাদের মতো ছাপোষা সাংবাদিকদের গ্রেফতার করলে, কারাগারে নিয়ে নির্যাতন করলে, এমনকি হত্যা করলেও যুক্তবিবৃতি দেয়া যাবে না, শুধু মাহমুদুর রহমানের মতো দুর্বৃত্ত অপরাধী মালিক-সম্পাদক গ্রেফতার হলে তার পক্ষে দল বেঁধে একাট্টা হয়ে দাঁড়াতে হবে-এই মানসিকতা হচ্ছে অপরাধ থেকে দায়মুক্তির সেই অপসংস্কৃতি যা বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকা-ের পর জেনারেল জিয়াউর রহমান এদেশে চালু করেছিলেন।

জামায়াত জানে মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতার এবং ‘আমার দেশ’-এর অবর্তমানে প্রচারযুদ্ধে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা আরও জানে তাদের নিজেদের পত্রিকা দৈনিক ‘সংগ্রাম’ ও ‘নয়া দিগন্তে’র বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যের কোঠায়। তাই তারা ভর করেছে ‘প্রথম আলো’র কাঁধে। মাহমুদুর রহমানকে মহিমান্বিত করার অর্থ হচ্ছে জামায়াত-হেফাজতের রাজনীতি মহিমান্বিত করা। মাহমুদুর রহমানের যাবতীয় কর্মকা- গত কয়েক মাসের জামায়াত-হেফাজতের যাবতীয় তা-ব, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্র তৈরি করেছে, প্ররোচনা জুগিয়েছে যা দেশের প্রচলিত আইনে জামিন অযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধ যে কোনও পেশার মানুষই করতে পারে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কথা বলে অপরাধের পক্ষে দাঁড়ানো কোন বিবেকবান ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়।

‘প্রথম আলো’ এ বছরের শুরুতে (৫ জানুয়ারি ২০১৩) একটি পাঠক জরিপ করেছিল। যেখানে বলা হয়েছিল দেশের ৫৮% মানুষ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে। তখনও গণজাগরণ মঞ্চ হয়নি, সাঈদীর মামলার রায় ঘোষিত হয়নি, জামায়াতের ভয়াবহ তা-ব এবং জামায়াতের প্রতি জনঘৃণা তখনও এত তীব্র হয়নি। ‘প্রথম আলো’র জরিপ সম্পর্কে তখন আমি মন্তব্য করেছিলাম, এই জরিপে যদি ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ’ না বলে শুধু ‘জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ’ করার কথা বলা হতো আমার ধারণা শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ জামায়াতের বিরুদ্ধে মত দিতেন। (জনকণ্ঠ, ১৯ জানুয়ারি ২০১৩)

৫ মে’র তা-ব ও সন্ত্রাসের পর যখন জামায়াতের যাবতীয় গণবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত সবার কাছে ধরা পড়ে গেছে, যখন জামায়াত অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় কোণঠাসা অবস্থায়-ঠিক তখনই ‘প্রথম আলো’র ১১ মে’র জনমত জরিপে আমরা জানলাম দেশের ৬৪.৮% মানুষ জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে এবং দেশের ৫৭.৫% মানুষ গণজাগরণ মঞ্চের বিপক্ষে। এ বিস্ময়কর জরিপ নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সম্পর্কে এটুকু বলতে পারি শুধু আওয়ামী লীগ, মহাজোট বা মহাজোটের বাইরের বাম দলগুলো নয়, অধিকাংশ ধর্মভিত্তিক দল এবং বিএনপিরও একটি বড় অংশ নিজ নিজ অবস্থান থেকে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের পক্ষে। জামায়াত নিষিদ্ধকরণের প্রক্রিয়া মন্থর হওয়ার নেপথ্যে বিএনপির নীরব আগ্রহ একটি বড় কারণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে।

জামায়াতের এই চরম সংকট মুহূর্তে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ‘প্রথম আলোর’ আলোকিত সম্পাদক মতিউর রহমান, যার ক্ষমতা ও প্রভাব সম্পর্কে জামায়াতও বিলক্ষণ অবগত রয়েছে। যে কারণে জামায়াতের মনে হয়েছে মাহমুদুর রহমানের অসমাপ্ত কাজ মতিউর রহমানের পক্ষে আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব। আমি নিশ্চিত জানি মাহমুদুর রহমানের মুক্তিকে কেন্দ্র করে ভিন্নমতের সম্পাদকদের এক মঞ্চে সমবেত করা ‘সংগাম’, ‘নয়া দিগন্ত’ বা ‘ইনকিলাব’-এর পক্ষে সম্ভব নয়। এ কাজ বাংলাদেশে একজনই করতে পারেন এবং তিনি আমাদের সবার প্রিয় মতি ভাই, বাংলাদেশের সবচেয়ে জাঁদরেল সম্পাদক অঘটনঘটনপটীয়সী মতিউর রহমান।

পনেরো সম্পাদকের যুক্ত বিবৃতি তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে বিস্মিত করলেও পরে যখন অন্য সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলেছি, জামায়াতের রণকৌশল বোঝার চেষ্টা করেছি, তখন বিস্ময় কেটে গেছে। জামায়াত যদি ‘ইকোনমিস্ট’, ‘নিউইয়র্ক টাইমস’, ‘আল জাজিরা’, ‘বিবিসি’, ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ আর ‘ইন্টারন্যাশনাল বার এ্যাসোসিয়েশনের মতো গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনকে প্রভাবিত করে তাদের পক্ষে ব্যবহার করতে পারে, ‘প্রথম আলো’কে কেন পারবে না? টাইম ম্যাগাজিনে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এ্যালেক্স পেরির রূপকথা আমরা ভুলে যাইনি।

মতি ভাই জামায়াতের টাকা খেয়ে এমন কাজ করেছেন আমি তা বলছি না। হয়ত বেগম জিয়া কিংবা তার চেয়েও প্রভাবশালী কোন মহল থেকে তাকে অনুরোধ করা হয়েছে মাহমুদুর রহমানের পক্ষে বিবৃতি প্রদান ও আয়োজন করবার জন্য। কারণ বিবেকের তাড়ানায় স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে কেউ এমন কাজ করতে পারেন না। মাহমুদুর রহমান এবং তার পত্রিকা হেফাজত-জামায়াত-বিএনপির অশুভ ত্র্যহস্পর্শের মুখপত্র। মাহমুদুর রহমান শুধু বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনে দ-নীয় অপরাধ করেননি। তিনি ‘এথনিক, ক্লেনজিং’-এর রাজনৈতিক ও আদর্শিক ক্ষেত্র তৈরি করে আন্তর্জাতিক আইনেও দ-নীয় অপরাধ করেছেন। তার পক্ষে দাঁড়ানোর অর্থ হচ্ছে ’৭১-এর গণহত্যাকারীদের পক্ষে দাঁড়ানো, ফ্যাসিবাদের পক্ষে দাঁড়ানো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

’৭১-এর মতো কেউ ইসলামের দোহাই দিয়ে আরেকটি গণহত্যার ক্ষেত্র তৈরি করবেন-বাংলাদেশে কেন, পৃথিবীর কোন দেশেই তা কাম্য হতে পারে না।

মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতারের দাবি প্রথম জানিয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চ, তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মিথ্যাচারের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং জঙ্গী মৌলবাদকে উস্কানি প্রদানের জন্য। জাগরণ মঞ্চ এই নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকপত্রও দিয়েছিল। মাহমুদুর রহমান যে অপরাধ করেছেন তার জন্য আরো আগেই তাকে গ্রেফতার করা উচিৎ ছিল। কারণ তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে সমাজে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও হানাহানির জমিন তৈরি করছিলেন। আমরা একুশ বছর ধরে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের জন্য আন্দোলন করছি। ট্রাইবুনাল গঠনের পর থেকে সরকারকে বলছি ’৭১-এর গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য ব্যক্তির পাশাপাশি দলেরও বিচার করতে হবে। সরকার আমাদের দাবির প্রতি কর্ণপাত করেনি। ৫ মে’র হেজাবিদের সরকার উৎখাতের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন হেফাজত ও জামায়াতকে আর ছাড় দেয়া হবে না। ৬ মে হেফাজতিদের শাপলা চত্বর থেকে বিদায় করবার পাশাপাশি পুলিশ শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে গোটা রাস্তা সাফ করে দিয়েছে।

গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙার সংবাদে হেজাবিরা নিশ্চয় খুশি হয়েছে, আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছি। মহাজোট সরকারের নেতা ও নীতিনির্ধারকরা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির দ্বৈরথে সরকার নিরপেক্ষ থাকবে এটা কখনও আমাদের কাম্য নয়। ট্রাইব্যুনালে এখন ধরাছোঁয়ার বাইরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে-জামায়াত, রাজাকার, আলবদরের বিচার কেন হচ্ছে না এটাও আমাদের বোধগম্য নয়। হেফাজত ও জামায়াতের প্রতি সরকার সদয় হলেও হেজাবিরা ৫ মে’র চেয়েও মহাষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করছে। যে সব সংবাদপত্র নিয়ে আমরা গর্ব অনুভব করতাম সে সবের সম্পাদকরা দেশ ও জাতির আসন্ন মহাদুর্যোগে কোন পক্ষে থাকবেন আমরা জানি না। তাদের কয়েকজন কমরেড ৫ মে শেষ রাতে শাপলা চত্বরে ’৭১-এর চেয়েও ভয়াবহ গণহত্যার বিবরণ দিয়েছেন তাদের সংবাদপত্রে। ৫ মে যদি শাপলা চত্বরে ’৭১-এর গণহত্যা হয় আগামীতে আমরা বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হলোকস্টের আশঙ্কা করছি। জাতির বিবেক যদি লুসিফারের কাছে বন্ধক থাকে সে জাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে শঙ্কা প্রকাশের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।


জনকন্ঠ-এ প্রকাশিত।