ইসক্রুপে চাবি আটা
নাহিয়ান ফাহিম, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১২


নাহিয়ান ফাহিম। জন্ম ২৩ মার্চ, ১৯৮৪। শিকড়ঃ ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ। ঢাকাতে বেড়ে ওঠা।
পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই যে কবিতা পড়েন না, এই সত্য মেনে নিয়ে কলেজ জীবনে লেখালেখির শুরু। দায় নেই কোনো; বরং আলোর অনুপস্থিতিতে কবিতাই যে শেষমেষ কবির বুক চিতিয়ে উঠে দাঁড়াবার অবলম্বন, এটাই বিশ্বাস। মূলতঃ পাঠক, ফলতঃ লেখক। সাহিত্যপত্রিকা ‘জলঝারি’র অন্যতম সম্পাদক। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত। একুশে বইমেলা ২০১২তে প্রকাশিত একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘ভিনদুপুরের নোটবই’।

ই-চিঠিঃ kabbick@yahoo.com


ইসক্রুপে চাবি আটা


উফ্ দরজার বাইরে আর কাঁহাতক খামাখা পাহারা

আমার কি আর কোনও কাজ নেই
বৃষ্টিম্যাডামের দিকে উল্টো মুখে প্রতিবার তোয়ালে এগিয়ে দেয়া ছাড়া?


অভিনব, শিখে গেছি আমিও পামিং
যে সমস্ত লাল বল ফুল পাখি অদৃশ্য হবার কথা ছিল
তাদের বিশ্রাম; আমি আয়ত্তে এনেছি, দ্যাখো, একটিও চোখের পাতা
না ফেলে তোমার দিকে মঞ্চ থেকে ছুঁড়ে দেয়া
হাসিটুকরো, ন্যাড়া কথা, তামাশার ফলা

রুমালেরও ছুটি, ফলে বোঝাই যাবে না কখন এসে
হাতের উল্টো পিঠে কান্না লেগে আছে

হাততালি ভুলো না অভিনব, যদি বাউ করি, যদি ধরে আসে গলা...


গাঙ্গুলিদার একটি নীরা, আমার নিরা নব্বই !


বিকেলে, নদীর ধারে, মন খারাপের ধাক্কায়
আমার আঙুল থেকে বাতাসও এক-আধবার সিগারেট খায়।

কাজ নয়, দেখিয়েছি কাজের বাহানা

ডেসপারেট বন্ধুটির থ্রেট, তার লিবিডোপ্রেমিকাটিও
ফোনে , ‘প্লিজ আসুন না, থার্টি ফাস্ট নাইট
উন্মাদ শহর জুড়ে লং ড্রাইভ, ওয়াইনরাত, তিনজনে হেভি নাচা গানা’

হাইফেন হতে ভালো লাগে না আমার সে তো সকলেরই জানা।


'হি হি হি আর হাসাবেন না
ইস, আপনার জন্যই বারবার ভুলে যাচ্ছি
আমার তো মন খারাপ'

বুঝলাম, এবার নামিয়ে রাখতে হবে
চুমুকে ছলকে ওঠা কাপ।


মন খারাপের মেঘগুলি সব পর্দানশীন—
বুকের ভিতর কমলারঙ বিকেলবেলায়
পাশ ফিরে শোয়, আঁচড় কাটে, প্রেমের ঠ্যালায়।
কেউ দেখে না। একলা আমিই তাক ধিনা ধিন।

গা পুড়ে যায়, আমি ওদের দু'পা জড়াই,
কাউন্টলেস এক অনুনয়ের গান আওড়াইঃ
পালাতে দিন, পালাতে দিন, পালাতে দিন...

মনোযোগ না পেলেই চুরুটের মতো নিভে যাওয়া
তোমার অভিমানধর্ম নয়

যতক্ষণ একলা ভালোবাসা
তোমার ক্ষতি না করছে
তাকে বাড়তে দাও


এক দুই তিন চার পাঁচ ছয় সাত
রাত দিন রাত দিন রাত দিন রাত...

বিস্তারিত নথিপত্র নাই, অনুমানে বলি—
লক্ষ বছর আগে এক এক্সামে
বেয়াক্কেল সূর্য নাকি ফার্স্টবয় আগুনকে
টুকে লিখতে গিয়ে হাত-টাত পুড়িয়ে একশা।
পরে, যা হয় আর কি, ইনভিজিলেটর ঈশ্বর স্যার
ব্যাটার কপালে চক ঘষে শাস্তি লিখলেন —
ছুটির ঘন্টা পর্যন্ত বেঞ্চে উঠে কানে ধরে ওঠ-বস।

সেই থেকে
এই চলছে




জীবনে হল না, আমি আজন্ম কলিগ থেকে যাব!
পি.সি.র আড়াল থেকে, কাগুজে সম্রাট, শুধু
আড়চোখে দেখব খোলাপিঠ—

তোমাকে দেখলেই কেন মনে পড়ে গাঢ় লাল বুগেনভেলিয়া,
তারই গন্ধে মাথা ঘোরে, কেন একটাই কথা প্রতি রবিবার
বলতে ইচ্ছা করে, ‘সু-সু-সুন্দর লাগছে আপনাকে’

তোমাকে তা মুখোমুখি বলার সাহস এক জীবনে হল না!


যখনই সানাই
বুকে বাজে সে নাই সে নাই
যখনই এস্রাজ
ভাবি যদি সে আসে রে আজ
যখনই সরোদ
মেঘেদের উদ্দেশ্য রোদ...


ওদিকে তোমার জীবনানন্দ,
এদিকে আমার সহজ আনন্দ!

নিন্দাবন্ধু তুমি খুলে দেখো তুমি পড়ে নিয়ো তুমি ছিঁড়ে ফেলো মুখবন্ধ!


শীষ নৌকা লাঙল পাল্লা কাস্তে
ঘা চুলকায় সবাই গোপনে, আস্তে।