সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতি ও পাঠপ্রসঙ্গ
জাহেদ সরওয়ার, রবিবার, অক্টোবর ২৮, ২০১২


১৯৯৭ সালে আমার প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়। ঐ বছরই সুনীল গঙ্গোপাধ্যারে সাথে আমার দেখা হয় কক্সবাজারে। বইমেলা উপলক্ষে তাড়াহুড়ো করে পহেলা বই প্রকাশ। বইমেলা শেষ করে কিছু বই কাঁধে করে নিজের শহর কক্সবাজারে গেছি। বই নিয়া ঘরে ফেরার মতোই। কক্সবাজারে জনে জনে তখন নিজের বইয়ের প্রচারণা আর বিক্রি করার উত্তেজনায় অস্থির, কয়েকজন সহযাত্রীসহ। ঠিক তখনই স্থানীয় পত্রিকায় দেখি সংবাদটা। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এখন কক্সবাজারে। পানসে হয়ে আসে আমার নিজের বইয়ের প্রচারণা বা বিক্রির উত্তেজনা। তখন একমাত্র উত্তেজনা হয়ে দাঁড়ায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। কারণ এর আগে প্রায় বছর পাঁচেক একনাগাড়ে পড়ছি তাকে। এর আগেরও সামান্য শানেনুযুল আছে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে আমি খুব দু:সময়ে পেয়েছিলাম। আমি তখন হয়রানীমূলক এক মামলার আসামী হয়ে লুকিয়ে আছি ভোলার বোরহানউদ্দিনে। সেখানেই আমার হোস্টের কাছে এককপি ’ভালবাসা প্রেম নয়’ পেয়েছিলাম। নি:সঙ্গতার সঙ্গী হিসাবেই। বইটি টেনেছিল লেখার শক্তির গুণে। একদিনও লাগে নাই বইটা শেষ করি। কিন্তু নাওয়া খাওয়া ভুলে শেষ করার পরও বইটা ছাড়তে পারিনা হাত থেকে। রাতে ঘুমানোর সময় বালিশের নিচে রেখে দিই। চেরাগের আলোয় মাঝে মাঝে খুলে প্রিয় অংশটুকু ফের পড়ি। বইটার নিউজপ্রিন্টের ঘ্রাণ শুকি। হাত বুলাই।


সর্বোপরি বইটা যারা পড়েছেন তারা জানেন কি নির্মম সেই প্রেমের কাহিনী। পরকীয়ার কাহিনী যদিও এখন আমাদের কাছে উত্তেজনাময় মনে হয় না। কিন্তু আজ থেকে প্রায় একুশ বছর আগে? যখন কিনা আমার বয়স ১৪ বছর? এক পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাই দখল করেছিল আমাকে। সেই বয়সে যখন তেমন প্রেমও আসে নাই জীবনে। তখন থেকেই নারীদের প্রতি ঘৃণা তৈরি হতে থাকলো। বইয়ের ঘটনাটা নিউইয়র্কের। নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি সুখী তরুণ দম্পতি। যারা আশ্রয় দেয় আরেক বাংলাদেশিকে তাদের বাসায়। সেই নবাগতের সাথে তরুণী বধুর পরকীয়া ফাদা হয়েছিল বইটিতে। মেয়েটাকে খুবই খারাপ চরিত্র হিসাবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল। তরুণ স্বামীর জন্য খুব খারাপ লেগেছিল। সুনীলের দুর্দান্ত পুরুষতান্ত্রিকতার পরিচয় এর পর আরো অনেক বইতেই আমরা পেতে থাকবো। তো বইটার ভাষার শক্তির কারণে আমার দোষী মনে হয়েছিল নারীদের।

এরপর সুনীলের বই খোঁজার পালা। পরে বছর পাঁচেক ধরেই সুনীলের যা পাওয়া গেছে তাই সাবাড় করা হলো। নীললোহিত এসে প্লাবিত করতে লাগলো। নীললোহিতে এ যেন অন্য সুনীল। এক অপার প্রেমের জানালা যেনো খুলে দিলেন তরুণদের সামনে। এমন নি:স্বার্থ প্রেমিক যে কিনা নিজের প্রেমিকাকে প্রেমিকার প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে দিকশূন্যপুরে চলে যায়। সুন্দর মেয়ের পিছু নিয়া যে কোনো স্টেশনে নেমে যেতে পারে রেল থেকে। চুপি চুপি মেয়েটার পিছু পিছু গিয়া দেখে আসতে পারে হলুদ বাড়িটাও। এইরকম রোমান্টিক কাহিনী এর আগে আর দেখা যায় নাই। রুমানা আফাজ বড় বেশি অ্যাকশন ত্রিলে ভরা। আর মাসুদ রানাতো খোদ হলিউড ত্রিলারের আলেখ্য। এমন কি সুনীলের বই আমার সঙ্গী হয়েছিল জেলখানাতেও। জেলখানায় একমাস ধরে পড়েছি সুনীল ও মাক্সিম গোর্কি।

তো ১৯৯৭ সালের মার্চের সেই বিকালে আমরা হোটেল সাইমনে যাই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের খোঁজে। তরুণ আবৃত্তিকার ও কবি সেলিম রেজা ও তরুণ রহমান মুফিজ। আমাদের দেখেই ম্যানেজারের টেবিলে বসে থাকা আরেক আবৃত্তিকার জসিম উদ্দিন বকুল বুঝে ফেলেন আমাদের ঠিকানা। বকুল ভাই আমাদের জানালেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সস্ত্রীক উখিয়া বা টেকনাফে গেছেন। ফিরতে সামান্য দেরি হতে পারে। আমি তখন সুনীলের জন্য একমাসও অপেক্ষা করতে পারতাম। রহমান মুফিজ ব্যস্ততার অজুহাতে পালায়। বেজারমুখের সেলিম রেজাকে নিয়া আমি বসে থাকি সাইমনের রিসিপসনে। আমার অদ্ভুত রোমাঞ্চ হয়। এই কক্সবাজার জেলাতেই এখন আমার প্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

এই যে হৃদয়জুড়ে থাকা সুনীল তাকে আমি ঠিক কিভাবে নেব। আমিতো সুনীলের সামনে কোনো কথাই বলতে পারবো বলে মনে হচ্ছিল না তখন। তার বিভিন্ন বইয়ে উৎসর্গ পাতা ও স্মৃতিকথা পড়ে ততদিনে স্বাতী বউদিও আমাদের পরিচিত। হোটেলের অথিতিদের সমস্যা হলেও আমরা বসে থাকি। সন্ধ্যা থেকে বসে প্রায় রাত এগারটা বাজে। বকুল ভাই চরম অনিশ্চয়তার ভেতর ঠেলে দিয়ে চলে যাচ্ছেন আমাদের। সেলিম অসন্তোষে চলে যেতে চাইছে। ঠিক সেইসময়ে একটা মাইক্রোবাস এসে দাঁড়ায় সাইমনের সামনে। বকুল ভাই এগিয়ে যায়। আমি ছুটে যাইনি। প্রেমিকার মত লজ্জা ঘিরে ধরেছে আমাকে। আমি বসে থাকি। সেই মুহূর্তে সুনীলকে আমার সবচাইতে প্রিয় মানুষ বলে মনে হচ্ছিল। তো প্রিয় মানুষের কাছে কি তাড়াহুড়ো করতে আছে?

মাইক্রোবাস থেকে দলের অন্যান্যরা সরাসরি দোতলা উঠার সিঁড়ির দিকে চলে যাচ্ছিল। অপলক তাকিয়ে ছিলাম। একটা মুহূর্ত্ও হাতছাড়া করছিলাম না। আস্তে নামলেন, টলটলায়মান পায়ে ধীরে পা বাড়ালেন শাদা পাঞ্চাবী আর পাজামা গায়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। দেখেই মনে হচ্ছিল তিনি প্রচুর টেনেছেন। টেকনাফ হয়ে মায়ানমার থেকে আসা অনেকরকম সস্তা মদ আসতো তখন হরদম। আমরাও টানি। হোয়াইট অরেঞ্চ, রেড ওয়াটার, গোল্ড ওয়াটার, ব্লেক লেবেল, নাইটমেয়ার ইত্যাদি। অনেক সস্তাও ছিল তখন বোতলগুলা। এক বোতলের দাম পড়তো নব্বই টাকা একশ টাকা। আগে আগে হাটছিলেন বকুল ভাই। বকুল ভাই আমাদের দিকে একবার তাকালেন। তারপর প্রায় অসহায়ের মত সুনীল দাকে আমাদের কথা বললেন। আমরা উঠে দাঁড়াই সুনীল দা রিসিপসনে ঢুকে পড়েন। আমার খুব ইচ্ছা করছিল সুনীলদাকে জড়িয়ে ধরি। ঘ্রাণ নিই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের শরীরের। এত চেনা এত প্রিয় মানুষ। কিন্তু সামনাসামনি আসার পর মনে হচ্ছিল আমাদের মধ্যে ফারাক আসলে যোজন যোজন। কথা বলতে পারছিলাম না। বেকেচুরে যাচ্ছিলাম। কারণ সুনীলদার টলটলায়মান অবস্থা দেখতে পাচ্ছিলাম। উনি কোনো সামন্ত জমিদারের মতো কথা বলছিলেন। একটু করুণ চোখে তাকাচ্ছিলেনও আমাদের দিকে। সঙ্গী সাথীরা দাঁড়িয়ে আছেন উনার জন্য। আমার খুব অভিমান হচ্ছিল চারটা থেকে রাত বারটা পর্যন্ত যার জন্য অধীর হয়ে বসে আছি সে কিনা এসেই বলে যাই।

আমাদের অবস্থা দেখে বকুল ভাই সঙ্গী সাথীদের ইশারা করলেন। স্বাতী বউদিকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না; চিনে ফেলি। স্বাতী বউদি বলে চীৎকার করে উঠি। সুনীল আর স্বাতী বউদিকে নিয়া এত ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেলাল চৌধুরীর দিকে আমরা ভ্রুক্ষেপও করি না। সেটা সুনীলদার নজর এড়ায় না। তিনি হাত ধরে সামনে এনে পরিচয় করিয়ে দেন ইনি অসামান্য, অনেক বড় কবি বেলাল চৌধুরী। সত্যি কথা বলতে কি বেলাল চৌধুরীর কোনো লেখা আমি তখনও পড়ি নাই। সুনীলদাকে আমি এলোমেলো একগাদা কথা বলে ফেলছিলাম। তিনি বললেন কাকে তোমার ভাল লাগে। নীল লোহিত না সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। আমি বলেছিলাম নীললোহিত।
না হতে না হতেও অনেক কথা হয়ে যায়। শেষে আমার কবিতার বইয়ের একটা কপি তাকে দেই। তিনি অটোগ্রাফ দিতে বলেন। অসহায়ভাবে কী লিখেছিলাম মনে নাই। আমার নিজেরই আরেকটা বইয়ে তিনি লিখেন। ’জাহেদের সাথে অনেক রাতে দেখা হলো কিন্তু বেশি কথা হলোনা বলে দু:খিত।’ বইটা আমি আগলে রেখেছিলাম অনেক বছর।

খানিক অতৃপ্তি নিয়া সেইরাতে ফিরেছিলাম। ভাবছিলাম সুনীলের সাথে আর দেখা হবে না। সকালে উঠেই তিনি চলে যাবেন ঢাকায়– সেরকমই কথা ছিল। পরদিন সকালে বকুল ভাইয়ের ফোন পেয়ে খুশিতে ডগমগ করি। তিনি বললেন সুনীল দা মহেশখালী যেতে চায়। আর আমার বাড়ি মহেশখালী। এই ব্যাপারে আমি সহযোগিতা করতে পারি কিনা। কথা হলো জেলাপ্রসাশকের স্পীডবোটে আমরা মহেশখালী যাবো। পরে সেখান থেকে আমি গাইড হিসাবে দেখিয়ে আনবো। সকালে সুনীলদাকে আনতে গিয়ে দেখি রিসিপসনে সুনীলদা আর স্বাতী বউদি বসে আছেন। উনারা যাবেন না? আমি বেলাল চৌধুরীকে ইশারা করি। না, ও রেস্ট নিবে সুনীলদা বললেন।

আমি স্পীডবোটে সুনীলদাকে বললাম মহেশখালী গিয়া আমলাতান্ত্রিকতার ভেতর ঢুকার দরকার নাই। আমরা ওখানে গিয়া সাধারণ হয়ে যাই চলেন। সুনীল দা খানিক বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় মেনে নেন। আমি বার বার নীললোহিতের মতো উত্তেজিত করে তুলতে চাইলাম তাকে। এরপর কথায় কথায় সুনীল দা বুঝতে থাকেন আমি তার কি গভীর পাঠক। মহেশখালীতে নেমে আমার ইচ্ছা ছিল একটা রিক্সায় তিনজন বসে ঘুরবো। কিন্তু সুনীলদা ও আমার সাইজের দিকে তাকিয়ে আমরা একটা স্কুটারই ঠিক করলাম। প্রথমে গেলাম আদিনাথ মন্দির। আদিনাথ মন্দিরে উঠার তখন সিঁড়ি ছিল না। পাহাড়ের গা বেয়ে উঠতে হতো। খুব বেশি খাড়া ছিল না; সহজেই উঠা যেতো। আমি দুজনকে উঠতে সাহায্য করলাম। পাহাড়ের উপর উঠে স্বাতী বউদি কিশোরী হয়ে উঠেন।

আদিনাথের চূড়ায় উঠে মাছের কঙ্কালের মতো মহেশখালীটাকে দেখতে থাকি আমরা। পাহাড়ী পথ বেয়ে ঘুরলাম তিনজনে। পরে মন্দিরের ভেতরে যে বিশাল পুকুরটা আছে তার পাড়ে কিছুক্ষণ বসলাম। ফাঁকে রাজি করালাম দুপুরে আমার বাড়িতে খাওয়ার। কারণ আমি লোভ দেখিয়েছিলাম ইলিশ আর রূপচাঁদা মাছের। আসলেই তখন আমাদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল মাছের। তিন চারটা ট্রলার। কোনো না কোনোটা সবসময় আসছে। ফলে হরবখত মাছ থাকতো বাড়িতে। এর আগের দিনই একটা ট্রলার ঢুকেছিল যার জন্য আমি রিস্ক নিলাম। আদিনাথের পাহাড় থেকে নেমে বড় বড় ডাবের পানি খেলাম তিনজনে। নীল লোহিততো শুধু চিংড়ী মাছ আর ডিমের কাটলেট খান আর আমি ফোড়ন কাটি। তিনজনে হাসলাম।

বাড়িতে ইলিশ আর রূপচান্দা ছাড়াও অনেকরকম মাছ ছিল। শুটকির ঝোলটা খুবই পছন্দ করলেন তিনি। কিন্তু শুটকির ঝোল পর্যাপ্ত ছিল না। আমার খুব লজ্জা, সংকোচ হচ্ছিল। ইলিশ রূপচাঁদা ইত্যাদি যথেষ্ট থাকার পরও তিনি আলু দিয়া ছুরি শুটকিটা খুবই পছন্দ করলেন। আমাদের মূল বাড়িটা তখনও মাটির দেয়ালের। যদিও পাশে একটা সেমিপাকা আছে। আমি ইচ্ছা করেই মাটির ঘরে নিয়ে বসিয়েছিলাম। এখন এই ঘরগুলা আর দেখা যায় না– তিনি বলেছিলেন।

আমরা দুইটা তিনটার দিকেই কক্সবাজার ফিরে আসি। এরপর কী কী প্রোগ্রামে সুনীলদা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমাকে কলকাতা যাবার এবং কলকাতা গেলে তার বাসায় উঠার জন্য অনুরোধ করেন। আমি বিদায় নিয়া চলে আসি। পরদিন কক্সবাজার ত্যাগ করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। আর দেখা হয় না।

২০০৩ সালে আমি প্রথম কলিকাতা যাই। তাও কলিকাতা বইমেলায়। মোটাসোটা উপন্যাসসহ ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গ ছবির দেশে কবিতার দেশে ইত্যাদি পড়া হয়ে যায়। বিশেষ করে ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গ বইটা সুনীলের প্রতি আমার সব মোহকে ভেঙ্গে দেয়। আনন্দ বাজার পত্রিকার পক্ষ থেকেই তিনি গিয়েছিলেন বার্লিন প্রাচীর নিধন দেখার জন্য। ফলে আনন্দবাজারের মতো সুবিধাবাদের জায়গা থেকেই তিনি দেখেছিলেন পূর্ব ইউরোপসহ কমিউনিস্ট দেশগুলাকে। বইটাকে আমার প্রপাগাণ্ডা, উদ্দেশ্যপূর্ণ ও একজন কাল্পনিক মার্কসিস্টের দেখা কমিউনিজম বলে মনে হল। আর এরই সূত্রে ধরে ক্রমে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্য দর্শন আমার কাছে খোলাসা হয়। হতে পারে তখন থেকে আমার রাজনৈতিক ধারণাও ভরাট হতে থাকে। ততদিনে বুঝতে পারি সুনীলের বেশিরভাগ লেখা যৌন সুরসুরি-মার্কা, মারাত্মক ব্যাবিচারের লালসা। একজন পেটিবুর্জোয়া সাহিত্যিক বললেই তার সম্পর্কে যথাযথ বলা হয়। তবে তার ভাষার ব্যবহার যা মানুষকে উত্তেজিত করে তুলতে পারে, নিবিষ্ট করতে পারে তা অস্বীকার করা সম্ভব না। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাষা ছিল গতিশীল। ধরলে ছাড়া যায় না টাইপের। পরে অবশ্য আমার সংগ্রহে থাকা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সব বই আমি খুব অল্পদামে নীলক্ষেতে পুরানা বইয়ের দোকানে বিক্রি করে দিই। কারণ বইগুলা আমার চোখের পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তো সেইবার কলকাতা গিয়া আমি সুনীল সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। তবুও মনে হতো এই শহরে তো একজনকেই চিনি তিনি সুনীল। পরিচয় দিলে হয়তো তিনি আমাকে চিনতেও পারেন।

রবীন্দ্রসদনের নন্দনে সেবার কবি আলোক সরকারের জন্মদিবস পালিত হচ্ছিল। সে উপলক্ষে অনেক কবি সাহিত্যিকই সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। আমি বাইরে গাছের গোড়ায় বসে সন্দ্বীপন দার সাথে কথা বলছিলাম। সে মুহূর্তে দেখলাম সুনীল দাকে। তিনি জীবনানন্দ সভাঘরের দিকে যাচ্ছেন। সুনীল বাবু এলেন বলেছিলেন সন্দীপন। তবুও খুব ডাকছিল মন সুনীলদার সাথে কথা বলার। তো অনুষ্ঠান শেষে সভাঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময়। নমস্কার দিয়ে সামনে গিয়া দাঁড়াই। পরিচয় দেই। তিনি খানিকটা স্মৃতি হাতড়ান। তারপর চিনতে পারেন। আদিনাথ মন্দির, হা মহেশখালী গিয়েছিলাম তো। সেইসূত্রে তিনি চিনতে পারেন। হয়তো তিনি তখনো উচ্ছাস বাসনা করছিলেন অথবা করছিলেন না। তবুও আমি ছিলাম নিরুচ্ছাস। আচ্ছা