রাজ মাসুদ ফরহাদের কবিতা
রাজ মাসুদ ফরহাদ, বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৪, ২০১২


আমার আমি

আমার পুরো নাম রাজ মাসুদ ফরহাদ। জন্ম ঢাকায় ১৯ শে নভেম্বরে, ১৯৮০ সালের কুনো এক শীতল রোদেলা দিনে।।

কুঁড়েঘর--তারুণ্যের কাগজ অনেক তরুণদের সাথে নিয়ে বের করছি ২০০৬ সাল থেকে। কুঁড়েঘর পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। এর আগে ভাস্বতী নামক একটা পত্রিকার তিনটি সংখ্যা বের করেছিলাম। ভাস্বতী পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছিলাম।

সৃজনশীল কাজ করতে ভালোবাসি। কবিতা আমার জীবনের এক অন্তরঙ্গ বন্ধু, শোভাকাঙ্খি প্রেমিকা।। নিজেকে কবিতার একজন নিবেদিত কর্মী শ্রমিক মনে হয়।। এখনও মনে হয় আমি কবি হয়ে উঠিনি।

ভালো লাগে অমিয় চক্রবর্তী, বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, সুভাষ মুখোপাদ্ধায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, হুমায়ূন আজাদ, আবুল হাসান, খালেদ হুসাইন, সরকার আমিন, আপন মাহমুদ, মুস্তাফিজ কারিগর, হানিফ রাশেদীন, নির্লিপ্ত নয়ন, শামিম হোসেন সহ আরও অনেক কবির কবিতা।।

আব্দুল্লাহ আবু সাইয়িদ স্যার আমার অন্যতম অনুপ্রেরণা---স্যারের কণ্ঠস্বর পত্রিকা প্রকাশের আত্নত্যাগ, কাঠখড় পোহানো, ভালোবাসা আমাকে সাহিত্য কাগজ করতে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

বর্তমানে রুটি রোজগারের উপায় তথ্য প্রযুক্তিতে; কাজ করছি লন্ডনে ব্রিটিশ কোম্পানিতে সোশ্যাল এপ্লিকেশন (প্রধানত ফেইসবুক অ্যাপ ডেভেলপার) ডেভেলপার হিসেবে। গত ৬ বছর ধরে দেশি বিদেশি কোম্পানিতে ফাইট করছি মেধাবীদের সাথে।

স্কুল জীবন সিভিল এভিয়েশন হাই স্কুল, কাওলা উত্তরা; কলেজ জীবন নটর ডেম কলেজ, মতিঝিল; অনার্স করেছি কম্পিউটার সায়েন্স নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং মাস্টার্স ইন বিজনেস করেছি ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কসায়ার ইউকে থেকে।



আ ম রি বাঙলা ভাষা

ডানা মেলা পাখিদের সুরে
প্রাচীন বটবৃক্ষের সোঁদা গন্ধের মত
মিশে আছো তুমি

ভিজে সকালের সবুজ ধান ক্ষেতে
নবারুন আলোয় ঝিলমিল ঝিকমিক

কৃষকের চোখে জেগে উঠা যমুনার ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ

কিশোরীর ওড়নার আলপনায় মেখে দিলে
বাদামি অসুখ চিন চিন শির শির শিস

মায়ের চোখের কাজলে কে যেনও এঁকে দিল
বাবার দিল গোলাপের কলির মত ফুটে ফুটে উঠে

কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পথে অচিন সুরের গান
স্বামি তার বুক গন্ধে লেপটে নিয়েছে কি প্রেম কামনা দুঃখ সুখের ভেলা

সবুজ আলের পরে মিছি মিছি কিশোরী রোদ
স্বপ্ন দেখায় কিংবা হেঁড়ে গলায় কাশে

দিল থেকে দিলে
প্রাণের ডাকে ব্যাকুল বাঁশরি
আ ম রি বাঙলা ভাষা


দিদির চিঠি

দিদি দিয়েছিলে চিঠি
ভুলে পাতার খামে

খুলে দেখি আঁকাবাঁকা
এলেবেলে

বলছ কত কি নানা রঙে
‘খোকন দেখ
উড়ে যায় ঘুড়ি
বুঝি মন ভুলে

আমাদের উঠোনের চাঁদ
খেলছে বুঝি বড় বেশি হাস্না হেনার স্নেহে

মায়ের শ্রাবণ মেঘের ডাক
খোকা খুকি সময় গেলে
পড়া কি কুলোবে

বাবার কোলে বর্ষার গড়গড়
বজ্র কণ্ঠে
বিদ্যুৎ বুঝি লুকোত আলতো হেসে

বাঁশের ঝাড়ে প্যাঁচার ডাকে
ভয় পাড়ানো
দখিনা বাতাস খুব বেশি কি
মনে পড়ে

পান্তা পেঁয়াজ লঙ্কা আর ঘাস শাকে
কত বেলা মোদের গেছে কেটে
পুলাও কিংবা বিরায়ানীর লাল লাল গন্ধে

মনে আছে একবার
পাশের গ্রামের রহিম বখশ এর
মেয়ের বিয়ে বাড়ির খাবার গন্ধে
মোরা দুই ভাই বোন বসে বসে স্বপ্ন দেখেছি
বাবার গল্পে বলা আলাদিনের

আমাদের এই দিন বুঝি
ফুরোবে না কভু

রবি যতদিন মেঘে মেঘে
যাবে উঁকি মেরে মেরে ’


বয়স বুঝি ষোল কি সতের
দিদি আমার গেছে বুঝি শ্বশুর বাড়ি

পিছন ফেরে চোখ যেনও
কি খুজে ফেরে
মোদের কুঁড়ের দোরে

অনেক দিন হয় নি শোনা
খোকা চল খেলি ঘুড়ি কাটাকাটি
মাটির পুতুল বলবে
বুঝি কথা তোর আমার সনে

কুনো এক আষাঢ়ের গোধূলি বেলায়
গাঁয়ের গরুর গাড়িতে চরে
দিদি আমার এসেছিল
সাদা কাপড়ে ভেজানো
সাদা সাদা মেঘ রঙা মুখে
গায়ের কালো কালো পাহাড়ি ঝোপের মত
দাগ গুলি কিংবা
গলায় রশিতে জড়ানো
কালচে গোলাকার আঁকিবুঁকি
পাতিলের খসে খসে যাওয়া রঙে

বড় বেশি বলছে কি
তোর শ্বশুর বাড়ির দিনগুলি

অনেক অনেক মেঘ কান্নার
পরে আজ তাই ভুল করে
খুলে দেখি তোর এলেবেলে চিঠি

দিদি আর কিছু টাকা হলে
তোকে বুঝি পেতাম ফিরে

টাকার অভাবে আমরাই
যাই বুঝি
বড় বেশি ঝুলে


ঈশ্বর তুমি আমাকে ডানা দাও

ঈশ্বর তুমি আমাকে ডানা দাও
ঘুরে আসি তোমার দরোজা জানালা

তোমার চোখে চোখ রেখে বলি
তুমি এতোটা ভীরু কৃপণ ক্যান

তুমি সারাক্ষণ করুণা করো
প্রার্থনা মাগো

ভালোবাসা মাগো কি?

তোমার ভয়ে কাঁপছে পৃথিবী
কাটাকাটি ভেঙ্গে পড়ছে
লুটিয়ে পড়ছে

মানব মানবী

শুনেছি তুমি অপার
তোমার করুণার তুলনা হয় না

নীলক্ষেতের সিডি ব্যবসায়ী
মাংসল খোলা স্তন দেখিয়ে
টানে দিবা স্বপ্ন

সব লুটে যায়
কার কার

অতৃপ্তি থাকে

কিন্তু তোমার মিথ্যা অবয়বে
লুটে কি যায় না

মানব পৃথিবী?

ঈশ্বর তুমি ক্ষমার সাগর
শুনেছি

আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও না
দেখা

সিডি ব্যবসায়ির মত আর কত
লুটে যাবে


একফালি চাঁদ বোকা বোকা চেহারায়

তাঁহার জন্য
একফালি চাঁদ বোকা বোকা চেহারায়
জেগে ছিল পাখিদের ঘুমে

পাখিরা শরবত পিয়ে
জিয়ে ছিল দুঃখ
ভাঙা ভাঙা স্বরে

বুড়োমি রেখে
তাঁহার অধরে চাঁদ
নেচে ছিল বিলকুল দুই রাত

পাখিদের আযানে
ও পাড়ায় কড়া নাড়ে
পুলিশ আর ফেউ

"বালানা পৃথিবী" মুঠো চিরকুটে
ছিল বুঝি লেখা
কাঁটাতারে ঝুলে আছে
তাঁহারা


আয়নায় মুখোশ

দেয়ালে টাঙ্গানো মুখোশ
আয়নায় জমে থাকা ধুলো

সবাই যদি ফিরেই আসবে
বন থেকে হরিণ শিকারের গল্প নিয়ে
আমরা কেনইবা ছিপ ফেলে
গল্প করেছি রুই কিংবা কাতলের

আমরা যারা জাল ফেলে
করসরত করে
হা ডু ডু ডু খেলেছি
মাটিভাঙা মাঠে
বাঁদর কিংবা হরিদাসের সাইকেলের
টিং টিং বেলে

বিকেলে নীল আকাশে
কুনো এক দালান পরীর
ছায়া নিয়ে

সন্ধ্যায় বুঝি ঘুমিয়ে গেছে
গাঁয়ের কিশোরেরা আগামি
দিনের মিছিলে

কাঁঠাল পাতায় উড়ো টাকায়
বাড়িতে বাড়িতে
হাঁড়ির টুং টাং বৈরাতী
চলে নৃত্য মন ভূমে

একদিন সবাই খবর শুনে

আয়নায় জমে থাকা ধুলো
আরও বেশি প্রকট হয়

দেয়ালে টাঙ্গানো মুখোশ
ফিরে ফিরে আসে

সোনালি আঁশের সবুজ গন্ধে
এই বাঙলায়

পাঁচ মউসুম পর পর
কাঁঠাল পাতা জড়ো হয়

কাঁঠাল ভেঙে হুইসেল নিয়ে
প্রতীক্ষায় থাকা কিশোর যুবক
বুড়ো হয়

মুখোশ পড়ে থাকে আয়নায়


প্রমিথিউস

আমাদের প্রেম ডানে ও বামে

যে চেয়েছে বামে
পায়নি কিছুই
জমেছে সিন্ধু-বিষাদ!
ডানে চেয়েছে যে
তার পথে
মেলে গেছে অপার-সম্ভাবনা!

ডানে ও বামে চেয়েছে যে
পেয়েছে প্রেম-আরাধনা
বিশ্বাসের প্রমিথিউস!


ধীরে বহ বাঁহে লাগছে বড্ড বেশি

‘ধীরে বহ বাঁহে
লাগছে বড্ড বেশি’

কাঁটাতার তার তার পরে
ভূমি মানব জল আকাশ

দুটো পাখি উড়ে যাচ্ছে
তোমার এই আঁখি মাড়িয়ে
দেওনা উড়িয়ে গুঁড়িয়ে নেংটিয়ে

আমরা তোমাদের উঠানে
যাই
বিধাতা আমাদের কেনও জানি
মন দিয়েছেন ভুলে যেতে

যতটুকু দেখা যা যায়
তার সবটুকুই কিন্তু
মানব নয়

তার পিছনে থাকে কি যেনও
এক পশু এক দঙ্গল আমাজন

বিভাজন করে দাগ টেনে
মেপে মেপে
তলে অতলে
ছলে বলে

চলছে কি এক খেলা

এপারে আসলে ঠ্যাঙ ভেঙ্গে ঠোঙা করে দিব
বিধবা করে দিব
ঝুলবে নিয়ন আলোর প্রস্রাবে
পুই শাকের রক্ত বীজের মত গড়িয়ে
যাবে দিবানিশি লাল লাল লাভা
বাঙলার হাজারও নদী

আমাদের চোখ কি নিয়ে গেছে
চিলে
মন কি হারিয়েছে
ডলারের খোশবুতে
তবু কিছু কিছু মানবের মন পুড়ে
কাঁদে
রক্তস্রোত হৃদয়স্রোত
গলিয়ে গলিয়ে পড়ে

আমরা মানব হই

(উৎসর্গঃ পৃথিবী নামক গ্রহের সিমান্তে নির্যাতিত ভূমি মানি হীন দিনহীন সকল মানবের উদ্দেশ্যে )


এক গ্লাস পানি এক ফোঁটা কান্না

এক গ্লাস পানি এক ফোঁটা কান্না

সঙ্গমের পর হাওয়া
আদমের পাঁজরে
কে যেনও গুজে দিলো
গন্ধক

সেই থেকে সঙ্গমের পর এক এক জন কবি
হয়ে উঠেন শয়তান

কুস্তি লড়েন ঈশ্বর এর সাথে

আমরা গন্ধকের টুকরো টুকরো অংশ নিয়ে
কাঁটা কাঁটিতে ব্যস্ত

হায় ঈশ্বর হায় শয়তান--মাসতুতো ভাই


সম-বয়সী

কিছুটা বয়স হয়েছে আমার
সতেরো কিংবা আঠারো

যদিও সবাই বলে ত্রিশঊর্ধ্ব

আমি বলি
হই যদি সত্তুর কিংবা তেয়াত্তুর

এই মন বলে
কিছুটা বয়স হয়েছে আমার
সতেরো কিংবা আঠারো

আরও কিছুটা বয়স হলে
প্রেমে পড়তে পাড়ি

যদি হই বাইশ কি তেইশ
এই পৃথিবী
নাকি লুটিয়ে পড়বে অহর্নিশ

আমি বলি
হই আশি কিংবা বিরাশি

মন বলে
খোকা তুই এখনও রইলি খোকা

কিছুটা বয়স
থাকবে বুঝি চিরকাল
সতেরো কিংবা আঠারো
বাইশ কি তেইশ


মম প্রেম শেফালি ও খোকনে

প্রেমিকের দুঃখ থাকতে নেই!

বাসি ফুলের গন্ধ বাসে ভালো রাতজাগা শেফালিরা
কিংবা পার্কের বেঞ্চিতে অবাঞ্ছিত খোকনেরা

মম প্রেম শেফালি ও খোকনে
গোপনে, স্বপনে কিংবা জাগরণে


কদম কদম ভালোবাসা

কেমন আছো?

বারিতে সিক্ত ঝরঝরে পাতার
দুটো জলের মত
তোমার টানা টানা ওই দুটো চোখ

চোখের ভাষায়
দেখেছি আমি-হৃদয়ের তৃষ্ণা

তুমি খুব মায়াবী

কাপালিকের ইন্দ্রজাল
ছেয়ে কি আমায়
মুগ্ধ করো

ভোর রোদেলা দুপুর ক্লান্ত বিকেল বেলা?

গোধূলি রঙে দেখি তোমায় প্রকৃতির কোলে
চিরসবুজ তুমি

কদম নেবে কি?
কদম কদম খেলা
--ভালোবাসা

খেলবে কি?

দু আঙুলে

পাগলা ঘোড়া খেপেছে
মনটা কি দুলেছে

বৃষ্টি হবে-হবে
কারও মনে
বলে কি এই ফাগুন

গাছের ছায়ায়,
ঝিরিঝিরি হাওয়ায়

দু আঙুল কি খুঁজে
মাতাল পৃথিবী

মাতাল দুপুরে-
দু'জনার চোখে

দু আঙুল মেলে
হাত বাড়িয়েছে

এক আঙুল এ
কাঁদে ঈশ্বর

দু আঙুলে
পৃথিবী
প্রেমে পড়ে


সোনারচরের মানুষ

প্রাচীরে আলোআঁধারি
জমছে কিছুটা মেঘের রঙ

অপেক্ষায় ছিল বলে
পাতারা এখনও ফিরে আসে

শরতের সবুজ ডানায়
পরাণ মাঝি
সোনারচরে একাকী আঁকছে
ছবি মনে মনে

আজ কিছু নেই
পাতারা ক্লোরোফিলে নেয় বুঝি
মরুবায়ু

আমাদের সময়ে
যেনও পড়ে আছি মানব মুখোশ

হাঁটছি গাইছি কাঁদছি
পাশাপাশি,

মানুষটা নেই!


ও সুন্দর ও সত্য

শারদতমা, ভোরের আলোর মতো
প্রেম নিয়ে আমায় কি ডেকে যাও

আঁধার তোমার চোখে
যেন ঝুলছে দিগন্ত ছোঁয়া পালতোলা নাওয়ের তালে

শারদতমা, মেঘছিন্ন হৃদয়ের মতো
তোমার এই হেঁটে চলা
লালনের সুরের মতো
আমাকে কি কাছে টানে-অপ্রেমে!...

শুনেছি, তোমার অবয়বে
ঝড় কাঁদে বয়ে যাবার সঙ্গমে

আমিতো কাঁদিনি ভাসিনি তমামনবেদনায়
তবুও কেন
তোমার সুর ঈশ্বরের হিংসার মতো
আমাকে করে বেওয়ারিশ প্রেমিক...!

একটা হৃদয় ছিল কি কৈ মাছের মত ছলছল
ঘুঘু’র হাসির মতো অব্যক্ত...

শারদতমা, দেখতে যদি...কত নরম কোমল
এ হৃদয়
পাঠ করে পৃথিবীর আবেগ
অপেক্ষায় জনম জনম

শারদজমিনে...মানবপ্রেমে...!

পরাণ কাব্য


দিঘির জলে দুঃখ নেই আছে বেদনার্ত সংগম

পিঁপড়ে আমাকে ভালবাসেনা, ভালোবাসে সময়

ঝাঁউবন আঁধারের মত একজোড়া শীতল চোখ
দেখে
সমুদ্র গর্জন কিংবা চোরাবালির প্রেম
৩/১/
মায়াবন বিহারিণী
কামুক নদীর স্রোত মিশেছে
গঙ্গা থেকে পদ্মায়
বঙ্গোপসাগরে।।


বরষার প্রথম জল দিবো তোমার কপোলে
যেমন আলতো করে মেখে নেও তুমি কথার নুপুর

ভালবাসলে মিথ্যা কথারা পাপড়ি মেলে
উতল হাওয়ায় উতলা হওয়া
শীত গুম থেকে
কাছাকাছি থামবে বলে--স্নানে ও সঙ্গমে

তোমার স্তন্যে সুন্দরবনের মউচাক
ভোঁ ভোঁ
রাত শেষে সঙ্গমের খোলস পড়ে থাকে
তোমার উঠোন আর আমার বারান্দায়

ভক্তি বল কিংবা মায়া
চাতকের প্রেমে আমি মশগুল

আমিতো সরেই গিয়েছিলাম
ভালবাসাহীন
নদী কিংবা সময়ের কাছে
এই আমি এই সময় এই নদী
ছিল নাকি
মেঘময়

নিরক্ষর দ্বিধার পাশে থেকে
আমি খুঁজেছি
আমাকে নাকি
তোমাকে
নাকি সময়
১০
চিরতাকাল এখন আমার
জানি এমনি রবে
নাকি মায়াবতী সবুজ
কামাক্ষী আমাকে টেনে নেবে
১১
হয়তোবা কুনো একদিন
উঠোনে উথলে উঠা চাঁদখানা
ভাঙা কলসির মত চেয়ে ছিল
১২
বারোভাতারি জীবন
দূরে আরও দূরে কি সরে যায়!?
১৩
আমাদের পাখি হবার দিন


দোঁহে

আজ মেলাবার দিন

সাবান ও শ্যাম্পুর মিলনে
শব্দ ও নৈশব্দ
পাশাপাশি

ব্লেডে কেটে যাওয়া গাল
তোমার চুম্বন ও
বেদনার কথা বলে

স্নানের পর অপবিত্র আত্মা
কিশোরীর গল্প শুনে শোনায়

পাখিদের গানে ভিন্ন সুর
বাতাসে কবরের আঁতর

হৃদয় ছিল মেঘার্ত
কিংবা নদীর জলের মত ভয়ার্ত

যে ভাগ্য বিধাতার ছিল
হিংসা ও বক্রোধে

পেরিয়ে আসা সময়
মুখোমুখি--

আয়নায় ভেঙচি কাটা
ছবি-

কে সে?



দিঘির জলের সমবয়সী দীর্ঘশ্বাস নিয়ে

ক্ষমা করো
এই তমা ও ছায়ার
হৃদয়

কিছু কিছু না পাওয়া
কি বড় কিছু হারাবার উপমা?!

আমরাও তো সকালের
আলোয় স্নান করেছি

মধুর সবুজ প্রাণের প্রান্তরে

তবুও আমাদের জেগে থাকা
দিঘির জলের সমবয়সী দীর্ঘশ্বাস নিয়ে

এসো আজ কিছু লিখি
এই জেগে উঠা মনের চরে

আমাদের এই চিঠি
বাতাসের খামে
যাবে কি পৌঁছে!
আরও অনেক অনেক জেগে উঠা মনের চরে?!

আমাদের স্বপ্ন যেনও
এক চালাক চর
যার টান আছে কিন্তু ক্ষমা নেই

ঈশ্বরের অস্তিত্ত্বের মতো
আমরাও কি তাই আলাভোলা থেকে যাই!?


মন কাব্য

মন নিয়ে জমছে খেলা হাটবারে
মনের আবার ঘর কি!?

মনের ঘরে সে আসে বারে বারে
মন আমার একলা পাখি...

ডুব ডুব খেলে ভাবের বারান্দায়...

তোমার ওই ছোঁয়া কেনও
আড়াল করে ওই পথ চলা...

কেউ বলে তুমি
হেঁটে চলা নদীর আনমনা স্রোত

কেউবা তোমায় ডাকে
কাল বৈশাখী ঝড়

বিধবার তুমিই নাকি শেষ অবলম্বন...
প্রেমিকার বুকে জেগে উঠা শারদ প্রভাত...

জানতে ইচ্ছে করে
মানব প্রেমিকের তুমি কি?

তুমি কি নীল আকাশের
একলা উড়া ওই নীল পাখিটা...

হায়, এই মন আজ
কেনও...দোলে দোলে হারায়...

ভালোবাসা

তোমাকে দেবার মতো আছে অনেক আমার
চোখের চাহনি
চুলের খুশকি
হাতের ব্যথা
শার্টের বোতাম
প্যান্টের পকেট
রাস্তায় কুঁড়িয়ে পাওয়া
বাংলাদেশ ব্যাংক
'হারিয়ে যাও' 'কাছে থাকুন'
'টুথব্রাশ করুন'
আবেগের থরো থরো---
মৌচাক !

পছন্দ হল না--এত কিছু !

শর্ট লিস্ট করে বলি--
মেঘ বিকেলের এক টুকরো
'ভালোবাসা' ।


২৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক

আহ! সাধাসিধে পোশাকে তত্ত্বের বাণীতে
রূপ অপরূপে আহ! ওই বাহারি পোশাকে

দিনের আলোয় জ্বেলে যাচ্ছ কথার প্রকট
যেনও ছুটছে পত্রিকার পাতায় মলাট
মলাট; আহ! এই দিন দিন নয় যেনও
আলাদিনের চেরাগ; ভরে উঠেছে খ্যাতিও

ওই পঞ্চ আভায় মানব দেশজ প্রেমে
কিছু বলছ কী জেনে;কিছু মেনে-মেপে মেপে

সন্ধ্যার আলোয় রাতচেনা পথিকের পিছু
পিছু নীড়ে ফেরা; ভেড়ার দঙ্গলের ন্যায়ও
মিশে যাচ্ছ কী পতিতার বাড়ী ফেরার মতো
হে! আমার প্রিয় সুশীল বাবু ও কবিগণ!

দ্বিপদী

তোমার চোখের জলে
কিছু কথা থাকনা মেলে

তোমার অধরার কোণ
কিছু হাসি যাকনা খেলে

পাশাপাশি বসে থাকা
কতটা বেলা
এই হাত ছুঁয়েছিল
আমার হৃদয়

রেখে দেওয়া বকুলের
গন্ধে আজ ব্যাকুল
বসন্ত বাতাস

উড়ে যাওয়া
শালিকের ডানায়
লেখা আছে প্রেম পত্র

আজ আমাদের হেঁটে চলা
বসে থাকার ছন্দে

দুলছে পৃথিবী
কাঁপছে তার ঈশ্বর


সক্রেটিসের প্রেমের জবানবন্দী

"বল, তুই কি চাস?"
---প্রেম...

"প্রেম!...হা হা...!! আর?"
--- রাক্ষুসি একটা নারী...

"কেনো? তুই তরুণদেরকে প্রতিবাদী করে তুলতে চাস? এই সমাজকে বদলাতে চাস?"
---আমি কিচ্ছু বুঝিনা...ভাই, তোমরা মানে আপনরা মানে শোয়রের বাচ্চ--তোরা আমাকে একটা প্রেমময় জীবন এনে দে...

"হু..."

(আঁধারের প্রলেপ সরিয়ে দুটো মেয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমন্ত সক্রেটিসের মাথার কাছে--একজন এই শহরের সেরা সুন্দরী, আর একজন সুশ্রী পতিতা...খটখট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় সক্রেটিসের)

লাল ঠোঁটে লাবণ্যময়ি তুমি আছো দাঁড়িয়ে
আমার একটা স্বপ্ন আছে...

কালো চুলের বাহারি
সুহাসিনী, মিষ্টি রোদের আলপনা
জানো কি, আমার একটা স্বপ্ন আছে...

(মেয়ে দুটি দ্যুতিময় হাসির মায়া জালে... প্রহরীরা খোশগল্প আর আজকের রাতে নারী ভোগ কামনার উজ্জ্বল সম্ভাবনায় মাতোয়ারা...)

---কি শুনতে চাও না?
"হু..."

---তোমরা কি আমাকে প্রেমময় একটা জীবন দিতে পারো?
"হু...পারি...যদি..."

---যদি!...যদি কি?!
"হু...যদি তোমার মুখ বন্ধ রাখো আর চিন্তা করার শক্তি নিস্তেজ করো"

---আর তোমরা বছর বছর শোয়রের ছানা পয়দা করো?...
"হু...!তাহলে...যাই আমরা..."

---আহা! বোকা পোকামাকড়ের দঙ্গল...তোরাও পুড়বি অমাবস্যার মতো বেস্যা জীবন নিয়ে... যেমন পুড়ছে প্রতিবাদহীন মানুষেরা--ইরাকে, ফিলিস্তিনে, বাংলাদেশে...

আমার প্রেমময় জীবন এ একটা রাক্ষুসি মেয়ে দরকার ছিল যে শুধু সন্তান পয়দা করবে না...করবে এক একটা জন বিপ্লবী...এক একটা সক্রেটিস... গ্যালিলিও...আইনস্টাইন...মারটিন লুথার কিং...মহাত্না গান্ধী...নেলসন মেনডেলা...বঙ্গবন্ধু...শহীদ জিয়া...মাদার তেরেসা... স্বপ্ন ও কর্ম ফেরিওয়ালা মানব- -নয় শুধু পুরুষ, নয় শুধু নারী... একজন মানব প্রেমময়... পৃ'চর মানব!...


জেগে উঠার দিনলিপি

ভালো থেকো...না থাকার মাঝে

দু’চাকার সময়ের ফড়িঙ
সুতো কেটে কেটে
আমাদের হাতে কি তুলে দিয়েছে
--ভালো থাকা?

কয়টা মানুষ হারিয়ে গেলো
সেটা কিন্তু বড় কথা নয়
মাটিতে প্রাণ থাকলে সেতো
উঠবেই জেগে

দীর্ঘশ্বাসের সমস্ত কালকুচকুচে
কান্নার পাঠ
আমাদের চোখের নীল দর্পণে
ভেসে উঠে মিলিয়ে যায়

দুটো শালিক চায়ের দোকানে
আড্ডায় কার্ল মার্ক্স গোরকি
এবং বিকালের ভোকাট্টা স্বপ্নঘুড়ি
সুতো কাটাকাটি খেলে

এইভাবে আমাদের জেগে উঠার দিন
কিংবা রোদের উড়াল...

বহুদূরে ট্রেনের হুইসেলে
ফিরে ফিরে আসে
এই মাটির বুকে
কারো কারো ঠোঁটের চুমোর অপেক্ষায়

সব ঘুড়ি রৌদ্র কিংবা দু’চাকা কি হারিয়ে যায়?


ও সুন্দর ও সত্য

শারদতমা, ভোরের আলোর মতো
প্রেম নিয়ে আমায় কি ডেকে যাও

আঁধার তোমার চোখে
যেন ঝুলছে দিগন্ত ছোঁয়া পালতোলা নাওয়ের তালে

শারদতমা, মেঘছিন্ন হৃদয়ের মতো
তোমার এই হেঁটে চলা
লালনের সুরের মতো
আমাকে কি কাছে টানে-অপ্রেমে!...

শুনেছি, তোমার অবয়বে
ঝড় কাঁদে বয়ে যাবার সঙ্গমে

আমিতো কাঁদিনি ভাসিনি তমামনবেদনায়

তবুও কেন
তোমার সুর ঈশ্বরের হিংসার মতো
আমাকে করে বেওয়ারিশ প্রেমিক...!

একটা হৃদয় ছিল কি কৈ মাছের মত ছলছল
ঘুঘু’র হাসির মতো অব্যক্ত...

শারদতমা, দেখতে যদি...কত নরম কোমল
এ হৃদয়
পাঠ করে পৃথিবীর আবেগ
অপেক্ষায় জনম জনম
শারদজমিনে...মানবপ্রেমে...!