রেজাউল করিম সুমনের ৪টি কবিতা
রে জা উ ল ক রি ম, শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১২


রেজাউল করিম সুমনের জন্ম ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে।
বিদ্যায়তনিক শিক্ষা চিত্রকলা বিষয়ে। পড়েছেন ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সম্পাদিত ছোটপত্রিকা : নির্মাণ।







প্রাত্যহিক


এইতো শোবার ঘর। অনুগ্র আলোর নীচে ঘুম,
পেছনে নর্দমা আর তার পাশে
ভেজা কালো মাটি-
বাদাম গাছের ছায়া , নতুন কবর।

প্রতি ভোরে আমিও নিজের কবর থেকে উঠে
মশারি গুছিয়ে রাখি, দাঁত মাজি,
ব্রেকফাষ্ট সারি …
পত্রিকার শিরোনামে দু’চোখ বুলিয়ে নেমে যাই
ছাগবিষ্ঠাময় সিঁড়ি বেয়ে সন্তর্পনে পাতালের দিকে!

বিকেলে অফিস ছুটি । যানজট। পায়ে হেঁটে
বন্ধুর বাসায় ।
ফিরে আসি রাত দশটায়
খাবার টেবিলে মাছি, আরশোলা,
ঠান্ডা পাউরুটি।

অনুগ্র আলোর নীচে আমার শোবার ঘর,
আবার সকালে বেঁচে উঠা।


‘বন্ধুকে, যে আর বন্ধু নেই’

এখন কোথায় তুমি? এ শহরে আছো?
না কি দূর মফস্বলে সংঘের কাজে
নিজেকে ব্যাপৃত রেখে মুছে নিতে চাও স্মৃতিরেখা?
সেখানে কি নদী নেই? নদীর উপরে সেতু,
নিচে ক্রুর ফুঁসে-ওঠা জল? জলের আবর্তে
কত দিন আর রাত ডুবে যায়। দুই তীরে
জমা হয় পলি। লোবানের গন্ধমাখা শব
রাত্রির আকাশে দীপাবলি জ্বলে উঠবার আগে
তারই নিচে রেখে দিয়ে এসো।

শিরোনামহীন

তোমার দু’হাতে
পোড়া দাগ
মুখে-পায়ে-পিঠে
জানুর বাকলে বলিরেখা
এখানে-ওখানে ক্ষতভার
তোমার বুকের পাশে
পুরো-না-খোঁড়া প্রত্নগুহা
দাঁতের আদলে কিছু
মরচে-পড়া ধাতব শেকল
শব্দ আর শব্দ আর
শব্দ এসে
ভরে দেয় কান
তোমার দু’চোখে ধু ধু পিপাসার নিচে
কালো পাথরের স্তব্ধতা

যাত্রা

নৌকার ছইয়ের নিচে হইচই
পাঁচ-ছয়জন
আমরা উপরে বসে আছি
দু’ধারে পাহাড় গাঢ় বন
কাছে গেলে বোঝা যায়
শিলার শরীরে কত দাগ
ঢেউ নেই
জলের নকশা তবু ভেঙ্গে যায়
রেখা-বিভা-রং
মাছ-ধরা পাখিদের ভিড়
নিচ থেকে একজন ডেকে বলে
দ্যাখ শুভলং
বামদিকে
———