শেখ বাতেনের ৩টি কবিতা
শে খ বা তে ন, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১২


শেখ বাতেনের জন্ম ১ জানুয়ারী ১৯৫৭ সালে কুমিল্লায়।
১৯৭১-এর সশস্ত্র সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। প্রথমে ৪ নং বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধীনে সালদা নদী ফ্রণ্ট লাইনে; পরে একটি গেরিলা দলের অধিনায়ক হয়ে ২ নং রণাঙ্গনের অধীন নিজ এলাকায়। স্কুল জীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানী আহুত ফারাক্কা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে ডাকসু-তে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক (বিংহামটন)-এ সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি প্রোগ্রামে অর্ন্তভুক্ত হন। ১৯৯৭ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ প্রতিনিধি নির্বাচিত হন, বিভিন্ন আন্দোলনে প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০০ সালে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পর রাজনৈতিক কারনে নিগৃহীত হন, ছয় বছর। ২০০৬ সালে সচিবালয়ে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের ‘সচিব ঘেরাও’ আন্দোলনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেন এবং দুর্নীতিগ্রস্থ আমলাদের শান্তির দাবিতে পেশাগত সম্পর্ক থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং রাজনৈতিক সাংগঠনিকতায় নিবিষ্ট আছেন। বর্তমানে, উপরোক্ত স্ট্রেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক-এর সমাজবিজ্ঞান বিভাবে গবেষণা সহকারী হিসাবে কাজ করছেন

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:

কবিতা:
ডেটলাইন বাংলাদেশ
বিশ্বায়নবিরোধী কবিতা
জা¡লামুখ

সমাজতাত্ত্বিক:
অসমাপ্ত একাত্তর: মুক্তিসংগ্রামের দ্বিতীয় পর্যায়
Globalization and Anti-globalization: A Critic of Contemporary Capitalism and its Counter Trends.
Political Economy of the Development of Bangladesh.

........................................
শেখ বাতেনের ৩টা কবিতা
........................................


ব্যক্তিগত

এই শূন্যতা, ওই শূন্যতা কোত্থেকে যেনো আসে
এই মনে হয় এই বুঝি দম থেমে যাবে অনায়াসে
কেউতো মরেছে, কেউ চলে গেছে, কাউকে দিয়েছি যেতে
কারো আসবার কথা, কেউ ঠিকমত চলে গেছে ভুল পথে
কেউ দুরে নয়, খুব মনে হয় আজ একবার ডাকি
দূর্বলতার জোড়-অজুহাতে নিজেকে দিয়েছি ফাঁকি,
কী কারনে আমি দুর্ভোগ টানি, কাকে যে চ্যালেঞ্জ করি
কী নিয়ে যেনো কার সাথে আছে বিস্তর বাড়াবাড়ি,
আমি সংকট- ভূল সময়ের নির্ভূল প্রতিনিধি
ভালোবাসি আর সংগ্রাম করি নির্মম নিরবধি



চোরতন্ত্র

আবুল যদি দেশপ্রেমিক হয়
এইটা আমার দেশ না
বলা উচিৎ এই খেলাটা
এই খানেতেই শেষ না

চুরঞ্জিতের গণতন্ত্র
তার পিএস ভালো বুঝে
আমরা বুঝি বোঝাপড়ার
এইটা শুরু, শেষ না_

চোরের মায়ের বড় গলা
আরেক মায়ের কেরদানি
সব চোরাদের সম্মিলিত
সর্বনাশের দিন গুণি।


কুতুবদিয়া

জানি না তো কেন আসি, কেন এত ভালোবাসি
সীমাহীন জলরাশি হারানো প্রিয়ার আদিবাস!
নৃ-জন্মের অন্য কোনো টান, মরণের কোনো সাধ?
না কি অবচেতনে অবহেলার প্রতিবাদ,
না কি অভিযোগ ছিলো আরো– কাউকে শোনাতে চাই
কোত্থাও না পেয়ে ওইখানে যাই!
বাড়াবাড়ি করি নাকি আমি মানুষের শুদ্ধতা নিয়া
তাই রক্ত ও হৃদয়েরা সরে গেছে শূন্যতা দিয়া
সেইসব অনুভব পরিমিতি বোঝাতে কি চায়–
কলাতলী মহেশখালী কুতুবদিয়ায়?