জাহেদ সরওয়ারের ১১টি কবিতা
জা হে দ স র ও য়া র, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১২


জাহেদ সরওয়ার। জন্ম ১৯৭৬ সালে বঙ্গোপসাগরের কিনারে মহেশখালী দ্বীপে।।এক অসম্ভ্রান্ত জেলে পরিবারে। শিক্ষাদীক্ষা চলছে। সাংবাদিকতা, প্রকাশনাকর্মী, অভিনয়সহ নানান কিসিমের কাজে জড়িত জীবিকা প্রশ্নে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ইত্যাদি লিখেন।

প্রকাশিত বই:

এই মিছা কবি জীবন-কবিতা
আততায়ী একটি কবর-কবিতা
বিকালের দাসবাজার-কবিতা
পায়ুবাসনার জনগণ-উপন্যাস
রাজ্য ও সাম্রাজ্য (রাজ্যচিন্তার কারখানা-১)
দস্তইয়েভস্কির বই ও কোটিপতির সকাল-গল্প


কবিতা ভাবনা

কবিতা লইয়া বহু কিসিমের কথা ভাবিতেছি। সেসব লইয়া একটা পুস্তকও বাহির হইবে। তাহার নাম 'কবিতা পড়ুয়ার নোটবই'।
আধুনিক কবিতার নিমগ্নতা দিয়েছিল অনন্ত ঘুমের প্ররোচনা। 'আমি অনন্ত অন্ধকারে ঘুমোতে চেয়েছিলাম/... কোনোদিন জাগিব না আর'।
অথবা 'শিশুটিও ছিল, বধুটিও শুয়েছিল পাশে, তবু সে অন্ধকারে দেখিল কোন ভূত। একগোছা দড়ি হাতে চুপি চুপি গিয়েছিল অশত্থ বৃক্ষটির কাছে'।
অথবা 'অবশেষে জেনে গেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও একা ও অচেনা'।
এই সব লাইন একদা উদ্ভুদ্ধ করতো আত্মহননেও। দগ্ধ করতো আত্মঘৃণায়। এসব ভেবে বিচ্ছিন্ন হয়েছি মানুষের কাছ থেকে। গণমানুষকে বহুদিন মনে হয়েছে 'কোটি কোটি শুকরের চীৎকার সেখানে'।
নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে মনে হয়েছে রুগ্ন। ভাষা প্রকাশ অযোগ্য, অকার্যকর। ইংরাজি ফরাসিতেই বোধয় আছে কবিতার মোক্ষ। বিদেশি কবিরা সবসময় দেশিয় কবিদের চাইতে সেরা। এরকম এক আত্মা নিয়া দমবদ্ধ অবস্থায় দিনগুজার হইতেছিল। নিজেকে এক আলাদা মানুষ ভাইবা কতজনের মুখ কালো করে দিয়েছি। ফলে উন্নত বিদেশি আত্মা নিয়া গরীব দেশে থাকার মত যন্ত্রণা দগ্ধ করতেছিল হরদম। নগুগি ওয়া থিয়াঙ্গো মোক্ষম চড়টা মেরেছিল। তার ডিকলোনাইজিং দ্য মাইন্ড। সেইটা আমারে পৌছাই দেয় কার্ল মার্কস পর্যন্ত। এই ছিল ঔষুধ। আত্মা শান্ত হয়ে গেছে। জ্বর ও প্রচণ্ড কাঁপুনি দিয়া 'আছর' ছেড়ে গেছে।
এখন এই গরীব করে রাখা দেশটাকে নিজের দেশ মনে হয়। এদেশ নিয়া ভাবি। এদেশের সুগভীর ঐতিহ্য গৌরবান্বিত করে।
তথাকথিত আধুনিক কবিদের চেয়ে আমাকে উত্তেজিত করে তোলে দৌলত কাজি, আলাওল, আব্দুল হাকিম প্রমূখ। মনে হচ্ছে হোমারে মত গণকবিদের একটা দীর্ঘ লাইন টানা আছে জগতে। পার্সিয়ান কবিবৃন্দ, আমাদের পুঁথির লোককবিগণ, লালন, নজরুল, সুকান্ত, হাছন যাদের কবিতা গান হয়ে আসে। দীর্ঘদিন পুঁথি সাহস ও আনন্দ জুগিয়েছে এদেশের গণমানুষকে। মার্কিন বা বিলেতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো কবিতা নির্মাণকলা বা বিভিন্ন টার্ম বা এজেন্ডাভিত্তিক কবিতা রচনার জগত একটা ঔপনিবেশিক রাজনীতি। গণকবিদের সাথে মার্কসবাদেরও একটা লাইন টানা আছে। সত্যিকার অর্থে কানাগলিতে ঠেকা বাংলাকবিতা হয়তো আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। কবিরা মানুষকে নিলে মানুষও কবিদের নেবে। কবিতা মানুষকে ত্যাগ করেছিল বলেই না মানুষও ত্যাগ করেছিল কবিদের।



আমাদের ক্যারাভান

আমাদের ক্যারাভান, আমরা নিয়ে চলি
গোত্রযুদ্ধ আর মরুভূমির সংকেতহীন
তমস ভয়ের ভেতর দিয়ে।

যেতে যেতে আমরা খেয়ে চলি যা কিছু বাহন
ঘোড়া, উট, যত প্রিয় পশু
তারাজ্বলা মরুভূমির আকাশ আর
অরব শূন্যতার কাছে আমাদের আত্মা নির্বাক, বিমূঢ়।

অন্ধকারের ভেতর একটি কণ্ঠ বলে ওঠে
তাড়াতাড়ি করুন, আমি বহন করছি পৃথিবীর শেষ
তিমির দেহ থেকে তৈরি লিপিস্টিক, রাঙাব বলে
রাজার নর্তকীদের ঠোঁট।'
- রাজার ডিভান তৈরি হয় আমার শিকার করা হাতির দাঁতে
বলে অন্যজন।
কেউ গোখরার বিষ, ময়ূরের পেখম, কেউ সিংহের চামড়া।
নীরবে মর্মর চোখ মেলে এসব স্বীকারোক্তি শোনে
মরুভূমির আকাশে জ্বলা নক্ষত্রমণ্ডল।

শুধু ক্যারাভানের এক কোনায় উস্কুখুস্কু চুলের
বুড়ো পণ্ডিত এসব লিখে রাখে ছেঁড়া কাগজে...
দাম্ভিক স্বীকারোক্তি লেখা লিফলেট উড়িয়ে দেয়
মরুবাতাসের স্রোতে-

অন্ধকার ক্যারাভানের ভেতর শিকারিদের ফিসফাস, ষড়যন্ত্র
গন্তব্য পৌঁছার আগেই তারা খাবে
পৃথিবীর শেষ দু:সাহসী বুড়োটাকে।


ইচ্ছা হত্যার নেপথ্যে

আমার সন্তানের চৌদ্দমাস বয়েস
বাসার বাইরে যাবার জন্য সে পাগল
সদর দরজা খুলে বাইরে নিয়ে গেলেই
সে নেমে পড়ার জন্য যুদ্ধ শুরু করে।

প্রথমে হাতপা ছড়াছড়ি, নেমে পড়তে চাওয়া,
কান্নাকাটি এরপর কাজ না হলে দু'হাতে
খামচে ধরে পিতার অনমনীয় মুখ।

অপহরণ আর শিশুহত্যার ভয়ে
আমি তার ইচ্ছা প্রত্যহ এভাবে হত্যা করি।


অপর অপার

প্রতিদিন নিজেকে ভাড়া দেই
হয়তো চার ঘণ্টা হয়তো ছয় হয়তো আট
কার্ড পাঞ্চ করে ঢুকে যাই আলো ঝলমল গুহায়

ক্রমে আট ঘণ্টার ভাড়াটে জীবন হয়ে ওঠে
বিচ্ছিন্ন কোনো আবহ পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রবিচ্ছিন্নতার

কাজের ফাঁকে ফাঁকে অফিসের বিভিন্নরকম
বসদের সঙ্গে কথা হয় যারা সবকিছু সমচেয়ে বেশি জানে

ইর্ষাকাতর সহকর্মীর সাথে দেখা হয় যারা পরস্পরের
বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মত্ত বা সুন্দরী সহকর্মীর সাথে, যারা
একবুক অতৃপ্তি নিয়ে শুধু স্বামীদের গুণগান গায়

কিন্তু হায় অফিসের জানালায় টবে
বনসাই করা বঢগাছটি জানে
এই আট ঘণ্টা দেখা হয়না নিজের সাথে নিজের।


রাষ্ট্রের তালাশ

পিতাকে খুঁজছে পুত্ররা জবাই করবে বলে
এমন একটি দেশে তাদের জন্ম দেয়ার জন্য
মা আর বোনদের ধর্ষণ করার হেফাজতে নিয়েছে
আইন শৃঙ্খলাবাহিনী

আমার শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ
রাষ্ট্রের কথা ভাবতে ভাবতে
পরদিন তাদের পাওয়া গেলো
নদীর পাশে ঝোপের ভেতর, নীথর দেহ
ক্ষতবিক্ষত যৌনাঙ্গ

আমার ভাইদের পিঠিয়ে মারলো গ্রামবাসী
যারা হত্যার জন্য রামদা তুলেছে
আর যে রামদার কোপ খাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে
তারা উভয়েই ভাবছিল তারা এক।
তাদের আত্মা আজ ড্রোন বিমান।

আহ প্রিয় মর্গ বাংলাদেশ, লাশকাটা ঘর
তোমাকে শুধু দেখছি লাশ কুড়িয়ে তুলছো গাড়ীতে
লাশের কলিজা আর মগজ খুবলে নিচ্ছো দ্রুত
গভীর রাতে চোরাবাজারে বিক্রি করবে বলে

তোমাকে দেখছি মর্গের বাইরে লাশ নিতে আসা
স্বজনদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছো নিয়ত
তোমার মুক্তবাজার প্রতীক্ষা করছে
ওষুধ ও খাদ্য বিষক্রিয়ায় ১৬ কোটি মানুষের নীরব গণহত্যার
তোমার বাহিনীরা শুয়োরের বাচ্চা বলে হাকাচ্ছে এই পঙ্গপাল

জানি এ দেশে গর্ভবতী বোনটিও আজ গর্ভাবস্থায়
কেন তার অনাগত সন্তানের মৃত্যু কামনা করছে।


পরিত্রাণ

এসো বাঁচার চেষ্টা করি
সম্পূর্ণ নিজের ধরণে
কারণ ছাড়াই বেঁচে থাকা মানুষদের ভেতর।

সহ্য ক্ষমতার যতসব পরীক্ষা
রাষ্ট্র প্রেমিক জনতার ওপর করে
সে সব ভালবেসে চুমু খাই রাষ্ট্রপতির গালে।

ধর্ষিতা নারীদের দেখার দায় আমার না
ধর্ম তাদের পাপসহ গ্রহণ করুক
ভাতের দায়গ্রস্থ মানুষ
ক্ষুধাসহ তাকে খাওয়ার জন্য গ্রহণ করুক মুক্তবাজার

এসো বন্ধুগণ বাঁচার চেষ্টা করি
কবিতার ছেল বুকে নিয়ে
রক্তবমির রাস্তায়-নপুংশক ভবিষ্যতের দিকে।


মরা বন্দর

আমরা আমাদের জাহাজ ভিড়িয়েছি আজ মরা বন্দরে
এখানে নাকি ছড়িয়েছে অন্ধ হওয়ার রোগ, লুটপাটের মহামারি
খোড়া আর অন্ধদের গোত্রযুদ্ধে নিহত হয়ে গেছে সব খালাসিরা
তাহলে এই জাহাজভরা বারুদ নিয়ে কি করবো আমরা!

আমরা যাত্রা করি পোড়া দুর্গের ধোঁয়া ওঠা নগরে
কালিঝুলি মাখা বিকলাঙ্গ
ইঁদুর খাদক লোমহর্ষ নাগরিকেরা নারী আর শিশুদের
নিয়ে যাচ্ছে বধ্যভূমির দিকে

তারা রক্তাক্ত হাতে তবু বন্দরের দেয়ালে দেয়ালে সেটে দেয়
মুক্তবাজারের বিজ্ঞাপন।


শহুরে সকাল

শহরে যদিও এখনো সকাল হয়
তবুও শহরের মানুষের হৃদয়ে কি সকাল হয়
ফর্সা আকাশ দেখা যায় যদিও
তবুও এখানে কি আকাশ আছে কারো মনে
শহরে সকাল মানে ভেজা বাথরুম
যানবাহনের গর্জন। অফিসের কবন্ধ পরিবেশ
দরজার নীচে হিংসায় মোড়া রক্তাক্ত সংবাদপত্র।



বস্তুর ভেতর নিহিত চেতনা

সকালে পড়া বইটির যে চেতনা আমাকে গ্রাস করলো
তা লুকিয়ে ছিল বই নামের বস্তুটির ভেতর।
তেমনি যিনি বইটি লিখেছিলেন। তিনি তার চেতনাকে
পুঞ্জিভূত করেছিলেন বই নামের বস্তুটির ভেতর।
ভাবছি বস্তু থেকেই চেতনার বিকাশ তেমনি
চেতনাই পরিণত হয় বস্তুর গভীর আত্মায়।

মানুষ কতটুকু দুনিয়াকে জানতে পারে, এই দার্শনিক প্রশ্নে
আমি আর থমকে দাঁড়াই না। মানুষ জানতে পারে
বস্তু যখন হয়ে উঠে ক্রমাগত উৎপাদনের হাতিয়ার।
আর রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপুঞ্জ, যুদ্ধ ও বিদ্রোহ শ্রেণি চৈতন্য
এমনকি তোমার আমার প্রেম, স্বপ্ন
ও অনিবার্য বিচ্ছেদ নিহিত কেবল উৎপাদন সম্পর্কের ভেতর!


দুনিয়া নামের গোরস্তান

সমাহিত হয়ে গেছি গণমানুষের সাথে
এ বিশাল গোরস্তানে
আবছা মনে পড়ে, পারমাণবিক ধুলার ভেতর
বুকের দিকে ছুটে আসা সন্তান
ছাই হওয়া থেকে যাকে বাঁচাতে পারি নি।

প্রতিদিন গোরখোদকদের কোদাল
বাড়িয়ে তোলে শ্রান্তি আমাদের চেতনার স্তরে
তবুও একটু একটু করে উপরের দিকে তুলি হাত
নির্জীব, ক্ষুধার্ত, অসাড়
তোমার কথা মনে পড়ে পরম আত্মীয়ের মত জেনি মার্কস

ক্রমশ হেটে চলি লাল নীল জোব্বা পরা
বুদ্ধিজীবীদের হস্তমৈথুনের ভেতর
তাদের শীৎকারে ভারি হয়ে ওঠে গোরস্থানের আকাশ
খানিকটা কামতাড়িত হই, মনে পড়ে তোমাকেও
পুঁজির পুথিগন্ধময় অজস্র ভালবাসার মিথ্যাচারেও
যে তোমাকে ধরে রাখতে পারি নি।


কবিতার ভাষা, তুমি কি কেবল আত্মরতি!

কবিতা কি বলের চাইতে, প্রশ্ন জাগে
কবিতায় কি বলা যায়।
বিমুখ থাকি কবিতা থেকে গণমানুষের মতো
যেখানে শুধু ব্যক্তিগত বাসনার চিমনির ধোঁয়ায়
ঢেকে যায় আকাশ।

শুধু প্রেম, পরস্ত্রী ভোগের বাসনা, সোনালি
অলঙ্কারের মতো শব্দের বেসাতি
শেষে বিছানার কাতরতা, অরক্ষিত সন্তানের ক্রন্দন
এমন এক ভাষা, যা বুঝেনা হরিজন
কবিতার ভাষা, তুমি কি কেবল আত্মরতি!

ফের যুক্ত হই, ভাবি মানুষের সামগ্রিক যাত্রাপথে
এ এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, যেখানে অন্ধকারে
কিলবিল করছে ইশ্বরের ছানাপোনা
জীবন আদালতের বারান্দায় সঙ্গমের আবেদন
পত্রের লেখকরা শাসন করছে এই অন্ধকার।


আমি কারো জন্মদিন পালন করিনা, ফিদেল

আমি কারো জন্মদিন পালন করিনা, মায়েস্ত্রো
এমন কি নিজেরও
তুমি জানো সোমালিয়ায় কত শিশু চোখের সামনে নিকেশ হচ্ছে
ইরাকে বেবিফুড ফায়ারের বলি ৫ লাখ শিশুর মৃত্যুর জন্য কারা
দায়ী তুমি জানো
জানো শত শত শিশুকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে গুজরাত, আসামে, আরাকানে
দুনিয়ায় এক অনন্ত মৃত্যুর উৎসব যেন আজ ।


যে বিশ্বে জন্মেছি আমরা একে জন্ম বলে না, বলেনা জীবন।
যদি না ইতিমধ্যে বিশ্বাস করে বসি সে সব
যা আমাদের শেখানো হচ্ছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলাতে
যা শিখিয়ে পাঠানো হচ্ছে শত শত শিক্ষকদের তৃতীয় বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলাতে।


তাহলে জীবন কি ফিদেল? জীবন কি একজীবন যুদ্ধের পোষাক পরে ঘুমানো!
জীবন কি মাথায় বালিশের বদলা স্টেনগান!


মায়েস্ত্রো, অনন্ত পিতৃহীন অনাথ জনগণ, প্রলেতারিয়েত কিভাবে বাঁচবে?
কিভাবে বাঁচাবে উৎপাদনের যন্ত্র হওয়া থেকে নিজেকে।
শুধু উৎপাদন, কার স্বার্থে, কোথায় যায় উদ্বৃত্ত পুঁজি? বুর্জোয়া প্রপার্টি?


শুধু দুনিয়াভর বুর্জোয়াদের সম্পদ বানানোর জন্যইকি এই জন্ম , ফিদেল?
যাক, তোমাকে কি জিজ্ঞেস করবো। অনেক উত্তর দিয়েছো তুমি।
জন্মদিনের কালো কেক যেন সোমালিয়ার মৃত্যুরত শিশুদের নেড়া মাথা।