টনি মরিসন-এর কবিতা
রে জা নু র, শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১২


[ টনি মরিসন এর জন্ম আমেরিকার ওহাইও স্টেইটের লরেইন-এ ১৯৩১ সালে। এরি লেইকের নিকটে উত্তরাঞ্চলের ছোট্ট এই শিল্পশহরটিতে তখন ছিলো মূলত ইউরোপিয়ান, মেক্সিকান ও কৃষ্ণাঙ্গদের বাস। টনির বাবা জর্জ ওফোর্ড ও মা সারাহ উইলিস ওহাইও’র দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরে আসেন বর্ণবাদ এড়াতে ও অধিকতর সুবিধার আশায়।

ছোটবেলা থেকে টনি অত্যন্ত মেধাবী। তখন তাঁর নাম ছিলো ক্লোয়ি অ্যান্তনি ওফোডর্। প্রথম গ্রেইডে ক্লাসের মধ্যে তিনিই শুধু পড়তে পারতেন। ১৯৪৯-এ ভর্তি হন ওয়াশিংটনের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে। ইংরাজি সাহিত্যে বিএ ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৫৩ সালে। অনেকেই তাঁর প্রথম-নাম ‘ক্লোয়ি’ ঠিকমতো উচ্চারণ করতে না পারায় মধ্যনামের সংক্ষেপ ‘টনি’কেই প্রথম-নাম হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৯৫৫-য় এমএ পাশ করেন নিউ ইয়র্কের ইথাকার কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে। চাকরি নেন হিউস্টনের টেক্সাস সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে। ১৯৫৭-য় ফিরে আসেন হাউয়ার্ডে ফ্যাকাল্টি মেম্বর হিসেবে। এখানে দেখা হয় জ্যামাইকান প্রকৌশলী হ্যারল্ড মরিসনের সঙ্গে। পরের বছর বিয়ে করেন তারা। নামের শেষে যোগ হয় স্বামীর নাম। শিক্ষকতা ও পরিবারের দেখাশোনার পাশাপাশি ছোট এক লেখক-দলে যোগ দেন। টনির প্রথম গল্প একটি কালো মেয়েকে নিয়ে, স্রষ্টার কাছে যে প্রার্থনা করেছে নীল চোখের জন্য, কারণ তার ধারণা সাদা মেয়েদের মতো নীল চোখই শুধু সুন্দর।

শিক্ষকতা ছেড়ে ‘র‌্যানডম হাউস’ প্রকাশনার সম্পাদক হলেন, নিউইয়র্কের সিরাকিউসে, পরে নিউ ইয়র্ক সিটিতে। আবারও লেখায় মন দিলেন। ছোট গল্পটিকে উপন্যাসে পরিণত করার ইচ্ছে করলেন। সমস্ত স্মৃতি বিস্তৃত ক’রে কল্পনায় চরিত্রগুলো সাজালেন। লেখাকে নিলেন ‘এক্সাইটিং’ ও ‘চ্যালেঞ্জিং’ হিসেবে। গল্পটি The Bluest Eye (1970) উপন্যাসরূপে আত্মপ্রকাশ করলো। এরপরের উপন্যাসগুলো হলো: Sula (1973); Song of Solomon (1977); Baby Tar (1981) Ges Beloved (1987) যা পরের বছর পুলিৎজার পুরস্কার পায়। আমেরিকার বর্ণবৈষম্যের এক হৃদয়দীর্ণ কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে। ১৮৫১ সালের একটি ঘটনা। ক্রীতদাসী মার্গারেট গার্নার তার কেন্টাকি’র মনিবের কাছ থেকে পালিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে চলে আসেন ওহাইওতে। ধরা পড়ার আগে তিনি তার সন্তানদের হত্যা করতে চান, দাসত্বের জীবনে ফিরিয়ে দেবার পরিবর্তে। একটি সন্তানকে হত্যাও করেন। মার্গারেট এজন্যে অনুতপ্ত নন, কারণ তিনি চান তার মতো দাসত্বের জীবন সন্তানদের স্পর্শ না করুক। তাই মৃত্যুই তাদের মুক্তি। পরবর্তী উপন্যাস : Jazz ( 1992); Paradise (19978) । নাটক: Dreaming Emmet। সমালোচনা গ্রন্থ : Playing in the Dark: Whiteness and the Literary Imagination (1992)|

টনি মরিসন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ১৯৯৩ সালে। নোবেল বিজয়ী তিনিই একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা। তাঁর লেখায় বর্ণবাদী সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা কৃষ্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা, আফ্রিকান-আমেরিকান নারীদের জীবন এবং বৈরী সমাজে শক্তি ও সংগ্রাম, পৌরাণিক উপাদান, তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, সমবেদনা এবং ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক এসেছে অত্যন্ত কাব্যময় গীতলতায়। নানা বিষয়ে ও সময়ে লেখা তাঁর গল্প, কবিতা ও আলোচনায় মূর্ত হয়েছে আফ্রিকান-আমেরিকান সংস্কৃতি, বর্ণবাদ, যৌনতা ও শ্রেণিবৈষম্যের কথা। ছোটবেলায় শোনা দক্ষিণাঞ্চলীয় আমেরিকানদের লোকগাথা সংগীতের অনুরণনের অনুভব নিয়েই তিনি পাঠ করেন তলস্তয়, দস্তইয়েভস্কি, গুস্তাভ ফ্লবেয়র থেকে জেইন অস্টেন।

গল্প ও উপন্যাসের বাঁকে বাঁকে তিনি একসময়ের বর্ণবাদী আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গদের বলা না বলা সব কথা অভিজ্ঞতার নিপুণতায় এঁকেছেন কবিতার মতো। কবিতা কম লিখলেও তাঁর উপন্যাসগুলো এক একটি গল্পময় কবিতা। Tar Baby-থেকে কয়েকটা লাইন। : I have to cry about this, Valerian though. I have got to shed tears about this. But not water, please God, may they be blood. I have to cry blood tears for his wounds. But I will need several lives, life after life after life, one for each wound, one for every trickle of blood, for every burn. I need a lifetime of blood tears for each of them. ]

...........................................................................
ভাষাবদল : রেজা নুর, সাউথ ইসটন, ম্যাসাচুসেটস্ ইউএসএ
rezanur@comcast.net
...............................................................................



শস্যের সঠিক স্বাচ্ছন্দ্য

শস্যের সঠিক স্বাচ্ছন্দ্যে
সময় হয়েছে ঢের ঝরিয়ে দেবার
বৃষ্টির মধ্য থেকে রমণীর ঘ্রাণ।

মিষ্টি কথার ভাষা
ঘরের স্বপ্নের দিকে
চলে যায় দ্রুত মিহিন প্রার্থনায়।
আলতো খুলে চুপ হয়ে আসে সন্ধ্যার ঠোঁট
প্রশ্নেরা জেগে ওঠে ভোরে।

তরমুজ সমর্পিত হয় অন্য এক ফালিতে
আঙুলগুলো বুঝতে পারে।
আনন্দ ভাসিয়ে নেয় আমাদের,
লাল চেরিফল হয়ে যায় জ্যাম।

গভীর কাঁচা ঘুমে
তাড়া করে হুইসেল
সফেদ বন্দরহীন সবুজ বাতাসে।
খোলা থাকে অপেক্ষমান দরোজাগুলো
যখন বিদায় ‘বড়ো দীর্ঘ’।

শস্যের সঠিক ভার
সময় হয়েছে বেশ শেষ করবার
ট্রেনের কামরায় দেখা রমণীর ঘ্রাণ।


আমি সমুদ্রের উপযোগী নই

আমি সমুদ্রের উপযোগী নই।
দেখো, মাছগুলো কেমন ভুল ক’রে আমার চুলগুলোকে
আশ্রয় ভেবে নেয়।

একটা জীবন ছিলো, তোমার মতো। উচিৎ হয়নি আমার
সমুদ্রযাত্রা
আমি সমুদ্রের উপযোগী নই।
মৃত্তিকার দিকে যেতে দাও আমাকে; তারকায় নির্ধারিত
সূর্যে মেশা, সশব্দ বাতাসের কাছে।
মৃদু হাসি দাও আমাকে, আমার হাতের মুঠোয়
ছোট্ট বালকের মৃত্যু নিয়ে আসার কৌশলের মতো চুম্বক-চুম্বন।
আমি সমুদ্রের উপযোগী নই। দেখো, মাছগুলো কেমন
ভুল ক’রে আমার চুলগুলোকে আশ্রয় ভেবে নেয়।


শহর আলোকিত

বলা হয়েছিল: সযত্নে রাখা হবে
ঘাসে ছাওয়া লন, বেড়া, সফেদ বারান্দার ঝুলোনা
আর আগুনের টোস্ট।

চাওয়া হয়েছিল: কুকুর ছানা, প্রস্ফুটিত পিয়ার গাছের জানালা,
রবিন পাখির বাসার জন্যে একটুকু জায়গা।

জানি, কোথাও, ওই দূরে
আলো জ্বলছে শহরে।
রেস্তঁরায় বাজনা বাজাচ্ছে বাদকেরা।
চাকায় ঘুরছে ক্লাউন,
মুখের সাজে টোকা দেয়া ধূর্তের
চুরির গড়িমসি।
প্রেমিকেরা ভাবছে
রাত্রি আশ্রয় দেবে
বাধ সাধবে না দূরের চাঁদ।
পার্কের গাছগুলো
নাচে অন্ধকারে
সংগীতে ভরে ওঠে সমস্ত ক্যাফে।

বলা হয়েছিল : সযত্নে রাখা হবে
তৃণভূমি, বেড়া, দোলায়িত সাদা গাড়ী-বারান্দা আর
আগুনের টোস্ট।

চাওয়া হয়েছিল: কুকুর ছানা
প্রস্ফুটিত পিয়ার গাছের জানালা
রবিন পাখির বাসার একটুকু জায়গা।

তবু জানি, হয়তো কোথাও, ওই দূরে
জেমিনিস হেসে ওঠে
লাথি ছোঁড়ে স্যাগিত্যরিয়ানস্
সমস্ত ক্যাফের মিউজিকে।
অ্যাকুইরিয়ানস্ মেঝেয়
স্বর্ণ ছুঁড়ে দেয়
উজ্জ্বলতার প্রতিদ্বন্দ্বীতে।
রিমের ওপরে
খণ্ডগুলো সাঁতরায়
বুঝতে পেরে, তারা পেয়েছে
যা অন্ধকার কাটতে পারে,
পৌঁছতে পারে
সমস্ত ক্যাফের মিউজিকে।