স্বস্তির বৃষ্টি
আইভি রহমান, শনিবার, মার্চ ৩০, ২০১৩


তখন ধীর পায়ে সন্ধ্যা নেমেছে সারাটা শহর জুড়ে
চরম ব্যাস্ত রাস্তাটার পাশে আমি ঠায় দাঁড়িয়ে
তোমার অপেক্ষায়।
ঘন ঘন চঞ্চল যানবাহনের চীৎকার
ব্যাস্ততার নিরেট ছবি মুখে সেঁটে লোকজন গন্তব্বের পানে
বেশ খানিকটা সময় পেরিয়েছে ,পাখিরা ফিরে গেছে নিজস্ব কুলায়
ফেরিয়ালা কত কি হেঁকে যায়
ক্ষুধার্ত মুখ বার বার অসহায় হাত বাড়ায়
কিছু লোলুপ চোখের তির্যক চাউনির তীর লাগে গায়
বাহুলগ্না বারবনিতা নিয়ে দুচার জন ফুর্তিতে হেঁটে যায়
আমি নিজেকে নিজের ভেতর স্থির রাখি প্রানপন অপেক্ষায়।
হিম হিম অনুভুতি জানান দিয়ে যায় -
আমি ভেতরে ভেতরে ঘেমে নেয়ে শেষ হচ্ছি অবলীলায়।
অবয়বে তার কোনই ছাপ পড়তে না দিয়ে
মুখে স্মিত হাসি নিয়ে আমি দাঁড়িয়েই থাকি,
ব্যাস্ততার ভান করি
মোবাইলের বোতাম নিয়ে খেলা করি
এমন ভাবে নিজেকে অকপট রাখি যেন নিজস্ব নিরাপত্তা নিয়ে
এক বিন্দুও চিন্তিত নই আমি ।
যদিও আজ সন্ধ্যার একটু আগেই তুমুল বোমাবাজি হয়ে গেছে
যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার বন্ধের চক্রান্তে, এখান থেকে ঠিক দশ গজ দূরে ।
অবাক করা এই শহরের মানুষ গুলোর মত এই মুহূর্তে
আমিও নির্লিপ্ততার কাঁধে হাত রেখে,
আড় চোখে এদিক ওদিক দেখি
যেন আমার কোন তাড়াই নেই
এমনি এখানে দাঁড়িয়ে দেখে যাচ্ছি এই শহরের ব্যাস্ত সন্ধ্যায়
নিয়নের বাতি কেমন রঙ ছড়ায়।
ঘরে ফেরা মানুষগুলোর মুখে কতটা চঞ্চলতা খেলা করে ,
পাখিদের কূজন হুট করে থেমে গেলে
কেউ কি উপলব্ধি করার সময় পায়!
রাস্তার পাশে আবর্জনার সাথে মিশে আছে যে মনুষ্য শরীর
তাদের ক্ষত কতটা গভীর হলে
কেউ হাত বাড়ায় তুলে নিতে অন্য কোন ঠিকানায় ......
যেন আমি বহুদূর থেকে এই সব দেখতেই এসেছি
মননে গেঁথে নিতে এসেছি
এই শহরের বুকে ঝলসে যাওয়া ঘৃণ্য অন্যায় চক্রান্ত চাবুকের
প্রতিবাদে দ্রোহের আবীরে লাল এক সন্ধ্যার রূপ! -যেন
এই খানে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে বলতে এসেছি
আমার রক্তে জেগে থাকা স্ফুলিঙ্গের তীব্র ক্ষরণের গোপন কথা
কারো কানে কানে অথচ- তাকেই পাচ্ছি না!!
বেশ অনেকটা সময় পার করে
বিস্তর ট্র্যাফিক জ্যাম পেরিয়ে যখন তুমি দৌড়ে এলে
আমার পাশে-
আমি অদ্ভুত এক স্বস্তির বৃষ্টিকে নেমে যেতে দেখলাম
ভেতরের সবটুকু উঠোন কাঁপিয়ে.........

২ মার্চ ২০১৩ - ঢাকা