মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা
ম ল য় রা য় চৌ ধু রী, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১২


কবি মলয় রায়চৌধুরীকে পরিচয় করিয়ে দেবার অবকাশ নাই। বাংলা কবিতার জগতে তিনি স্বমহিমায় উজ্জ্বল। 'হাংরি জেনারেশন'র অন্যতম হোতা। চমকে উঠার মত, শিউরে উঠার মতো কবিতার জনক। আমরা আদর করে বলতাম 'হরর' কবিতা।

........................................
মলয় রায়চৌধুরীর ৩ টা কবিতা
........................................




নেকড়ে বংশ

রগেতে পিস্তল চেপে বলছে : দোগলা ফের এসেছো এখানে
থাবা মেরে ছিঁড়ে নেব ধর্ষক্ষুধাতুর ওষ্ঠ
খসখসে জিভে চেটে নেব নখের রোদ্দুর-কণা
জটায়ুর কবজা-লাগানো লৌহডানা ঝাপটানোর বাজনা বন্ধ করে দেবো--

শরীরে এখন ঝুলকালিমাখা দৈন্য হায় যেটুকু বেঁচেছে
বাকল আড়াল করে সেগুনের এঁকে-রাখা আঁশ

একদিন আমারও হসন্ত গোলাপি ছিল রেফ-ও সবুজ ছিল
য-ফলাতে মনে হতো নারীর রেশমি তলপেট
কড়া প্রস্রাবের গন্ধে মথিত হাজত ছিল স্বাধীন শহরে
শব্দনালিকা ফোঁসে আজ ক্ষোভে : তর্জনীর পোড়া মাংস খেতে দাও
দাঁতে কেটে ছিন্ন করছি নাভিসূত্র
নেকড়ে-বালিকার কাছে দীক্ষা নিয়ে দুর্গন্ধ মেখেছি টাকরায়
দুচোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছুঁড়ে মারো
মুখাগ্নি করার কালে দেখব না কার থ্যাঁতা মড়া
তপ্ত সাঁড়াশি দিয়ে ছিঁড়ে নাও ধাতুকোষ বংশ-লোপ হোক

নিক্তি

অন্ধকারে জুতোর ঠোক্করে টের পাই কারোর মাথার খুলি
পায়ে লেগে ছিটকে পড়ল কিছু দূরে । দেখি টর্চ বাতি জ্বেলে
পোয়াতি নারীর মাথা কেটে কিছুক্ষণ আগে ফেলে গেছে কেউ ।
বাতাসে তখনো ভিনিভিনি তেলালো বীর্যের গন্ধ
রয়েছে মাখানো । ঘাসের ওপরে দাগ দেখে বুঝি নেকড়েরা
ধড় টেনে নিয়ে গিয়ে খাচ্ছে জঙ্গলে । এখন পুলিশ এসে
ধরে যদি আমাকেই ? কী প্রমাণ দেব ?
রক্তের দাগ নেই আমার পোশাকে । সঙ্গে ছোরাছুরি নেই ।
লিঙ্গও নিষ্কলুষ ঘুমেতে নেতিয়ে অচেতন ।
আঁচড়-কামড় নেই গায়েতে কোথাও । কেউ তা বিশ্বাস করবে ?
কাউকে না পেলে ওরা ধরবে আমায় শেষকালে ।
ঢোকাবে হাজতে দড়ি বেঁধে । জেরা হবে সকাল বিকাল রাতে ।
তীব্র আলো মুখে ফেলে উলটো টাঙিয়ে ছ্যাঁকা দেবে
নাভিতে চাকুর খোঁচা খোলাপিঠে ভারি বুটজুতো ।

যা আমার মুখ দিয়ে বেরোবে তা আমি এখনই মনে-মনে
রপ্ত করে নিই : 'আমিই করেছি খুন-জখম ধর্ষণ একা
এবার রেহাই দিন তাড়াতাড়ি এই হ্যাপা শেষ করা হোক
কোথায় ঘোরাব ঘানি কোন জেল পাঠান সেখানে ।'

লালসেলাম হায়

মুখের গহ্বরে এক জান্তব গোঙানি-ডাক চলাফেরা করে
জেলহাজতের ভিড়ে ত্রিকালজ্ঞ ভিড় দেখে চমকে উঠি
এরা কারা হাতকড়া পরে ঠাঠা হাসে সারাদিন
বাইরে যারা রয়ে গেল ঝুঁকিয়ে দাঁতাল মাথা
তারাই বা কারা
জল্লদের ছেড়া-দেয়া নিঃশ্বাস বুক ভরে টানে

চাই না এসব ধন্দ
মশারি খাটিয়ে বিছানায় সাপ নারীর বদলে

নৌকোর গোলুই থেকে ছুরি হাতে জ্যোৎস্নায়
বুকের ওপরে বসবে লুঙিপরা রোমশ সারেঙ
নাসারন্ধ্র থেকে বন্দুকের ধোঁয়া
'বল শালা শকুন্তলার আংটি কোন মাছে আছে'

জানি তবু বলতে পারি না
মুখের ভেতরে আংটি জিভের তলায় আমি লুকিয়ে রেখেছি ।