কবিতার চৈতালী ঘুর্ণি
লায়লা আফরোজ, শুক্রবার, মার্চ ২২, ২০১৩



মাসটা চৈত্র। তার বিশেষ রূপ-বৈচিত্র্যের কথা ভেবেই লেখাটার এমন নামকরণ। মাত্র ক’দিন আগে ফাগুন এলো নগরে-বন্দরে। আর এখন, এসেই বলে যাই! ‘না যেও না, যেও নাকো’ বলে ‘আকুল পরান আকাশে চাহিয়া’ হাহাকার করলেও এই অনিবার্য কালের যাত্রাকে ব্যাহত করা যাবে না, কোনভাবেই ! অহর্নিশ, মনোজগতে মহাজাগতিক বিপুল-বিশাল আলোড়ন নিয়েও কখন যে চোখ চলে যায়, ফাগুনের আগুন-রাঙা পলাশ-শিমুল আর ঝরা-পাতার দিকে! নিমেষে প্রাণটা হাঁক দিয়ে ওঠে- ‘বনে নয় মনে মোর পাখি আজ গান গায় ঝিরি ঝিরি..’। এক অনুমেয় উষ্ণ-অনুরাগে আউড়ে যাই রবীন্দ্রনাথের ‘শেষ বসন্ত’-
বেণুবনচ্ছায়াঘন সন্ধ্যায় তোমার ছবি দূরে-
মিলাইবে গোধূলির বাঁশরির সর্বশেষ সুরে।

আর তখনি, কানের পাশে গরম নিশ্বাস ছেড়ে দাঊদ হায়দার বলে ওঠেন- ‘বসন্তদিনে আমাদের দেখা হয়নি, বসন্তদিনে আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছিল’! আচ্ছা, বসন্ত নিয়ে কবিরা কবিতা বেশি লিখেছেন, না গীতিকারেরা গান ? বোধকরি, কবিতাই বেশি লেখা হয়েছে। আর কবিতার কথা, সে-বলে শেষ করা যাবে না! কোন দিক থেকে বলব? কোন কথাটা আগে ? কবিতার ইতিবৃত্ত ? না তার রচনাশৈলী ? না কবি কেন কবিতা লেখেন, আমরা কেন কবিতা পড়ি, কেন ভালোলাগে ? না তার নান্দনিকতা, তার রহস্যময়তা আর তার অলৌলিকতার কথা জানতে ? কবিতার রহস্যের অবগুন্ঠন খুলে নিতে যতই, যেমনভাবেই, যা-কিছুই বলি না কেন, সবই এলোমেলো মনে হয়। যেন চৈতালী ঘূর্ণি।

কবিতার ব্যাপারটা তা-ই। তবে, সে যে শুধু উপাত্ত হয়ে যাবে ঘূর্ণি নাচন নাচিয়ে দিয়ে, তা হবার নয়। নিজে সে নেচে চলে কিন্তু রেখে যায় তার চরণচিহ্ন, করস্পর্শ, অন্তরের ছোঁয়া সবখানে। উড়িয়ে যা নেবার তা সে উড়িয়ে নেবেই, যেমন ঐ শুকনো পাতা, সমস্ত বাজে কিছু, পরিত্যক্ত আবর্জনা, ধূলো, সবই। কিন্তু উঠোনের পাশে কিংবা দেয়ালের ধার ঘেঁসে ফুটে থাকা ঐ কুন্দফুল, বেলি, গন্ধরাজের শুভ্রতা, দূর-গগনে ভেসে চলা হংস-বলাকার সারি, দুপুরের ঝাঁ-ঝাঁ রোদ্দুরে পলাশ-শিমূল-কৃষ্ণচূড়ার ডালে ফুটে থাকা থোকা থোকা আগুনের শিখা, রাতের আকাশের উপুড় করে ঢেলে দেয়া জ্যোৎস্নার মায়াবী-আলোর সত্যকে সে শুধু আরও উন্মোচিত করে দেয়।

কিন্তু এত কিছুর পরেও কবিতার সৃষ্টিই হতো না, যদি না ঐ নিসর্গের মাঝে তার অপরিহার্য অবস্থান থাকতো। বিশেষ করে মানব-মানবীর, তাদের বিচিত্র, অন্তহীন সম্পর্ক ও জটিলতার। কবিতার সৃষ্টি নিশ্চয়ই কোটি কোটি বছর আগে, ইতিহাসে যার কোনো দিনক্ষণ লেখা নেই। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তিনটি বরফ যুগ। কবিতা কি তখনও ছিল না ? চলছে চতুর্থ বরফ যুগ। উদ্ঘাটিত হয়েছে এযুগে মানুষের জন্ম-বৃত্তান্ত। অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে আদিম মানব-মানবী আঁকতো গুহাচিত্র। যুক্ত ছিল সে-বোধ তাদের টোটেম-বিশ্বাসের সঙ্গে। ভাষা আবিষ্কারের বহু আগেই তাদের ভেতরে জন্ম নিয়েছে নান্দনিকতা। সে-ইতো আদি কবিতা। চিত্ররূপময়, শব্দময় ও বাঙময় হতে সময় লেগেছে তার অনেক। কিন্তু কবিতার বীজ তো নিহিত ছিল সে-ই আদিম মানব-মানবীর অস্তিত্বরক্ষা ও বিকাশের সংগ্রামের মধ্যেই। তাদের দুর্বোধ্য অভিব্যক্তির গান, নাচ, ছবির মধ্যেই।

আমরা, মুহূর্তে বহু কোটি বছর অতিক্রম করে চলে আসতে পারি, আধুনিক কবিতার সংজ্ঞায়। প্রথিতযশা কবিদের প্রচলিত সংজ্ঞাগুলো জড়ো করে তাতে একটু চোখ বোলালেই দেখা যায়-
০১) কবিতা হলো সমস্ত জ্ঞানের শ্বাস-প্রশ্বাস আর সূক্ষ্ম আত্মা।
০২) কবিতা হলো প্রবল অনুভূতির স্বতোৎসার, যার উৎস ‘ইমোশন রিকলেক্টেড ইন ট্রাঙ্কুইলিটি’ (ওয়ার্ডসওয়ার্থ)।
০৩) কবিতা হলো পরিতৃপ্ত এবং শ্রেষ্ঠ মনের পরিতৃপ্তি এবং শ্রেষ্ঠ মুহূর্তের বিবরণ (শেলী)।
০৪) কবিতাকে হতে হবে মহৎ এবং বাঞ্ছিত, যার যাতায়াত আত্মার ভিতরে, যা ভোলায় না বা চমকে দেয় না তার রূপে, চমকে দেয় বিষয়ে (কীট্‌স)।
০৫) কবিতা রচনা হলো রক্তকে কালিতে রূপান্তরের যন্ত্রণা (অডেন)।
০৬) কবিতা আমার বহুকালের প্রেয়সী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
০৭) কবিতা হচ্ছে, প্রতিশোধ গ্রহণের হিরণ্ময় হাতিয়ার (নির্মলেন্দু গুণ)।
০৮) কন্ঠে উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দাবলী কবিতা। যে কবিতা শুনতে জানে না, সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে (আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ)।
০৯) Poetry is Love, Romance & Beauty (Bayron).
১০) When truth has no burning, then it is Philosophy, when it gets burning from the heart, it becomes Poetry (Allama M. Iqbal).

কবিতা ও শিল্প বিষয়ে এবার কয়েকজন বিখ্যাত কবির একান্ত অনূভবের কথা শোনা যাক-
০১) টিএস এলিয়ট কবিতার শরীর থেকে রোম্যান্টিকতাকে ছেঁটে বাদ দিয়ে নির্মেদ, আধুনিক ধারার কবিতা রচনায় ব্রতী হয়েছিলেন। শিল্পের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে এলিয়ট বলেছেন- শিল্প কী? জীবনের আবেগ? না, শিল্প হচ্ছে জীবনের আবেগ থেকে মুক্তি।
০২) জীবনের এক পর্যায়ে এসে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন-মানুষ যৌবনে কবিতা লেখে, আর বার্ধক্যে উপন্যাস। অন্যত্র বলেছেন-কবিতার জন্য এতো রক্তপাত, মেঘে গাঙ্গেয় প্রপাত, শুধু কবিতার জন্য আরো দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে লোভ হয়।
০৩) আমেরিকান কবি এ্যালেন গীন্সবার্গ একদা কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে বলেছিলেন- কবিতা লেখার জন্য অনেক স্বার্থ ত্যাগ করতে হয়। ভালো রকমের জীবিকা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং প্রতিষ্ঠা পাবার চিন্তা থাকলে কবিতা লেখা যায় না।
০৪) কবিতা কোনো বাধাকে স্বীকার করে না। কবিতা স্বাধীন, কবিতা নির্ভিক (নবারুণ ভট্টাচার্য)।
০৫) কবিতা তো কৈশোরের স্মৃতি, সে-তো ভেসে ওঠা ম্লান, আমার মায়ের মুখ (আল-মাহমূদ)।
০৬) আর্ট–কালচার বা শিল্প-চর্চা একটা জাতিকে আত্মহত্যার পথ থেকে বাঁচায়-বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো এবং লেখক ও চিত্রকর অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
০৭) রাইনের মারিয়া রিল্‌কে বলেছেন- ‘কবিদের নামে এখন আর কিছু এসে যায় না.. তিনি কবি, এক ও অনন্য, তিনি অসীম-যুগে যুগে দেশে দেশে তাঁর আবির্ভাব’। অবশ্য, গ্যেটের ‘বিশ্বসাহিত্যের’ ধারণার মধ্যেও এই ভাবটি প্রচ্ছন্ন আছে যে- ‘কবি বলতে একজনকেই বোঝায়, যদিও তাঁর নাম কখনো শেক্সপীয়র, কখনো হাফিজ, কখনো কালিদাস’।

শামসুর রাহমান তাঁর অবিনাশী পঙতিমালায় জীবনের বিচিত্র অনুষঙ্গকে শিল্পের আঙ্গিকে বুকের ভেতরের শুভ্র কালিতে সোনার কলম চুবিয়ে পাথরের পৃষ্ঠায় লিখে গেছেন। তাই, কত অনায়াসে তিনি বলতে পারেন-‘স্বাধীনতা তুমি রবীঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান’। কবির বিচরণ সর্বত্র, জলে-স্থলে-নভোতলে। আর সে কারণেই বুঝি, কবির সীমানা নির্দিষ্ট করতে গিয়ে একজন সমালোচকের এই দ্বিধাহীন স্বীকারোক্তি- A poet has every right to dream….to dream with colours, colours of the moon…everything..

নজরুল, জীবনানন্দ, সুধীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব বসু, কবিতা সিংহ, নবনীতা দেবসেন, কেতকী কুশারী ডাইসেন, কৃষ্ণা বসু, মল্লিকা সেনগুপ্ত, মালার্মে, হাইনরিখ হাইনে, ভেলেরি, মার্সেল প্রুস্ত, বোঁদলেয়ার, কাহ্‌লীল জীব্‌রান, পাবলো নেরুদা, আলেকজান্ডার পুশ্‌কিন, মায়াকোভস্কী, সর্গেই ঈয়াসিনীন, লোরকা, মিরোস্লাভ হোলুব’সহ পৃথিবীর তাঁবৎ বাস্তববাদী ও পরাবাস্তববাদী কবি কবিতা নিয়ে তাঁদের হাজারো ভাবনার কথা বলে গেছেন অকপটে, নানা অনুষঙ্গে। ‘বাঁশবনে তালকানা’র মতো অবস্থা হবে পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘কবিতার ঘর ও বাহির’ গ্রন্থে কবিতার অজস্র সংজ্ঞার জটলা দেখে। মুশকিল হয়ে যায়, কোন্‌টা ফেলে কোন্‌টা রাখি! কোনোটাই কিন্তু ফেলে দেয়ার মতো নয়!

কবিতার সংজ্ঞার শেষ নেই। পৃথিবীতে অনন্তকাল রচিত হবে কবিতা, আবৃত্তি হবে, শ্রুত হবে কবিতা। কবিতা-অনুরাগী, কবিতা-স্রষ্টা দিয়ে যেতে থাকবেন নিজেদের বোধ ও অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ অন্তহীন সংজ্ঞা । কবি না বলে কবিতা-স্রষ্টা বললাম। কারণ, কবিতার বিপরীতে অবস্থান যার, সেই বিজ্ঞানের সাধকরাও কবিতা রচনা করে গেছেন, নতুন সৃষ্টির আনন্দে। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর ‘অব্যক্ত’ বস্তুত গদ্যরীতিতে কবিতা সৃষ্টি মাত্র। তাছাড়া, পৃথিবীতে এ পর্যন্ত বহু গবেষক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী একেকটি উদ্ভাবনকে অক্ষয় করে রাখতে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন কবিতায়। রবার্ট কক্‌ কলেরার জীবাণু আবিষ্কার করার পর উত্তেজনায় কবিতা লিখে ফেলেছিলেন। ওয়াস্টাস একজন গণিতবিদ হয়েও বলেছেন- ‘একজন গণিতবিদ অংশত কবিও’।

ওমর খৈয়াম গনিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী হয়েও পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন ‘রুবাইয়াৎ’ সৃষ্টি করে। মাইকেল এ্যাঞ্জেলোর সৃজনশীলতা, ভাষ্কর্য আর চিত্রকর্মের মধ্যেই থেমে থাকেনি বরং স্ফূর্তি ও পূর্ণতা পেয়েছে নানা সময় বিক্ষিপ্ত কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে। র্যঁ দার ভাস্কর্যে, প্যারীতে ল্যুভ্‌র মিউজিয়ামে রক্ষিত অসংখ্য চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্যে, অজন্তা-ইলোরার গুহা-চিত্রে, আমরা তো কবিতারই ছন্দময় রূপই খুঁজে পাই। কবিতা আর শিল্পের অন্যসব শাখার মধ্যে সীমারেখা খুঁজতে যাওয়া অনেকটাই বৃথা মনে হয়। এত কবিতা, গান আর গদ্যরচনার পরেও অতৃপ্ত রবীন্দ্রনাথ পড়ন্তবেলায় হাত দিয়েছেন ছবি আঁকায়। ‘শান্তিনিকেতন’ নিজেও কি তাঁর কাব্যচেতনার বস্তুময় রূপ নয়? ‘শ্রীনিকেতনে’ তিনি গান চালু করেছিলেন- ‘আমরা কাজ করি ভাই কাজেরই আনন্দে’! কবিতার সঙ্গে কাজ আর আনন্দেরই সম্পর্ক। কাজ যতক্ষণ জীবিকার দাসত্বের শেকলে বাঁধা পড়ে থাকছে, ততক্ষণ সেখানে কবিতা ও শিল্পের জন্ম সম্পূর্ণ হচ্ছেনা । সম্পূর্ণ হবে সে শেকল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার পরেই।

এসে গেল শিল্পের জন্ম-কথা। কবিতা হচ্ছে শিল্পের শিল্প, সেরা শিল্প। তার সৃষ্টি আনন্দ থেকে। আর, আনন্দের সৃষ্টি যন্ত্রণা ও বেদনা থেকে। যন্ত্রণা-বেদনা ও রক্তক্ষরণ ছাড়া কোনো সার্থক সৃষ্টিই সম্ভব নয়, হতে পারে না। মহা-কবি বাল্মিকীর (দস্যু রত্নাকর) প্রথম শ্লোকও গভীর বেদনাবোধ থেকেই উৎসারিত ও উৎকলিত হয়েছিল-
‘ মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বম গম সাশ্বতী সমা
যৎ ক্রৌঞ্চ মিথুনাদেকমবোধি কামমোহিতম্‌’ !

কথা শেষ করে দিই, শেষ কথাগুলো বলে। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে শেলির পকেটে ছিল কীটস্‌-এর কবিতার বই। চে’ গুয়েভারার অন্তিম মুহূর্তেও প্রেরণা এবং পরিতৃপ্তির বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে হাতের মুঠোয় ধরা ছিল তাঁর নিজের লেখা কবিতার বই। মার্কস্‌ বছরে একবার করে ‘এস্কাইলাস’ পড়তেন। লেনিন এক সময়, মায়াকোভস্কির কবিতা থেকে রাষ্ট্র-পরিচালনার শিক্ষা নিয়েছেন! মাও সে তুং কবিতা লিখতেন, আবার সিরাজ সিকদারও লিখতেন! কবিতা লেখা ছাড়া বিপ্লব আর প্রেম হতে পারে না। কবিতা না থাকলে বিপ্লব আর প্রেম দূর দিয়ে পালিয়ে যায়, আঙিনায় আসে না! স্পেনের বিপ্লবী কবি লোরকা প্রাণ দিয়েছেন ফ্রাঙ্কোর ঘাতক বাহিনীর হাতে। ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে অংশ নিতে গড়ে উঠেছিল ‘আন্তর্জাতিক লেখক ব্রিগেড’। পৃথিবীর এক ঝাঁক কবি, শিল্পী, লেখক সেই ‘ব্রিগেডে’ যোগ দিয়ে অস্ত্র হাতে লড়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে রক্ষার জন্যে। তার মধ্যে আছেন- কডয়েল, র্যা লফ্‌, ফক্স প্রমুখ। লড়েছেন অমর কথাশিল্পী হেমিংওয়ে। চল্লিশের দশকে, আমাদের দেশেই ফ্যাসিবিরোধী প্রতিরোধে অংশ নেওয়ার সময় নৃশংসভাবে খুন হন, তরুণ কথাশিল্পী সোমেন চন্দ। দিল্লীতে, গণ-নাট্যশিল্পী সফদর হাসমীকে পথ-নাটক করার সময়ে এস্টাবলিশমেন্টের ঘাতকেরা হত্যা করে নৃশংসভাবে।

শ্রেষ্ঠ শিল্পী, শ্রেষ্ঠ কবি, সেরা কবিতা ও সেরা শিল্প হচ্ছে অকুতোভয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় ও কল্যাণের স্বপক্ষে। শোষণ-বঞ্চনা, হিংস্র সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে থাকতে হয় কবিকে, সব শিল্পীকে, শিল্পের সাধককে। হতে হয় সত্য ও সুন্দরের পূজারী। ‘সমাজ বিপ্লব’ হচ্ছে শুধু বিজ্ঞান নয়, শিল্পও। আর, বিজ্ঞানের মতো শিল্পেরও আরাধ্য এবং স্বপ্ন হচ্ছে-মানব সভ্যতার চরম উৎকর্ষ সাধন। মানুষের জন্য সবচাইতে সুন্দর ও সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও আনন্দদায়ক এবং সবচাইতে কল্যাণকর বিশ্বভূবন গড়ে তোলাই শ্রেষ্ঠ শিল্প তথা কবিতার লক্ষ্য। তার মধ্যেই নিহিত রয়েছে সকল সৎ ও মহৎ কবির কবিতার ও তার স্রষ্টার দায় এবং মুক্তি। 

লায়লা আফরোজ, আবৃত্তিকার, শিল্প-সাহিত্যের পর্যালোচক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক।