ভিন্ন রণ-অভিজ্ঞতা হইতে আসি
জু য়ে ল মা জ হা র, শনিবার, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১২


[[ও হে, মানুষের ভালোবাসার চোরসকল, যে তোমরা আমা হইতে উত্তম, সেই তোমাদিগের প্রতি অসমাপ্ত রূপে-- নিবেদন করি--ভয়ে-- এই পংক্তিসকল।আমেন]]

এই বাঙ্মময় পংক্তিসকলকে---যাহা অপরের---আমি ঈর্ষা করি!

তৎহেতু, গোপনে, একাগ্রচিত্তে,
তাহার না-দেখা বার্লিক্ষেতের ছায়ায়,
তৃণ-আড়ালে বসিয়া, ক্রমাগত, আপন খড়্গ শানাই!


অপরের হস্তলালিত আর গৃহলালিত হে, পংক্তিসকল!

তোমাদিগের রচয়িতা যে-শাহানশাহ, আর যে তোমাদিগের পালয়িতা
সমূহ বিনাশ----এই আমাহস্তে! অব্যর্থ আর কঠোর, আর তোমরা অপারগ হইবে আপনাকে রক্ষায়। যতক্ষণ লাবণ্য তোমাদের ঘিরিয়া রহে --- তাহা উবিয়া যাইবে! কর্পুরের ন্যায়। কিন্তু আমি, মেঘ-বিদারক আমি বজ্রের গুরু আর তাহার পালয়িতা।
পর্বতের ন্যায় ---বজ্রহাতে! চূড়ায়!

বরফসমেত আমি রূঢ়-শীতল!চূড়ায় বজ্র হাতে মৌন আর সদানিম্নগামী প্রপাতের নির্ঘোষসহ বিরাজি করি ----লৌহ-শলাকাসহ ---এমত ভাবি। আর আমার ভাবনা সত্য--- চৈত্রদিনে সূর্যের ন্যায়, যাহা আয়নার ভিতর বর্ণকে পাঠায় তার গরিমাসহ--- সকল রঙের আধার আর বিচ্ছুরক, আর যে উদয়াস্তের রূপকার ---সেই সূর্য আমার ললাটশোভা----দিবাভাগে!

আমি চক্ষু নিবদ্ধ করিয়াছি অসীম তিতিক্ষায় তোমাপানে! আর তোমার নধরকান্তি পালয়িতার বক্ষপিঞ্জরের দিকে---- ক্রুর বাজপক্ষীর ন্যায়!
মম ঈগলচঞ্চুপ্রতিমানাসিকা--দূর হইতে---শিকারের প্রতি ধাবিত----তোমাপানে। আর তোমরা নিমেষেই ছিন্নভিন্ন! আর অজস্র বাজের ভক্ষ্য তোমরা আর তোমাদিগের নগ্ননধরকান্তি পালয়িতা--- আর আমি বাজের পালয়িতা। সকল পক্ষবিধূনন আমার। কেননা আমি সর্বগামী, আর আমার খরবেগ নদীতটের অতি সন্নিকটে তোমাদিগের বসতি;
বৃক্ষ আর পত্রশোভিত, সৌন্দর্যলালিত গৃহের অলিন্দে তোমাদের দেখি; আর আমি ধাবন করি ধীরে ---যেমতি শশকের প্রতি ধাবিত বাজপক্ষী। আর আমি পাঠাই তাহাকে---ক্রুর বাজপক্ষীকে তাহার বক্র নখরসহ, যে তাহার অক্ষিগোলকের ভিতরে এক শীতল চাহনি ---আর যাহা তোমাদিগের প্রতি আর তোমাদের পালয়িতার প্রতি নিবদ্ধ! আর, অবধারিত তোমাদিগের বিনাশ।

যে তোমাদের পালয়িতা---যে শাহান শাহ ---তাহার বিনাশ--অবধারিত --এই আমাহস্তে। জানিবে!


আর তাহা সত্য!
আর স্বচ্ছ তাহা,
---দিবালোকের ন্যায়;

তাহা অবধারিত! জিমুতে বজ্র যেমতি!


আইস, তোমাপানে এক্ষণে পাঠাই
প্রাচীন ব্যাধজাতি কিরাতগণের
অব্যর্থ অস্ত্রের ন্যায়, লক্ষ্যনির্দিষ্ট শব্দসকল
যাহা আমারচিত আর সুন্দর

আর, আমি তাহাদিগকে পাঠাই তোমার বক্ষের নিশানায়!
তোমার আর তোমার পালিয়িতার পৃষ্ঠদেশের দিকে
চরম রূঢ়তায় আর, পরম অনুরাগের সহিত!!

তুমি আমার শত্রু; তথাপি আমি পরমাত্মীয় তোমার।--- অতএব, আমি
গরলেরে অমৃত করি, আর অমৃতেরে গরল।

আর, ইত্যবসরে মৎরচিত শব্দসকলকে পাঠাই
তোমাসকাশে,--- তোমার বক্ষের দিকে!
পরম যত্ন আর অনুরাগের সহিত!

----কিরাতগণের ন্যায়!

জানিও, রণদামামার ভিতর মুহূর্মুহূ যে জাগিয়া ওঠে---অন্য কেহ নহে-- সে আমি।
জানিও, যখন রণলিপ্ত তখন স্বজনহন্তা আমি ---তথাপি, ইহাই কর্তব্য আমার!
প্রেমাস্পদ আমি হননের।
লোহার বাসরঘরে কালিদহে, সাঁতালি পর্বতে দ্বিভাঁজ জিহ্বা লইয়া
গোপন ছিদ্রপথে-পথে যে আসে, সে-ই আমি!

আর জানিও, রণবাদ্যের ভিতর যে ফুল্ল আর অনির্বচনীয়--- সে আমি;
আর, অসিসঞ্চালন-মুহূর্তেও কপালে শিশুর চুম্বনের স্মৃতি আর
বিষাদ লইয়া যে---সে আমি!


আর, আমার অভিন্ন আনন তোমাদের সকলের আনন লইয়া
বহুরূপে ঘুরিতেছে ---শোভাদারুণ বহু-বহু রূপে:

আর, ভীষ্ম--- যে ছিল অভেদ্য--- শরশয্যায় সে এখন নিথর-- ---আর পরমাত্মীয় সে আমার;
তথাপি ইহাই আমার কর্তব্য যে, তাহাকে বধ করি---পরম আদরের সহিত----আর সহস্তে!

কিন্তু কেন এমত হইল যে, সহসা, চক্ষু জ্বালা করিয়া উঠিল, আর আমি অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া লইলাম?

একনিমেষমাত্র! বৈকল্য হইল। কিন্তু পরক্ষণেই আমাতে ফিরিয়া আসি আমি; আর ফিরি
আমার রণকর্তব্যের প্রহরায়! কেননা ক্ষত্রিয় আমি !

কেননা পাষাণে রচিত আর শীতল আমি। আর, আমার সুপ্রাচীন দৃঢ় বক্ষপিঞ্জর অভেদ্য; আর তাহাতে সুরক্ষিত যে-হৃদয় তাহা, কে না জানে, গ্রানিটে নির্মিত! তথাপি, ক্ষণকালের তরে, কেন কাঁপিয়া-নড়িয়া উঠিল সে
কলিঙ্গের রণময়দানে রাজা অশোকের ন্যায়?


অত:পর আমি তাহাকে---- আমার সহসা-অবাধ্য হৃদয়কে---যে ভূবনাধিপতি সেকান্দরের পিতা, মাকিদোনিয়ার রাজা ফিলিপের তেজি অশ্ব বুকিফেলাসের মতো--- অবাধ্য , তাহাকে থামাই। --আমার ক্ষণবিচলিত হৃদয়কে!

কেননা, ইহা আমায় সাজে না। কারণ ক্ষত্রিয় আমি!

অতএব, প্রেম নহে, হাস্য করুণা কিংবা অশ্রু নহে, আমার রহিয়াছে কর্তব্য আর ক্ষাত্রতেজ!

ইত্যবসরে দিবস আইসে আর দিবস চলিয়া যায়, আর আইসে আর চলিয়া যায়
আমার রণবাদ্য সদা বাজিয়া চলে! অজস্র মেঘবাহিনীর ন্যায়!!


আর বিলক্ষণ জানিও,
একদা সকল মরালগ্রীবা, সকল প্রশস্ত আর উঁচু স্কন্ধের গরিমা
আমার বাণে বিদ্ধ হইবে! আর লুটাইয়া পড়িবে
হেক্তরের ন্যায়!
----ধূলিতে!!


হেকুবার আর্তনাদের মতো
অফুরান দিবস আর রাত্রি!

আর, তোমাদিগের হৃতযৌবন জনয়িতাকে, দ্যাখো,
পরাজয়ে নতদৃষ্টি আর ভূপাতিত; ধূলিলাঞ্ছিত আর করুণ,
জরদ্গব তোমাদের পালয়িতাকে দ্যাখো:

---উল্টাইয়া পড়া কিস্তিসহ!------তীরে!!


ইহাই ঘটিবে,
আমি বলিতেছি,
ইহা অবধারিত,
আর ইহা সত্য!!



আমি ছিন্নবস্ত্র, তথাপি, ক্রম-উজল হে!
সরোবরে দীর্ঘগ্রীব মরালের ন্যায়
আমি শাহান শাহের শাহান শাহ!
সদানিবিষ্ট আর স্থিরদৃষ্টি
ধাবনশীল আপন লক্ষের প্রতি----আর,
তোমাদিগের জনয়িতা আমার সদালক্ষ্য, ---আমার নির্মম নখরবর্তী---সদা।
ষণ্ডের চোখের মণি যথা! যাহাকে নিশানা করিয়াছিল অর্জুন, সেই ষণ্ডের
ডাগর চোখের মণির প্রতি যথা,----সদা রিরংসু অমি!

তোমাদের জনয়িতা একমেবাদ্বিতীয়ম নিশানা আমার; আর ভক্ষ্য--- আমার অসীম ক্ষুধার!




আর, আমি তাহার দুশমন;
আর, সখা আমি তাহারই!

আর জানিবে উভয়ের ক্ষেত্র একই----তাহার আর আমার---- তথাপিও,


উভয়ে ভিন্ন ভিন্ন রণ-অভিজ্ঞতা হইতে আসি !!!


[[২৯-৩০ আগস্ট, ২০১২। মালিবাগ চৌধুরিপাড়া, ঢাকা]]