সুন্দরবনই আমরা। আমরাই সুন্দরবন।
কল্লোল মুস্তাফা , সোমবার, জুন ০৩, ২০১৩


“তারা পাহাড় থেকে পাথর ছিনিয়ে নিতে চায়। কিন্তু তাহলে আমরা বাচবো কিভাবে? আমরা পানি পাবনা, বৃষ্টি পাবনা। আমরা স্রেফ মরব। ঐ পাথর গুলো আমাদের আত্মা। আমরা আত্মা হারাব। নিয়ামগিরি আমাদের আত্মা।“- ভারতের নিয়ামগিরি পাহাড় থেকে বক্সাইট পাথর উত্তোলণের বিরোধীতা করে এই কথাগুলোই বলেছেন পাহাড়ের আদিবাসীরা।

প্রযুক্তি পূজক আধুনিকেরা হয়তো মনে করতে পারেন, এহ! কি শিশু সুলভ কুসংস্কার এদের! পাথর থেকে নাকি পানি হয়, বৃষ্টি ঝরে!

কিন্তু প্রযুক্তি পূজকের দলের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, এই ‘শিশু সুলভ কুসংস্কারের’ আড়ালে কি দারুণ প্রকৃতি জ্ঞান ও বোধ কাজ করছে।

একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, বক্সাইটের স্তর আসলে বর্ষা মৌসুমে পানি ধরে রাখে যা সারা বছর বছর ধরে চুইয়ে স্রোত ধারা হিসেবে পাহাড় থেকে প্রবাহমান থাকে। পাহাড় থেকে বক্সাইট পাথরগুলো সব সরিয়ে ফেললে এই পানির ধারা শুকিয়ে যাবে। তাছাড়া মাটি উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে ভূমিক্ষয় হবে, গাছ-বনাঞ্চল নষ্ট হবে, যা বৃষ্টিপাতের উপরও প্রভাব ফেলবে। এই কারণেই বক্সাইট ঐ পাহাড়ারের আদিবাসীদের আত্মা, বক্সাইট পাথরগুলো এত ‘পবিত্র’!

প্রযুক্তির কুসংস্কারে আচ্ছন্ন আসলে ঐ আধুনিক অস্থির ক্ষীণদৃষ্টি সম্পন্ন মুনাফাবাজ খনি-ওয়ালারাই যারা স্রেফ টাকার লোভে পাহাড় উন্মুক্ত করে ফেলতে চায়। শিশু সুলভ অজ্ঞানতা ঐ উন্নয়ণবাদীদেরই- যারা মনে করে যে কোন অর্থ মূল্যে পরিবেশ ও জীবনের বিপর্যয়ের 'ক্ষতিপূরণ' করা যাবে!

সুন্দরবনও আমাদের আত্মা। সুন্দরবন না থাকলে আমরাও বাচবো না। বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট হাজারটা বানানো যাবে। কিন্তু সুন্দরবন একবার ধ্বংস হলে কোন অর্থ মূল্যেই তা আর ফেরত পাওয়া যাবে না।

কোন প্রযুক্তি পূজক, প্রযুক্তির কুসংস্কারে আচ্ছন্ন মুনাফাবাজের চক্রান্তেই সুন্দরবনের গাছ পালা মেরে, পানি-বাতাস দূষিত করে, হরিণ শিশুর ফুসফুসের অসুখ বানিয়ে, বাঘগুলোকে তাড়িয়ে দিয়ে, জেলে-মৌওয়াল-বাওয়ালিদের জীবিকা ধ্বংস করে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প আমরা করতে দেব না।

প্রতিরোধ করবই। চিরসবুজ সুন্দরবনকে বাচাতে আমরা গড়ে তুলবো প্রতিরোধের চিরসবুজ দেয়াল। ব্যারিকেড দেব সবুজ ফিতার। আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দিন শেষ, এখন দিন জনগণের প্রতিরোধের সবুজ ফিতার, প্রতিরোধের সুবজ দেয়ালের। কারণ-

সুন্দরবনই আমরা। আমরাই সুন্দরবন।
সূত্রঃফেসবুক