শিবির হত্যার শিকার জামিল আকতার রতনের ২৫ তম মৃত্যু বার্ষিকী
রিয়াদ আনোওয়ার শুভ , রবিবার, জুন ০২, ২০১৩


গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি শহীদ জামিল আকতার রতন ভাইকে, তাঁর ২৫ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে। ১৯৮৮ সালের ৩১ মে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র মৈত্রীর নেতা জামিল আকতার রতনকে প্রায় ৩৫ জন শিক্ষকদের সামনে হুইসেল বাজিয়ে হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে শিবির সন্ত্রাসীরা।

বেইমান, ঠাণ্ডা মাথার খুনী জেনারেল জিয়ার আমলে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে এবং পরবর্তীতে স্বৈরশাসক এরশাদের ছত্রছায়ায় লালিত পালিত ইসলামী ছাত্র সংঘের বাংলাদেশী ভার্সন ছাত্র শিবির আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে নামে তাদের শক্তি প্রদর্শনে। ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫ নম্বর কক্ষে শিবিরের কর্মীরা ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হেসেনকে জবাই করে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে হাত পায়ের রগ কেটে হত্যার রাজনীতির সূচনা করে শিবির। এর পরে ১৯৮৬ সালে চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল হামিদের হাত কেটে নিয়ে কর্তিত হাত বল্লমের ফলায় গেঁথে তারা উল্লাস প্রকাশ করে এবং নৃশংস রূপে আবির্ভূত হয় শিবির। ১৯৮৭ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজে জাতীয় ছাত্রলীগ (বাকশাল) নেতা আব্দুস সবুরেরও একই কায়দায় হাত কেটে নেয় শিবির শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সামনে। ১৯৮৮ সালের ৩১ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মেইন হোস্টেলের সামনে, কলেজের প্রিন্সিপাল ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ ও শত শত শিক্ষার্থীদের সামনে ছাত্র মৈত্রী নেতা ডাক্তার জামিল আক্তার রতনকে কুপিয়ে ও হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করে শিবিরের ক্যাডাররা। রতন হত্যার কয়েকদিন পরেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাসদ নেতা জালালকে তার নিজ বাড়ীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করে শিবির ক্যাডাররা। ১৯৮৮'র জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে বহিরাগত শিবির ক্যাডারদের হামলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমির আলী হল ছাত্র সংসদের জিএস ও জাসদ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স সহ ২০-২৫ জন আহত হয়। ১৭ জুলাই ভোর সাড়ে চারটার দিকে এস এম হলে বহিরাগত শিবির ক্যাডাররা হামলা চালায় এবং জাসদ ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি ও সিনেট সদস্য আইয়ুব আলী খান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য আহসানুল কবির বাদল এবং হল সংসদের ভিপি নওশাদের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটে শিবির ক্যাডাররা মুনির, জুয়েল ও তপনকে বর্বর ভাবে হত্যা করে। ১৯৯২ সালে রাজশাহীতে হত্যা করে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা পিটু, জাসদ নেতা মুকিমকে।

বাংলাদেশ থেকে জামাত শিবিরের শিকড় উপড়ে সমূলে উচ্ছেদ করতে হবে। গত ৫ ফেব্রুয়ারী কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গণজাগরণ বাংলার তরুণ প্রজন্মকে আন্দোলিত করেছে। বরাবরই রাজনীতির আগে পিছে না থাকা হাজারো তরুণ যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামাত ও তাদের দোসর হাত কাটা, রগ কাটা ছাত্র রাজনীতির জনক ছাত্র শিবিরকে ঘৃণা করে, তারা নেমে এসেছে এদের প্রতিরোধে, এদের বিচারের দাবীতে। এদের রাজনীতি করার অধিকার নিষিদ্ধ করার দাবীতে। অবশ্যই এই বাংলায় ঐ সব রাজাকার আলবদরদের বিচার এবং বিচারের রায় কার্যকর করা হবে, নিষিদ্ধ হবে জঙ্গিবাদী রাজনীতি। কারণ, তারুণ্যের এই জাগরণ কখনই বৃথা যেতে পারে না, এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। তবে এই চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে চাই, দলমত নির্বিশেষে রাজাকারের বিচার প্রত্যাশী সকল প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তির সুদৃঢ় ঐক্য। বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আসুন শহীদ শাহাদত, রতন, চবি'র ফারুকুজ্জামান ফারুক, রাবি'র পিটু, রিমু, তপন, নূতন, বিশ্বজিত, ফারুক, রাজশাহীর মুকিম, সিলেটের মুনির, জুয়েল, তপনদের হত্যাকারী স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যবদ্ধ থাকি শেষ পর্যন্ত।

শহীদ জামিল আকতার রতন ভাইয়ের মৃত্যু বার্ষিকীতে এটাই হোক আমাদের দৃপ্ত শপথ। শহীদ জামিল আখতার রতন ভাই এর স্মৃতি চিরজীবী হোক, রতন ভাই লাল সালাম।
সূত্রঃফেসবুক