হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে
ডা. ইমরান এইচ সরকার, মুখপাত্র, গণজাগরণ মঞ্চ , সোমবার, মে ২৭, ২০১৩



ইতিহাসের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসছেন ছায়া মানবীরা। তাঁরা গল্প শুনাবেন, শুনাবেন একাত্তরের মহার্ঘ ইতিহাস। ছাপ্পান হাজার বর্গমাইলের মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন সঞ্চালক। পাঠ করলেন ইতিহাসের ইশতেহার। তিনি জানালেন- আজ পুনর্বার পঠিত হবে সেইসব ইতিহাস, যা রচনা করেছিলো হায়েনারা, বিকৃতি সংরক্ষণের জন্য রাখা হয়েছিলো কালো ডিপফ্রিজে।

প্রথমেই মঞ্চে আসলো বেঈমান মোশতাক। ঘোষণা দিয়ে অপমান করলো আমার মুক্তিযুদ্ধকে। তোয়াহা ও তার মতাদর্শের লোকেরা মুক্তিযুদ্ধকে বললো ''দুই কুকুরের লড়াই''। এরপর এলো যুদ্ধাপরাধী নিজামী। 'সংগ্রাম' পত্রিকার সম্পাদকীয়তে ঘেউ ঘেউ ভাষায় লিখলো - মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় চর, ইসলাম বিদ্বেষী’। এরপর জামায়েতী ইসলাম, ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমান ইসলামী ছাত্র শিবির), চীনপন্থি দালালেরা, মার্কিনপন্থী সারমেয়রা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্থ করতে প্রতিনিয়ত মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ছড়িয়েছে, এক কথায় প্রোপাগান্ডা সন্ত্রাস চালিয়েছে। তবুও বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করেছে, অর্জন করেছে স্বাধীনতা।

একইভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি নিয়ে যখন শহিদ জননী আন্দোলন শুরু করেছেন তখনও চলেছে অসুস্থ প্রোপাগান্ডা সন্ত্রাস। আমাদের প্রাণের বাংলাদেশে শহিদ জননীকে চলে যেতে হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা মাথায় নিয়ে। আজ যখন সেই একই আন্দোলনের উত্তাপ বহন করে চলছি সুনির্দিষ্ট ছয়দফা দাবি নিয়ে, তখনও প্রোপাগান্ডা পিছ ছাড়ছে না। জামাত-শিবিরের অশ্লীল প্রোপাগান্ডার সাথে যোগ হয়েছে মার্কিন, ব্রিটিশ, জার্মান প্রোপাগান্ডা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভেকধারীরা যতোই ইতিহাসের দায় শোধের বক্তিমা কপচাক, তারা দেশে এসে কখনোই মুখোমুখি হয় না জামাত-শিবিরের সন্ত্রাস মোকাবেলায়। এমন কি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় একদিন যাঁর লেখা থেকে দু পয়সার রুটি রুজির বন্দোবস্ত করেছিলো এইসব প্রোপাগান্ডা সন্ত্রাসীরা, তাঁর সম্মানহানীতেও এতোটুকু পিছ পা নয় এরা। মনে পড়ে, একদিন অনলাইনের এক অনন্য মুক্তিযুদ্ধ গবেষকের মেধার বলেই কতো সর্বশান্তরা এখন নানা তরিকার দেওয়ান হয়ে উঠেছে অথচ যখন সেই গবেষক, সত্য উঠোনে পা রাখলেন, যখন সেইসব প্রোপাগান্ডা সন্ত্রাসীরা দেখলো, রুটিরুজির পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখনই চরিত্র হননের চেষ্টায় কুৎসিত হয়ে উঠলো। সত্যিই সেলুকাস! কী বিচিত্র এ টার্মিনেটিং ভালোবাসা।
.........

উপরের কথাগুলো বলছিলেন আমার এক পুরোনো বন্ধু। বহুদিনের বহু ওপার থেকে যেনো তিনি বলে চলছিলেন তাঁর মনের কথাগুলো। অনেকটা গল্পের মতোই, কিংবা গল্পের চেয়েও বেশি। তাঁর কথা শুনে আমি ভাবছিলাম, প্রতিরাতে আমিও ঘুমুতে যাই পরেরদিনের কোনো ভয়ানক প্রোপাগান্ডার কথা ভাবতে ভাবতে। আমার দিনটাই শুরু হয় প্রোপাগান্ডা সন্ত্রাসের ভয়াবহ করালগ্রাসে। পরিচিত গল্পকথক বন্ধুটি তখন চলে যাবার আয়োজন করছেন। আমি তাঁর দিকে চেয়ে রইলাম। বড়ো শান্ত, বড়ো স্থির তাঁর চোখের দৃষ্টি। আমি জানতে চাইলাম, আমার কী করা উচিত? তিনি কোনো উত্তর দিলেন না, কেবল হেঁটে চলে গেলেন।

তখন রাত্রি বেশ। পাবলিক লাইব্রেরিতে হাসনাহেনারা মিছিল তুলেছে- হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে, দেখা হবে তোমার আমার অন্য গানের ভোরে।