যুদ্ধজয়ী 'জয় বাংলা' স্লোগান এতটাই তীক্ষ্ম ও প্রখর যে তা বাঙ্গালীর প্রতিটি সময় কিংবা অসময়েই হাজির হয় তার ধ্রুব শক্তি নিয়ে।
ডা. ইমরান এইচ সরকার, মুখপাত্র, গণজাগরণ মঞ্চ , রবিবার, মে ২৬, ২০১৩


মুক্তিযুদ্ধের সময় 'জয়বাংলা' স্লোগানটি ছিল খুবই জনপ্রিয়। আমাদের অকুতোভয় মুক্তি সেনারা রণাঙ্গনে এই স্লোগান উচ্চকিত করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তো। স্লোগানটি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন উজ্জীবিত করতো, তেমনি স্বাধীনতাবিরোধীদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতো। স্বাভাবিকভাবেই স্বাধীনতাবিরোধী ও তাঁদের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের কাছে স্লোগানটি ছিল অপাংতেয় ও বিষময়। স্লোগানটিকে বিতর্কিত করার জন্য তারা নানা ধরনের মিথ্যা প্রচারণা চালাতো।

দৈনিক সংগ্রাম ৩০ অক্টোবর ১৯৭১, 'বিভ্রান্তদের চেতনা ফিরে আসুক' শিরোনামে সম্পাদকীয় পাতায় 'জয় বাংলা' স্লোগানকে আক্রমণ করে ও মুক্তিবাহিনীকে 'হিন্দু বাহিনী' আখ্যা দিয়ে নিম্নোক্ত খবরটি ছাপেঃ

'সব মুসলিম ভাই ভাই'- এর পরিবর্তে 'বাঙালী বাঙালী ভাই ভাই' স্লোগান তুলে যারা বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রচার করছিল, পাকিস্তান জিন্দাবাদের পরিবর্তে যখন জয় বাংলার ধ্বনি তোলা হচ্ছিল, তখনই দেশের সচেতন মহল এর পরিণতি সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিয়েছিলেন, বলা হয়েছিল, এ স্লোগান সীমান্তের ওপার থেকে বিশেষ উদ্দেশ্যে আমদানী করা হয়েছে, সেদিন আমরাও একাধিক সম্পাদকীয় নিবন্ধের সাহায্যে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলাম।
মুক্তি বাহিনীর নামে যারা সম্প্রতি প্রদেশে ধ্বংসাত্বক কাজে লিপ্ত রয়েছে, বহু বিদেশী তথ্য থেকেও এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, এতে কিছু বিভ্রান্ত মুসলমান যুবক থাকলেও আসলে এটা হিন্দু বাহিনী।
সুতরাং এ মুহুর্তে দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি পাকিস্তানির ধর্মীয়, নৈতিক ও নাগরিক কর্তব্য হলো নিজেদের স্বার্থেই এ বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা করা।

গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলন শুরু করবার পরও যখন সারাদেশ 'জয় বাংলা' রণধ্বনিতে মুখোরিত হলো এর তীব্র শব্দ বুলেটেই ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ওই স্বাধীনতাবিরোধী আর অপশক্তিদের মনোবল।
তাই যুদ্ধজয়ী 'জয় বাংলা' স্লোগান এতটাই তীক্ষ্ম ও প্রখর যে তা বাঙ্গালীর প্রতিটি সময় কিংবা অসময়েই হাজির হয় তার ধ্রুব শক্তি নিয়ে।