একুশ শতকেও কেন হেফাজতের মতো দলের মুখোমুখি হতে হয়
মিলু শামস , বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৩




পনেরো শতকের ইউরোপ যে প্রশ্নের মীমাংসা করতে করতে আঠারো শতকে এসে আধুনিক রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল তার মূল সুর ছিল মানবতাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র। আজকের পৃথিবীর বাস্তবতায় এ তিনের সমন্বয় এক প্রশ্নহীন ফেনোমেনা। একে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে হেফাজতে ইসলাম রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্যযুগীয় এক ফর্দ হাতে বেশ কিছু দিন ধরে রাজনীতির মাঠ গরম করছে।

তাদের নাটকীয় আবির্ভাব ও বিকাশ এবং দ্রুত ক্লাইমেক্সে পৌঁছানোয় আধুনিক রাষ্ট্র চিন্তায় অভ্যস্ত মনন হতচকিত ও খানিক বিস্ময় বিহ্বল হলেও এ কথা বুঝতে বেশি সময় লাগে না যে, এ ধরনের উত্থানের পেছনে সমসাময়িক রাজনৈতিক চালবাজি যেমন আছে তেমনি আছে বাঙালী মুসলমানের আধুনিকতা ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতার টানাপোড়নের দীর্ঘ ইতিহাস। আজকের হেফাজতে ইসলামকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ বললে সম্ভবত ভুল হবে না।

আঠারো শতকের ইউরোপ চিন্তাজগতের বিপ্লব অর্থনৈতিক ও বুর্জোয়া বিপ্লবের সম্মিলিত আলোয় যেভাবে জেগে উঠেছিল তার আভা উপনিবেশ শাসিত ভারত বর্ষেও পৌঁছেছিল। কিন্তু তাতে বাঙালী হিন্দু সমাজ আলোকিত হলেও মুসলমান সমাজকে তা স্পর্শ করেছে অনেক পরে, আঠারো শ’ সাতান্নর সিপাহী বিদ্রোহের পর। এতকাল পর তারা ব্রিটিশ শাসকদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করলেন, সেই সঙ্গে ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব। ততোদিনে ‘ইয়ংবেঙ্গল’রা তোলপাড় তুলে সমাজ সংস্কারসহ ইংরেজি শিক্ষা প্রায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যার প্রভাব পড়ছিল মাতৃভাষাতেও। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সেসময় এগুচ্ছিল দুর্দান্ত গতিতে। শহর- গ্রাম অভিজাত- নিম্নবর্গ সবার ভাষা বাংলা হওয়ায় বাংলা ভাষার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিকশিত হয়েছিল সহজে। মুসলমানদের মধ্যে ‘আশরাফ’ ‘আতরাফ’ এর বিভাজন ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে প্রচন্ড বাধা সৃষ্টি করেছিল। শহুরে আশরাফদের ভাষা ফার্সি আর গ্রামীণ আতরাফদের ভাষা বাংলা হওয়ায় সম্ভবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ও বিভাজিত হয়েছিল । তার ওপর ধর্মীয় রক্ষণশীলতা তো ছিলই। হয়ত সেজন্যই উনিশ শতকে মুসলমানরা ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব উপলিব্ধি করলে ও শিক্ষার একটি ধারা পেছনমুখী রয়ে যায়। এ ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মূল ভুমিকা রেখেছিলেন আবদুল লতিফ নামে ব্রিটিশ সরকারের একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং সে সময়ের মুসলমান সমাজের প্রভাবশালী নেতা। ধর্মীয় আবেগ অনুভূতিতে আঘাত লাগার অজুহাতে তিনি গোঁড়ামি ও কুসংস্কারকে সযতেœ লালন ও বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন গতানুগতিক মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে। সমাজ যখন আধুনিকতার তীব্র জোয়ারে এগিয়ে চলার কথা সে সময় তিনি সমাজ সংস্কার করতে চেয়েছেন মূলত ধর্মের ঘেরাটোপে থেকে। তিনি গতানুগতিক মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসারের পক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের জন্য সবচেয়ে সরব ছিলেন তিনি। কিন্তু চিন্তায় এক অদ্ভূত বৈপরীত্য নিয়ে তিনি চাইতেন মুসলমানরা ইংরেজি ভাষায় শিক্ষিত হবে ঠিকই কিন্তু পাশ্চাত্য আধুনিক চিন্তা ধারায় প্রভাবিত হবে না।

এর প্রচন্ড বিরোধিতা করেছিলেন ইংরেজি শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত সংস্কারবাদী নেতা সৈয়দ আমির আলী। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা তুলে দিয়ে আধুনিক ইংরেজি ও কারিগরি শিক্ষা চালু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রক্ষণশীলতার কাছে হেরে গিয়েছিলেন। আবদুল লতিফের প্রভাব প্রতিপত্তির কাছে পরাজয় মানতে হয়েছিল তাঁকে। ব্রিটিশ সরকারের নবাব উপাধি পাওয়া আবদুল লতিফ নিজের প্রভাব খাটিয়ে গতানুগতিক মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। ইতিহাসবিদদের মতে, আবদুল লতিফের সক্রিয় তাৎপরতা ও তদ্বিরের জন্যই মুলত বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার সমান্তরালে গতানুগতিক মাদ্রাসা শিক্ষা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা ক্ষেত্রে উদার নৈতিক ও সংস্কারবাধী নেতাদের এই পরাজয় বাংলার শিক্ষা জগতে যে সূদুর প্রসারি প্রভাব ফেলেছিল হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক উত্থান সে কথা মনে পড়িয়ে দেয়। যে ঘরানার মাদ্রাসায় হেফাজতের বিকাশ শিক্ষা মন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী সেই কওমী মাদ্রাসার সংখ্যা দেশে এখন প্রায় বিশ হাজার নয়’শ। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা ওড়ে না। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না। জাতীয় দিবস কাকে বলে এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকরা তা জানে না। শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের কোনো নথিতে এদের অস্তিত্ব নেই। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গেও কোন সম্পর্ক নেই। নিজেদের মতো বোর্ড গঠন করে নিজস্ব কারিকুলামে এরা চলে। আধুনিক শিক্ষা দীক্ষা,চিন্তা-ভাবনার খোঁজ এরা রাখে না। বলার অপেক্ষা রাখে না এই গতানুগতিক মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মননে মগজে আধুনিকতার আলো হাওয়া পৌঁছানোর ভেন্টিলেটর আগে ছিল না, এখনও নেই।

থাকলে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম শর্তে ‘সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন এবং কোরান-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল’ Ñ এ শব্দগুচ্ছ জায়গা পেত না। উনিশ শতকে তারা যেমন নিজ সম্প্রদায়ের বাইরে চোখ মেলার প্রয়োজন বোধ করেনি, একুশ শতকেও তাই। বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রে মুসলমান ছাড়াও যে অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় রয়েছে তা তারা আমলে নিতে রাজি নয়। তারা হয়ত জানেই না বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে সেক্যুলার আদর্শের ওপর ভর করে, যদি বাংলাদেশের শতভাগ নাগরিক মুসলমানও হয় তাহলেই বা সংবিধানে উল্লেখিত ধারা সংযোজন করার প্রশ্ন ওঠে কেন? রাষ্ট্রের চরিত্র তো সেক্যুলার (যদিও চরিত্র হননের কাজটি আগেই হয়ে গেছে। সে অন্য প্রসঙ্গ)। কোরান-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করতে হবে কেন? বাংলাদেশ তো মৌলবাদী ইসলামী রাষ্ট্র নয়। ইসলামের শান্তি ও উদার মানবিকতার ধারাটি এ অঞ্চলে প্রবাহিত। হিন্দুরা কেন কোরান-সুন্নাহ নির্দেশিত আইন মেনে চলবেন? বৌদ্ধ খ্রীস্টান ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বিভিন্ন গোত্রের মানুষদের কি দায় পড়েছে যে তারা এ আইনের আওতায় নিজেদের সমর্পণ করবেন?

আধুনিক রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক বহুল উচ্চারিত সেই উক্তিতেই আছেÑ ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। ধর্মকে অতি রক্ষণশীলতার বর্ম থেকে বের করে যুক্তির আলোয় আনার চেষ্টা ছিল বহু আগে থেকেই। অনেক উদার নৈতিক ইসলামী চিন্তাবিদ যুগোপযোগী করে ইসলামের ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলেন। সেই আব্বাসীয় খলিফাদের সময় একদল মুক্তমনা ইসলামী দার্শনিক ধর্মবিশ্বাসকে যুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রাচীন গ্রীসের যুক্তিবাদী দর্শন ও দার্শনিক এরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যায় তাঁরা গভীরভাবে আলোড়িত হয়েছিলেন। কিন্তু ধর্মের সঙ্গে যুক্তির সমন্বয় তাঁরা করতে পারেননি। বাধা এসেছিল গোঁড়া রক্ষণশীলদের কাছ থেকে। বাংলায় এ কাজ করতে চেয়েছিলেন ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত উদার ও সংস্কারবাদী একদল তরুণ যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৈয়দ আমীর আলী। তিনি ইসলামকে ব্যাখ্যাা করেছেন প্রগতির ধারক হিসেবে। পবিত্র কোরানকে মুক্তমনে পাঠ করার কথা বলেছেন, কোন অনির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাার ওপর ভিত্তি করে নয়। তাঁর পূর্বসূরি উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ খান, যিনি এ উপমহাদেশে মুসলিম জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে ইতিহাস হয়ে আছেন, তিনিও ধর্মের সঙ্গে আধুনিক উদারনৈতিক ও মানবতাবাদী চিন্তাধারার সমন্বয় করতে চেয়েছিলেন। এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশে তিনি সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু বাংলায় সৈয়দ আমীর আলীর উদার নৈতিক চিন্তায় বাধা এসেছিল রক্ষণশীলদের কাছ থেকে। যারা মানুষের চিন্তার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি। এই মৌলবাদী ধারাটিই পৃথিবীময় ইসলাম ধর্মের আগ্রাসী ইমেজ তৈরি করেছে।

মৌলবাদীদের কাছে যুক্তি বা মুক্তবুদ্ধি এবং নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসের বাইরে মানবিকতা বলে কিছু নেই। বিশ্ব এদের কাছে দুভাগে বিভক্ত। এক ভাগে রয়েছে ইসলাম বিশ্বাসীরা অন্যভাগে ‘কাফের’ বা অবিশ্বাসীরা। তাদের মতে, অমুসলমানদের সঙ্গে মুসলমানদের বন্ধুত্বতো হতেই পারে না কোন ধরনের সহযোগিতা এবং সহমর্মিতাও চলে না। তথাকথিত ইসলামী ব্যবস্থা বা ’আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন ‘প্রতিষ্ঠা করা মৌলবাদীদের জীবনের আদর্শ ও লক্ষ্য। এ আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য অমুসলমানদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করাকে তারা ধর্মীয় ও ঈমানী কর্তব্য মনে করেুং। তাদের কট্টর মনোভাবের প্রকাশ অনেক সময় নিজ ধর্মের মানুষদের প্রতিও দেখা যায়। যার উদাহরণ আমাদের চারপাশে রয়েছে।
আমাদের দেশে কট্টর ইসলামী মৌলবাদী দলের তৎপরতার সঙ্গে আমরা পরিচিত। স্বাধীনতার আগে ও পরে ভয়ঙ্কর সব কর্মকা- দিয়ে তারা নিজেদের পরিচয় স্পষ্ট করে রেখেছে। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম নিজেদের দ্বীনের সেবক এবং অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করলেও তাদের মূল প্রবণতা মৌলবাদের দিকে এবং উদ্দেশ্য পুরোপুরি রাজনৈতিক। তাদের অতীত তাই বলে, এখনকার কর্মকা- তো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে তারা আসলে ভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠিত মৌলবাদী দলটির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। মুখে বলে তারা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির বিরোধী কিন্তু তাদের তত্ত্ব ও কর্ম প্রায় শতভাগ জামায়াতের রাজনীতিকে সমর্থন করে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক ও তাদের অর্থে চলার বিষয়ে গত চার এপ্রিল এক দৈনিক হেফাজত নেতা শাহ আহমাদ শফীর কাছে জানতে চেয়েছিল। উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা নব্য জামায়াতবিরোধী, নব্য মওদুদীবিরোধী। এই গোমরাহ গোষ্ঠীর জন্মলগ্ন থেকেই আমরা কওমি চিন্তার আলেম সমাজ তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছি। জামায়াত ও মওদুদীর ইসলামবিরোধী সব তথ্য আমাদের মতো করে আর কেউ এত বেশি জানে না, তাই দয়া করে আমাদের জামায়াতের সঙ্গে তুল না করবেন না। জামায়াত ও মওদুদীর বিভিন্ন প্রকাশনা বন্ধ এবং তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি এ মুহূর্তে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে আমরা করছি না। হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এটি মূলত নাস্তিক মুরতাদ ধর্মদ্রোহী অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে’।

শফী সাহেব জামায়াতের সঙ্গে তাদের তুলনা করার বিরোধিতা করেছেন কিন্তু কাজের বেলা জামায়াত যা করতে চায় তারাও তাই চায়। তারা কোরান-সুন্নাহর আলোকে দেশ পরিচালনা করতে চায়। জামায়াতও তাই চায়। আমাদের মনে আছে, মুক্তচিন্তার বুদ্ধিজীবী শিল্পী-সাহিত্যিকদের নাস্তিক মুরতাদ ধর্মদ্রোহী ঘোষণা করে কারা ব্লাসফেমি প্রিভেনশন এ্যাক্ট চালু করার আওয়াজ তুলেছিল। কারা ভাস্কর্য ভাঙ্গার উদ্যোগ নিয়েছিল। আজ হেফাজতে ইসলামের গলায় সেই একই সুর শোনা যাচ্ছে। শাহ আহমাদ শফী হেফাজতকে অরাজনৈতিক সংগঠন বলেছেন কিন্তু হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহি পনেরোই এপ্রিল জার্মান ডয়েচে ভেলেকে বলেছেন, ‘হেফাজতে ইসলাম চায় দেশে ইসলামী শাসন কায়েম হোক। বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র, কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র নয়। ইসলামী শাসন কায়েমের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আর সেজন্য ইসলামী রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে হবে।’ প্রসঙ্গত ছয় এপ্রিল লংমার্চের পর পাঁচ মের মধ্যে তাদের তেরো দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য হুঙ্কার দিয়েছিল। এর মধ্যে দাবি না মানলে পাঁচ মের পর সরকার চালাবে তারা এবং সে সরকারের আংশিক রূপরেখা সম্পর্কেও খবরের কাগজের মাধ্যমে তারা দেশবাসীকে ধারণা দিয়েছিল। কাজেই শাহ শফীর বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা মোটেই প্রশ্নহীন নয়। হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মতোই একটি মৌলবাদী দল।

ইসলামের শান্তিপূর্ণ মানবিক ধারার চেয়ে মৌলবাদী ধারাটিই এখন পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ইসলামের জঙ্গীবাদী ইমেজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে নেপথ্যের খেলোয়াড়দের সুবিধা অনেক। তাদেরই অর্থ এবং অস্ত্রের জোরেই যে পৃথিবীময় মৌলবাদীদের এত দাপটÑ সচেতন মানুষ মাত্রই তা জানেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এই এক মহাঅস্ত্র তারা ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে। অথচ আমাদের এ অঞ্চলের চিত্র অন্য রকম হতে পারত। উনিশ শতকে নবাব আবদুল লতিফ মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মীয় রক্ষণশীলতার যে স্থায়ী রূপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার বিষবাষ্প থেকে আমরা আজও বোরোতে পারিনি। একুশ শতকে এসেও তাই হেফাজতে ইসলামের মতো দলকে মোকাবিলা করতে হয়।